Mufti Saidul Islam

Mufti Saidul Islam

চার পাশে সবাই দুনিয়া খুঁজে,
আপনি না হয় আখিরাত খুঁজলেন।

16/10/2025

"দ্বীন পুরোটাই চরিত্র। যে চরিত্রে আপনার থেকে এগিয়ে, সে দ্বীনদারিতায়ও আপনার থেকে এগিয়ে।"
- ইবনুল কাইয়িম (রাহিমাহুল্লাহ)
[মাদারিজুস সালিকীন: ২/২৯৪]

08/10/2025

পেশাদারি ক্রিকেট ও ইসলামী দৃষ্টিকোণ

ইসলাম সকল প্রকার খেলাধুলা ও বিনোদনকে এককভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেনি। বরং যেসব খেলাধুলা শরীর ও মনের উপকারে আসে এবং শক্তি বৃদ্ধি করে—ইসলাম সেগুলোর প্রতি উৎসাহ জাগিয়েছে। এমনকি কিছু খেলাধুলার প্রতি সরাসরি অনুমতিও দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ ﷺ।

সুনানে আবু দাউদে উক্ববাহ ইবনু ‘আমির রাযি. থেকে বর্ণিত—

“একটি তীরের কারণে আল্লাহ তাআলা তিন ব্যক্তিকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন: ১️. তীর প্রস্তুতকারীকে—যদি সে জিহাদের নিয়তে তা প্রস্তুত করে, ২️. তীর নিক্ষেপকারীকে, ৩. এবং যে ব্যক্তি তীর নিক্ষেপকারীর জন্য তা প্রস্তুত করে সরবরাহ করে।

তাই তোমরা তীরন্দাজী ও অশ্বারোহণ শিখো। তীরন্দাজী আমার নিকট অশ্বারোহণের চেয়েও প্রিয়।”

এরপর নবী ﷺ বলেন—“তিন প্রকার খেলা অনুমোদিত: ১️. নিজের ঘোড়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া,
২️. বৈধভাবে স্ত্রীর সাথে খেলা-স্ফূর্তি করা (পরিবারের সাথে মানসম্পন্ন সময় কাটানো), ৩️. তীর-ধনুকের অনুশীলন করা।

আর যে ব্যক্তি তীরন্দাজী শিখে পরে অনাগ্রহবশত তা ছেড়ে দেয়, সে আল্লাহর এক নেয়ামতের অবমূল্যায়ন করল।” (সূত্র: সুনান আত-তিরমিযী ২৭৭/১৭০৩, সুনান ইবনু মাজাহ ৬১৮/২৮১১, সুনান আবু দাউদ ২৫১৩)

উক্ত হাদীসে এই তিন প্রকার খেলাধুলাকে ‘লাহ্‌ও’ (অর্থাৎ অর্থহীন বা অনর্থক বিনোদন) থেকে পৃথক করা হয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিতে “লাহ্‌ও” হলো এমন কিছু, যার মধ্যে কোনো ধর্মীয় বা পার্থিব উপকারিতা নেই। অথচ এই তিন প্রকার খেলাধুলার প্রত্যেকটিই বিভিন্ন দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী।

খেলাধুলা সম্পর্কে ইসলামী আইনবিদদের নির্ধারিত মূলনীতি

ইসলামী ফিকহবিদগণ কুরআন-হাদীসের দলিলের আলোকে খেলাধুলার বিষয়ে কিছু সাধারণ নীতি নির্ধারণ করেছেন, যা আধুনিক যুগের খেলাধুলার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

১️. খেলাটি মূলগতভাবে বৈধ হতে হবে। এর মধ্যে কোনো হারাম বা শরীয়তবিরোধী বিষয় থাকা চলবে না।

২️. খেলাধুলার মধ্যে ধর্মীয় বা পার্থিব কোনো বাস্তব উপকারিতা থাকতে হবে। নিছক সময় কাটানো বা বিনোদনের উদ্দেশ্যে খেলা জায়েয নয়।

৩️. খেলাধুলার সাথে কোনো হারাম বিষয় সংযুক্ত থাকা চলবে না। যেমন—গান-বাজনা, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা, জুয়া, অশ্লীলতা ইত্যাদি।

৪️. খেলাধুলার প্রতি আসক্তি এমন পর্যায়ে যাবে না, যাতে ধর্মীয় কর্তব্য (নামায, মসজিদে গমন, ইবাদত ইত্যাদি) অবহেলিত হয়ে পড়ে।

সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা ‘তাকমিলায়ে ফতহুল মুলহিম’ এ বলা হয়েছে—“যে খেলাধুলার মধ্যে কোনো ধর্মীয় বা পার্থিব কল্যাণ নেই এবং নিছক বিনোদন উদ্দেশ্য—তা হারাম। আর যেসব খেলাধুলার মধ্যে বাস্তব কল্যাণ নিহিত আছে, কিন্তু কুরআন-হাদীসে তার নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায়, সেগুলোও হারাম। আর যেগুলোর মধ্যে নিষেধ নেই এবং উপকারিতা আছে, সেগুলো বৈধ। তবে যদি তাতে মানুষ ইবাদত ও দায়িত্ব থেকে গাফেল হয়ে পড়ে, তাহলে সেটিও হারামের আওতায় আসবে। আর যদি কল্যাণ ও প্রয়োজনের উদ্দেশ্যে হয়, তাহলে তা বৈধ; কখনো মুস্তাহাবও হতে পারে।” (তাকমিলায়ে ফতহুল মুলহিম ৪/৪৩৫)

🏏 পেশাদারি ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য দিকগুলো

উপরোক্ত নীতির আলোকে দেখা যায়—আধুনিক যুগের অধিকাংশ খেলাধুলাই ইসলামী দৃষ্টিতে সমস্যাযুক্ত, যেমনঃ

খেলোয়াড়দের পোশাকে সতর প্রকাশ পায় বা দেহের গঠন স্পষ্ট ফুটে ওঠে, জুয়া, বাজি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ জড়িত থাকে, নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হয়,
খেলাধুলার মৌসুমে মানুষ নামায-ইবাদত ও দায়িত্ব থেকে গাফেল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ক্রিকেটকে কেন্দ্র করে আজকাল সমাজে এক ধরণের বিনোদনমুখী সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, যেখানে যুব সমাজের সময় ও মনোযোগের প্রধান অংশ ব্যয় হচ্ছে খেলার পেছনে। অনেকেই ফরজ ইবাদত উপেক্ষা করে ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেলায় বা টিভির পর্দায় ডুবে থাকে।

নারীদেরও এখন এ বিনোদন সংস্কৃতিতে পুরুষদের সমান্তরালে যুক্ত করা হচ্ছে, মিডিয়া ও পুঁজিবাদী শক্তি তাদের নারীত্বকে বাজারজাত করছে। মনে হয় যেন মানবজাতির সৃষ্টি ও উদ্দেশ্যই শুধুমাত্র বিনোদন!

আল্লাহ তাআলা বলেন—“একদল মানুষ আছে যারা না বুঝেই আল্লাহর পথ থেকে বিভ্রান্ত করার জন্য অর্থহীন কথাবার্তায় লিপ্ত হয় এবং এগুলোকে ঠাট্টা-বিদ্রূপের বিষয় বানায়। তাদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।” (সূরা লুকমান, আয়াত ৬)

ইমাম হাসান আল-বাসরী রহ. এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন—“রাতের আড্ডা, গল্পগুজব, গান-বাজনা ও যে কোনো কিছু যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ ও ইবাদত থেকে উদাসীন করে—সবই ‘লাহ্‌ও আল-হাদীস’-এর অন্তর্ভুক্ত।” (রুহুল মাআনী ১১/৬৬)

💰 খেলাধুলাকে পেশা বানানোর বিধান

কেউ যদি খেলাধুলাকে উপার্জনের মাধ্যম বানায় এবং নিছক বিনোদনের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করে, তাহলে তা বৈধ নয়।

মাজমাউল আনহুর-এ বলা হয়েছে—“অবৈধ কাজের পারিশ্রমিক বৈধ নয়। যেমন—গান-বাজনা, পেশাদারি কান্নাকাটি বা নিছক বিনোদনমূলক খেলাধুলা। যদি বিনোদনের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয়, তা ফেরত দিতে হবে। তবে যুদ্ধ, কাফেলার সংকেত বা বিবাহের ঘোষণার মতো বৈধ কাজে যদি ঢাক বাজানো হয়, তার পারিশ্রমিক বৈধ।” (মাজমাউল আনহুর ২/৩৮৪)

সারকথা, ক্রিকেট বা অন্যান্য খেলাধুলায় যদি শরীয়তবিরোধী কোনো বিষয় না থাকে এবং খেলার উদ্দেশ্য হয় শরীরকে সুস্থ রাখা, ক্লান্তি দূর করা, দায়িত্ব পালনের ব্যাঘাত না ঘটানো—তাহলে সীমিত পর্যায়ে তা জায়েয।

কিন্তু পেশাদারি ক্রিকেট আজ নিছক শরীরচর্চা নয়—এটি জুয়া, বাণিজ্য, অপচয়, নারী-পুরুষের মেলামেশা ও ধর্মীয় উদাসীনতার মিশ্র এক বিনোদনশিল্পে পরিণত হয়েছে। তাই ইসলামী দৃষ্টিতে এর অনুমোদন নেই।

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
لست من دد ولا الدد مني

“আমি খেলাধুলার লোক নই, খেলাধুলা আমার আদর্শ নয়।”

এ বক্তব্য ব্যক্তিগত পর্যায়ের উপকারী খেলাধুলার বিপরীত নয়; বরং অর্থহীন, দায়িত্বহীন ভোগবাদী খেলাধুলার নিন্দা।

✍️ মূল: জামিয়া ইসলামিয়া বিন্নুরী টাউন, করাচি
🌐 অনুবাদ ও সম্পাদনা: আফফান বিন শরফুদ্দিন
📜 সংযোজন: মুফতী সাইফুদ্দিন গাজী হাফিযাহুল্লাহ

06/10/2025

বিতর নামাযের সালাম ফেরানোর পর নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনবার—
سبحان الملك القدوس পড়তেন।

সূত্র: শরহু মাআনিল আছার, সালাতুল বিতর অধ্যায়

গুরুত্বপূর্ণ আমল!বয়স্ক এক গ্রাম্য তালিবে ইলম হযরত থানভী রহ.—এর নিকট কুরআন কারীম ভুলে যাওয়ার অভিযোগ করলো। তখন হযরত তাকে এ...
11/09/2025

গুরুত্বপূর্ণ আমল!

বয়স্ক এক গ্রাম্য তালিবে ইলম হযরত থানভী রহ.—এর নিকট কুরআন কারীম ভুলে যাওয়ার অভিযোগ করলো। তখন হযরত তাকে একটি আমল শিখিয়ে দিলেন।

প্রতিদিন ফজরের পরে ৫০ বার يا عليم পড়ে বুকে ফুঁ দিলে ইনশাআল্লাহ ভুলে যাওয়া সমস্যা দূর হবে।

20/08/2025

জোহরের সময় বাইরে থাকাতে অন্য একটা মসজিদে নামাজ পড়েছি। ফেরার সময় ভাবলাম অফিসে না ঢুকে অফিসে পাশের মসজিদে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকবো।

তখন ঘড়িতে প্রায় সোয়া দুইটা। মসজিদে ঢোকার সময় দেখলাম একটা সাদা রংয়ের ল্যান্ড ক্রুজার V8 মডেলের একটা গাড়ি মসজিদের সামনে থামলো।

পঞ্চাশোর্ধ বেশ হ্যান্ডসাম এক ভদ্রলোককে দুই জন ধরে গাড়ি থেকে নামালো।

ভদ্রলোকের কোমড়ের দিকে ব্যান্ডেজ। সম্ভবত ডাক্তারের কাছ থেকে আসছেন।

যে দুই জন সহকারী ছিল তারা একজন বললো, স্যার আপনার সার্জারি অল্প কয়েকদিন আগে হয়েছে। ডাক্তার মাত্রই বলল, আরো রেস্টে থাকতে। নামাজটা বাসায় যেয়ে পড়লে হত না?

ভদ্রলোক খুব শীতল গলায় বললো, না হত না।

তোমাকে যতটুকু বলা হচ্ছে অতটুকু কর।

আমাকে মসজিদ পর্যন্ত দিয়ে আসো।

একটা ভালো চেয়ার বাছাই কর, যাতে পড়ে না যাই।

দুই জন এসিস্ট্যান্ট মিলে ধরে ধরে তাকে মসজিদে ঢুকালো।

একটা কোনায় নিয়ে চেয়ার সেট করে দিল।

আমি তার থেকে একটু দূরেই টান টান হয়ে শুয়ে ভদ্রলোকের দিকে তাকিয়ে থাকলাম।

ভদ্রলোক বসে নামাজ শুরু করলেন।

খুব ঠাণ্ডা ধীরস্থিরভাবে নামাজ পড়ছেন।

যেন কোন তাড়া নেই, কোন অস্থিরতা নেই, চারপাশে কি হচ্ছে, না হচ্ছে তার কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

উনার চোখের দিকে তাকালাম। একদম সিজদার দিকে তাকিয়ে আছে। দৃষ্টিতে কোন নড়চড় নেই। সাধারণত এত ধীরস্থিরভাবে আমি কাউকে নামাজ পড়তে দেখি না।

উনার দিকে কিছুক্ষন এভাবে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমার চোখ লেগে আসলো। সম্ভবত ঘুমায় গেছিলাম। ঘুম ভাংগলো হেচকির শব্দ শুনে।

দেখি ভদ্রলোক হাত তুলে অঝোরে কাঁদছেন। কিছু একটা বিড় বিড় করছেন।

একটু কাছে যেয়ে শোনার চেস্টা করলাম উনি কি বলছেন।

খুব ভালো করে খেয়াল করার পর শুনলাম ভদ্রলোক বলতেছেন, ইয়া আল্লাহ তুমি আমার উপর এতটা অসন্তুষ্ট হয়ে গেলা যে তোমাকে প্রাণভরে সিজদা করার অধিকার কেড়ে নিলা?

মালিক, আমাকে কি অসুখ দিলা যে, আমি মসজিদে আসতে পারি না, মাটিতে মাথা ঠেকায়ে প্রাণ ভরে তোমাকে সিজদা দিতে পারি না।

এই চেয়ারের নামাজে আমার প্রাণ ভরে না মালিক। মালিক তুমি আমাকে এতটা সুস্থ করে দাও যাতে করে, আমি হেঁটেই মসজিদে আসতে পারি, প্রানটা ভরে যেন তোমার দাসত্ব করতে পারি।

তুমি আমার উপর কোন কারনে অখুশী থাকলে আমাকে মাফ করে দাও কিন্তু তারপরও তোমার ঘরে আসার, তোমাকে সিজদা করার অধিকার কেড়ে নিও না।

উনি কাঁদছেন আর কথাগুলো বলেই যাচ্ছেন।

উনার দুইজন এসিস্ট্যান্ট টের পেয়ে তাড়াতাড়ি উনার কাছে ছুটে আসলেন।

বললেন স্যার, আপনাকে স্ট্রেস নিতে নিষেধ করা হয়েছে। স্যার‍, কাইন্ডলি চলেন।

আসতে আসতে ধরে উনাকে নিয়ে গেল।

আমি ভাবলাম আমার নিজের ইমানের কথা। আমি কি এই ভদ্রলোকের মত এই প্যাশন নিয়ে, এত দরদ নিয়ে রবের ইবাদত করি, এত ভালোবাসা নিয়ে সিজদা দেই? আমার দোয়াতে কি এত মায়া থাকে?

যারা সিজদার সুযোগ থেকে বঞ্চিত তারা নিজেদের নিয়ে ভাবি।

আমার রব কি আমার প্রতি এতটাই অসন্তুষ্ট যে, আমার পা মসজিদ পর্যন্ত যাচ্ছে না, আমার মাথা রবের সমীপে অবনত হচ্ছে না?

যদি আমার মাথা সিজদা পর্যন্ত না যেয়ে থাকে তাহলে নিশ্চিতভাবেই এটা আমার জন্য চিন্তার বিষয়।

ভাইয়েরা/বোনেরা সময় থাকতে থাকতে রবের কাছে ফিরে আসি।

সে সময় আসার আগে সতর্ক হয়ে যাই যে সময়ে চাইলেও সারা দুনিয়ার সব কিছুর বিনিময়ে একটা সিজদা দেয়া যাবে না।

~ সাদিব!

11/08/2025

চারটি বাক্য চার বিষয়ে বান্দার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে:
১. ما شاء اللّه لا حول ولا قوّة إلا باللّه
কুদৃষ্টি থেকে বাঁচায়।
২. حسبنا اللّه ونعم الوكيل
শয়তানের কূটচাল ধ্বংস করে।
৩. وأفوّض أمري إلى اللّه
শত্রুর ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে।
৪. لا إله إلا أنت سبحانك إني كنت من الظالمين দুঃশ্চিন্তা নির্মূল করে।
- তাফসিরে কুরতুবি ১০/৪০৭

05/08/2025

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, গুনাহ বা পাপকাজ ত্যাগ করার উপকারীতা:
(১) সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
(২) মানুষের অন্তরে মর্যাদা লাভ হয়।
(৩) পূর্বে লোকেরা ক্ষতি করে থাকলে লোকদের কাছ থেকে সাহায্য এবং নিরাপত্তা।
(৪) লোকেরা যদি গীবত করে থাকে, তাহলে তার সম্মান রক্ষা পায়।
(৫) আল্লাহ তার দুয়া কবুল করেন।
(৬) আল্লাহ তাআ’লার নৈকট্য।
(৭) ফেরেশতাদের নৈকট্য।
(৮) মানুষ ও জিনদের মধ্য থেকে যারা শয়তান তারা দূরে সরে যায়।
(৯) লোকেরা তাকে সাহায্য করার জন্য, তার চাহিদা পূরণ করার জন্যে এবং তার সাহচর্য ও ভালোবাসা পাওয়ার জন্য প্রতিযোগীতা করবে।
(১০) সে মৃত্যুকে ভয় করবেনা, বরং আল্লাহ তাআ’লার সাথে সাক্ষাত লাভের জন্য ও তাঁর কাছ থেকে পুরষ্কার পাওয়ার জন্যে আগ্রহী হবে।
(১১) এই দুনিয়া তার দৃষ্টিতে তুচ্ছ মনে হবে এবং পরকালকে অনেক মূল্যবান মনে করবে।
(১২) পরকালে অনেক বড় রাজত্ব ও মর্যাদা পাওয়ার জন্যে চেষ্টা করবে।
(১৩) আল্লাহর আনুগত্যের স্বাদ ফিরে পাবে।
(১৪) ঈমানের মিষ্টতা অনুভব করবে।
(১৫) আরশ বহনকারী ফেরেশতা ও আরশের চারপাশে আল্লাহর প্রশংসাকারী ফেরেশতাদের দুয়া লাভ করবে।
(১৬) কেরামান কাতেবীন দুইজন ফেরেশতা তার উপরে খুশি থাকবে এবং তারা তার জন্যে দুয়া করবে।
(১৭) জ্ঞান, বুদ্ধি ও ঈমান বৃদ্ধি পাবে।
(১৮) আল্লাহর ভালোবাসা অর্জিত হবে।
(১৯) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত কামনা করবে।
(২০) তওবাহ করে পবিত্র জীবন-যাপনের উপরে সন্তুষ্ট থাকবে।
(২১) আল্লাহ তাকে এমন সুখ ও শান্তি দান করবেন, যা সে যখন পাপ কাজে লিপ্ত ছিলো তা থেকে বঞ্চিত ছিলো।
[আল-ফাওয়ায়েদ, পৃষ্ঠা: ২৫৫]

04/08/2025

ইমাম আবূ হানীফা রহঃ মৃত্যুর আগে তার সন্তান হযরত হাম্মাদ রহঃ কে যে বিশটি নসীহত করেছিলেন।

এর মাঝে ১৯ নং নসীহত ছিল পাঁচ লাখ হাদীস থেকে নির্বাচিত করা পাঁচটি হাদীসের উপর আমলের জন্য সন্তানকে উদ্ধুদ্ধ করা।

সেই পাঁচটি হাদীস হলো:


إنَّما الأَعمالُ بالنِّيَّات
আমলের সওয়াব নিয়তের উপর নির্ভরশীল। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১]


مِنْ حُسْنِ إِسْلاَمِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لاَ يَعْنِيهِ
আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ এক জনের ইসলামী সুন্দর গুনের অন্যতম হল অনর্থক বিষয় পরিত্যাগ করা। [সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৩১৭, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৯৭৬]


لا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يُحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ
তোমাদের কেউ প্রকৃত মু‘মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১৩, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৫১৫]


الْحَلاَلُ بَيِّنٌ وَالْحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا مُشَبَّهَاتٌ لاَ يَعْلَمُهَا كَثِيرٌ مِنَ النَّاسِ، فَمَنِ اتَّقَى الْمُشَبَّهَاتِ اسْتَبْرَأَ لِدِيِنِهِ وَعِرْضِهِ، وَمَنْ وَقَعَ فِي الشُّبُهَاتِ كَرَاعٍ يَرْعَى حَوْلَ الْحِمَى، يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ‏.‏ أَلاَ وَإِنَّ لِكُلِّ مَلِكٍ حِمًى، أَلاَ إِنَّ حِمَى اللَّهِ فِي أَرْضِهِ مَحَارِمُهُ، أَلاَ وَإِنَّ فِي الْجَسَدِ مُضْغَةً إِذَا صَلَحَتْ صَلَحَ الْجَسَدُ كُلُّهُ، وَإِذَا فَسَدَتْ فَسَدَ الْجَسَدُ كُلُّهُ‏.‏ أَلاَ وَهِيَ الْقَلْبُ
হযরত নু’মান ইবনু বশীর রাঃ হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, ‘হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট। আর এ দু’য়ের মাঝে রয়েছে বহু সন্দেহজনক বিষয়- যা অনেকেই জানে না। যে ব্যক্তি সেই সন্দেহজনক বিষয়সমূহ হতে বেঁচে থাকবে, সে তার দ্বীন ও মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে। আর যে সন্দেহজনক বিষয়সমূহে লিপ্ত হয়ে পড়ে, তার উদাহরণ সে রাখালের ন্যায়, যে তার পশু বাদশাহ্ সংরক্ষিত চারণভূমির আশেপাশে চরায়, অচিরেই সেগুলোর সেখানে ঢুকে পড়ার আশংকা রয়েছে। জেনে রাখ যে, প্রত্যেক বাদশাহরই একটি সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। আরো জেনে রাখ যে, আল্লাহর যমীনে তাঁর সংরক্ষিত এলাকা হলো তাঁর নিষিদ্ধ কাজসমূহ। জেনে রাখ, শরীরের মধ্যে একটি গোশতের টুকরো আছে, তা যখন ঠিক হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন ঠিক হয়ে যায়। আর তা যখন খারাপ হয়ে যায়, গোটা শরীরই তখন খারাপ হয়ে যায়। জেনে রাখ, সে গোশতের টুকরোটি হল অন্তর। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-৫২, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৫৯৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৯৮৪]


عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ الْمُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ الْمُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ وَالْمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللهُ عَنْهُ
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সে-ই প্রকৃত মুসলিম, যার জিহবা ও হাত হতে সকল মুসলিম নিরাপদ এবং সে-ই প্রকৃত মুহাজির, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে ত্যাগ করে। [সহীহ বুখারী, হাদীস নং-১০, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪০]

দ্রষ্টব্য:
জামিউল উসূল ফীল আউলিয়া, শায়েখ জিয়াউদ্দীন আহমাদ বিন মুস্তাফাকৃত, পৃষ্ঠা-৩১২-৩১৩।
ওসিয়্যাতুল ইমাম আবী হানীফা লিইবনিহী হাম্মাদ-৭-৮।
বুস্তানুল মুহাদ্দিসীন, শাহ আব্দুল আজীজ দেহলবী রহঃ কৃত, পৃষ্ঠা-৮০-৮১।

15/07/2025

হাদিসে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদা জনৈক সাহাবীর শিয়রে মালাকুল মউতকে দেখে বললেন যে, আমার সাহাবীর সাথে সহজ ও কোমল ব্যবহার কর। মালাকুল মউত উত্তরে বললেন, আপনি নিশ্চিত থাকুন -আমি প্রত্যেক মুমিনের সাথে নরম ব্যবহার করে থাকি।

26/06/2025

একটি পরীক্ষীত #আমল

বাংলাদেশের আকাশে মুহাররম মাসের চাঁদ দেখা গিয়েছে৷

শুরু হলো ১৪৪৭ হিজরী সনের প্রথম মাস, তাৎপর্যপূর্ণ মাস, আল্লাহর মাস, মুহাররম মাস৷
পহেলা মুহাররম তথা আজকের দিনের বিশেষ একটি পরীক্ষিত আমল হলো👇
হযরত মুফতি শফি সাহেব রহ. জাওয়াহিরুল ফিকহ কিতাবের ২য় খণ্ডের ১৮৭ নং পৃষ্ঠায় লিখেছেন, যদি কোন ব্যক্তি মুহাররমের ১ তারিখে (আরবী নববর্ষের প্রথম দিনে) ১১৩ বার পড়ে
"بسم الله الرحمن الرحیم"
কাগজে লিখে নিজের কাছে রাখে আল্লাহ তাআলা তাকে সর্বপ্রকারের বালা-মুসিবত থেকে হিফাযত করবেন। ইনশাআল্লাহ!
(জাওয়াহিরুল ফিকহ, ২/১৮৭)

বিঃ দ্রঃ এই আমলটি আগামীকাল শুক্রবার সূর্য ডুবার আগেই করতে হবে৷
আর এটি কোনো সুন্নাত, মুস্তাহাব বা ওয়াজিব, ফরজ আমল নয় যে, করাটা জরুরী৷
জাস্ট বুযুর্গদের একটি মুজাররাব তথা পরীক্ষিত আমল, যার মন চায় সে করবে৷

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমলটি করার তাওফীক দান করুন, আমীন৷

25/06/2025

নতুন মাস নতুন বছরের একটি দুআ
ইমাম আবুল কাছেম বাগাভী রাহ. (৩১৭ হি.) ‘মুজামুস সাহাবা’ কিতাবে সহীহ সনদে নতুন মাস ও নতুন বছরের শুরুতে পড়ার একটি দুআ উল্লেখ করেছেন। সাহাবী আবদুল্লাহ বিন হিশাম রাযি. বলেন-

كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يتعلمون هذا الدعاء كما يتعلمون القرآن إذا دخل الشهر أو السنة

অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম নতুন মাস বা নতুন বছর শুরুর এ দুআটি তেমন গুরুত্ব দিয়ে শিখতেন, যেভাবে কুরআনুল কারীম শিখতেন। দুআটি হল-

اللّهُمَّ أَدْخِلْهُ عَلَيْنَا بِالأَمْنِ وَالِإيْمَانِ وَالسَّلَامَةِ وَالإِسْلَامِ وَجِوَارٍ مِنَ الشَّيطَانِ وَرِضوَانٍ مِنَ الرَّحْمنِ.

(قال الحافظ ابن حجر في الإصابة : وهذا موقوف على شرط الصحيح.)

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের মাঝে এ মাস/বছরের আগমন ঘটান- শান্তি ও নিরাপত্তা এবং ঈমান ও ইসলামের (উপর অবিচলতার) সাথে; শয়তান থেকে সুরক্ষা ও দয়াময় আল্লাহ্র সন্তুষ্টির সাথে। -মুজামুস সাহাবাহ খ. ৩, পৃ. ৫৪৩, বর্ণনা ১৫৩৯, মাকতাবা দারুল বায়ান কুয়েত; আলইসাবাহ ফী তাময়ীযিস সাহাবাহ, ইবনে হাজার আসকালানী, খ. ৪, পৃ. ২৫৬, দারুল জীল, বৈরুত, প্রথম সংস্করণ ১৪১২ হি.

ইসলামী নতুন বছর মুহাররমুল হারামের হিলাল তথা নতুন চাঁদ-এর মাধ্যমে শুরু হয়। হাদীস শরীফে নতুন চাঁদ দেখার একাধিক দুআ বর্ণিত আছে, যা আমাদের অনেকেরই জানা। মুহাররম মাসের হিলাল-নতুন চাঁদ দেখে যে কোনো দুআ পড়া হলেই সেটা মাস শুরুর দুআর সাথে সাথে নতুন বছরের দুআও হবে। কিন্তু আলোচ্য দুআটির বৈশিষ্ট্য হল, এর ব্যাপারে বর্ণনাতে স্পষ্টভাবে এসেছে- এটা নতুন বছরের দুআ। বর্ণনা থেকে এ-ও বুঝা যায় যে, সাহাবায়ে কেরাম এ দুআটির প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে আমল করার তাওফীক দান করুন-আমীন।
-- মাওলানা সায়ীদুল হক
[ মসিক আলকাউসার || মুহাররম ১৪৪২ || সেপ্টেম্বর ২০২০ ]
#মুহাররম_ও_আশুরা_মাসিক_আলকাউসার

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mufti Saidul Islam posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Mufti Saidul Islam :

Share