19/08/2024
©ছোট একটি রোমান্টিক গল্পঃ
রাতের আকাশে চাঁদের আলো মিটি মিটি করে জ্বলছে। রিয়া জানালার পাশে বসে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে। তার মনে অনেক কথা। সেদিনের কথা মনে পড়ছে, যেদিন সে আর আদিত্য প্রথমবার দেখা করেছিল।
একটি বর্ষার দিন ছিল সেটি। রিয়া কলেজ থেকে ফিরছিল। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। তার কাছে কোনো ছাতা ছিল না। রাস্তার পাশে একটা বড় গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সে বৃষ্টির থামার অপেক্ষা করছিল। তখনই আদিত্য আসে, তার সাথে ছাতা ছিল। সে রিয়াকে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচাতে তার ছাতার নিচে আসার প্রস্তাব দেয়।
রিয়া একটু সংকোচ বোধ করলেও আদিত্যর মিষ্টি হাসি দেখে সে রাজি হয়ে যায়। তারা দুজনেই একই পথে হাঁটতে থাকে। কথা বলতে বলতে তারা একে অপরকে চিনতে শুরু করে। আদিত্য ছিল খুবই হাসিখুশি ও বন্ধুসুলভ। রিয়া অনুভব করল যে, আদিত্যর সাথে কথা বলতে তার খুব ভালো লাগছে।
এরপর থেকে তারা প্রায়ই দেখা করতে লাগল। রিয়া ও আদিত্যর বন্ধুত্ব ধীরে ধীরে গভীর হতে লাগল। সময়ের সাথে সাথে সেই বন্ধুত্ব একসময় প্রেমে পরিণত হল।
আজকের রাতটা তাদের বিশেষ। আজই আদিত্য রিয়াকে বলবে, "রিয়া, তোমার সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্ত আমার জীবনের সেরা মুহূর্ত। আমি চাই, তুমি আমার জীবনে চিরকাল থাকো। তুমি কি আমার জীবনসঙ্গী হতে রাজি হবে?"
রিয়া জানালার পাশে বসে এসব ভাবছে, আর তার হৃদয় ধকধক করছে। সে জানে না আদিত্য আজ তাকে কী বলবে, তবে তার মন বলে, কিছু একটা বিশেষ ঘটতে চলেছে।
অবশেষে, দরজার ঘণ্টা বেজে ওঠে। রিয়ার হৃদয় যেন আরও দ্রুত বেঁধে যায়। সে দরজা খুলে দেখে, আদিত্য দাঁড়িয়ে আছে, হাতে একটি গোলাপ। আদিত্যর মুখে সেই চিরপরিচিত হাসি।
রিয়া কিছু বলার আগেই আদিত্য বলে ওঠে, "রিয়া, আজকের এই চাঁদনী রাতে আমি তোমাকে বলতে চাই, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমি কি আমার সাথে সারাজীবন কাটাতে চাও?"
রিয়ার চোখে পানি চলে আসে। সে কিছু না বলেই মাথা হেঁট করে আদিত্যর হাতে থাকা গোলাপটা নেয়। তার মুখে এক টুকরো হাসি ফুটে ওঠে, যা আদিত্যর জন্য যথেষ্ট উত্তর ছিল।