10/06/2026
আমরা সবাই জীবনে কোনো না কোনো এক "ইঁদুর দৌড়ে" শামিল হয়ে আছি। দিন-রাত এক করে ছুটছি ক্যারিয়ার, ব্যাংক ব্যালেন্স আর স্ট্যাটাসের পেছনে। আমাদের এই অন্ধ দৌড় দেখে মনে হয়, আমরা বোধহয় এই দুনিয়াতেই চিরকাল থেকে যাব। কিন্তু কখনো কি ভেবে দেখেছি— দরকারের অতিরিক্ত জিনিসের পেছনে এই যে মরিয়া হয়ে ছুটা, আলটিমেটলি এটার লাভটা কী?
পবিত্র কুরআনের সূরা তাকাসুর আমাদের এই আধুনিক জীবনের সবচেয়ে বড় ক্রাইসিসটাকে একদম আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। এখানে আল্লাহ তায়ালা কোনো বস্তুর সমালোচনা করেননি, বরং মানুষের একটা মনস্তাত্ত্বিক রোগকে তুলে ধরেছেন, যার নাম 'তাকাসুর'— অর্থাৎ "অন্যের চেয়ে আমার বেশি লাগবে" নামক এক অসুস্থ প্রতিযোগিতা। একটা ভালো ফোন বা গাড়ি থাকার পরও অন্যেরটা দেখে নিজের ভেতর যে অস্থিরতা তৈরি হয়, এই মানসিকতাই আমাদের আসল সত্য থেকে অন্ধ করে রেখেছে।
সবচেয়ে চমৎকার এবং চোখ খুলে দেওয়ার মতো রিয়ালাইজেশনটা আসে যখন এই সূরায় কবরে যাওয়াকে বলা হয়েছে "ভিজিট" বা "জিয়ারত" করা (হাত্তা যুরতুমুল মাক্বাবির)। মানুষ যেমন এয়ারপোর্টের ট্রানজিট লাউঞ্জে বা রেলস্টেশনের ওয়েটিং রুমে ক্ষণিকের জন্য অপেক্ষা করে, কবরটাও আসলে ঠিক তেমন একটা ওয়েটিং রুম। এটা কোনো স্থায়ী ঠিকানা নয়।
অথচ আমাদের বোকামিটা দেখুন! আমরা এমন একটা ট্রানজিট লাউঞ্জের জন্য জীবনের সব শক্তি আর সময় ব্যয় করে আয়োজন করছি, যেখানে আমরা মাত্র কিছুদিনের জন্য থাকব। দুনিয়ার এই সাময়িক চাকচিক্য আমাদের আখেরাতের ফাইনাল এক্সামের কথাই ভুলিয়ে দিয়েছে। আমরা ভাবি আমাদের জীবনে অভাব অনেক; কিন্তু আসলে আমাদের বড় সমস্যা অভাব না, আমাদের সমস্যা হলো আমরা একটা ভুল ট্র্যাকে দৌড়াচ্ছি।
চট্টগ্রামের টিকিট কেটে ভুল করে সিলেটের এসি ট্রেনে উঠে বসলে যেমন গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না, ঠিক তেমনি পরকালকে ভুলে দুনিয়ার পেছনে অন্ধ হয়ে ছুটলে জীবনের শেষ স্টেশন (কবর)-এ পৌঁছানোর পর আমাদের সব অর্জনের ভ্যালু এক নিমেষে 'জিরো' হয়ে যাবে।
দুনিয়াতে কেউ কখনো পার্মানেন্টলি 'সেটেল' হতে পারে না, যতক্ষণ না সে কবরের ওই ট্রানজিট লাউঞ্জে গিয়ে পৌঁছায়। আসুন, এই অন্ধ প্রতিযোগিতা থেকে একটু থামি। নিজেকে জিজ্ঞেস করি— আমরা আসলে কোন গন্তব্যের দিকে ছুটছি?
#জীবনবোধ
#সূরা_তাকাসুর
#বাস্তবতা
#পরকালের_প্রস্তুতি
#ইসলামিক_ভাবনা
#মৃত্যু_স্মরণ
#ক্ষণস্থায়ী_দুনিয়া
#আত্মশুদ্ধি