27/05/2026
┈┉━✸✤ একাদশী বার্তা ✤✸━┉┈
🔹 তারিখ: ২৭ মে ২০২৬ ইং (বুধবার)🔹
(বাংলা ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩)
🌺-🌼-🦚 পদ্মিনী একাদশীর মাহাত্ম্য 🦚-🌼-🌺
পদ্মিনী একাদশী, যা পুরুষোত্তমী একাদশী বা মলমাসী একাদশী নামেও পরিচিত। প্রতি তিন বছর পর পর আসা অধিক মাসে (মলমাস বা পুরুষোত্তম মাস) এই একাদশী পালিত হয়, যা এর মাহাত্ম্যকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
❏ পদ্মিনী একাদশীর গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য:
পদ্মিনী একাদশী অন্য সকল একাদশী থেকে অধিক ফলদায়ী বলে মনে করা হয়। যেহেতু এটি ভগবান বিষ্ণুর প্রিয় পুরুষোত্তম মাসে অনুষ্ঠিত হয়, তাই এর মাহাত্ম্যও বিশেষ।
সর্বপাপ বিনাশ: এই ব্রত নিষ্ঠার সাথে পালন করলে সকল প্রকার পাপ থেকে মুক্তি লাভ করা যায়।
মনস্কামনা পূরণ: পদ্মিনী একাদশী ব্রত পালনকারীর সকল মনস্কামনা, বিশেষ করে পুত্র লাভের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয় বলে শাস্ত্রে বর্ণিত আছে।
যজ্ঞ ও তপস্যার সমান ফল: শাস্ত্র মতে, এই একটি ব্রত পালন করলে সকল যজ্ঞ, তপস্যা এবং দানের সমান পুণ্যফল লাভ করা যায়।
বিষ্ণুর আশীর্বাদ ও বৈকুণ্ঠ প্রাপ্তি: এই ব্রত পালনকারী ভগবান বিষ্ণুর বিশেষ কৃপা লাভ করেন এবং মৃত্যুর পর বৈকুণ্ঠ ধামে গমন করেন।
পিতৃপুরুষের মুক্তি: এই ব্রত পালনের ফলে ব্রতকারীর পিতৃপুরুষরাও মোক্ষ লাভ করে থাকেন।
❏ পদ্মিনী একাদশী ব্রত কথা:
ত্রেতা যুগে মহিষ্মতী পুরীর রাজা কৃতবীর্য নিঃসন্তান ছিলেন। তাঁর হাজার স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তিনি পুত্রসুখ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সন্তান লাভের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে, তিনি তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী পদ্মিনীকে নিয়ে গন্ধমাদন পর্বতে কঠোর তপস্যা শুরু করেন। হাজার হাজার বছর তপস্যার পরেও যখন ফল মিলল না, তখন রাণী পদ্মিনী দেবী অনসূয়ার শরণাপন্ন হন।
দেবী অনসূয়া তাঁকে প্রতি বত্রিশ মাস অন্তর আসা পুরুষোত্তম মাসের শুক্লপক্ষের পদ্মিনী একাদশী ব্রত পালনের কথা বলেন। রাণীর শ্রদ্ধাপূর্ণ ব্রত পালনে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান বিষ্ণু গরুড়ে আরোহণ করে তাঁর সামনে উপস্থিত হন এবং বর চাইতে বলেন। রাণী পদ্মিনী নিজের জন্য কিছু না চেয়ে তাঁর স্বামীর জন্য এমন এক পুত্র প্রার্থনা করেন যিনি সর্বগুণসম্পন্ন এবং ত্রিভুবনে সম্মানীয় হবেন।
ভগবানের আশীর্বাদে তাঁদের কার্তবীর্যার্জুন নামে এক পুত্র জন্মগ্রহণ করেন, যিনি ছিলেন অত্যন্ত বলশালী এবং এই কার্তবীর্যই একসময় লঙ্কাপতি রাবণকে পরাজিত ও বন্দী করেছিলেন।
ভগবানের স্তব করে রাণী বললেন-হে ভগবান! আমার স্বামীকে আপনি বরদান করুন। ভগবান তখন রাজার কাছে এসে বললেন-হে রাজেন্দ্র! আপনার অভিলষিত বর প্রার্থনা করুন। মহানন্দে রাজা বললেন-হে জগৎপতি, মধুসূদন! দেবতা, মানুষ, নাগ, দৈত্য, রাক্ষস আদি কেউ তাকে পরাজিত করতে পারবে না, এমন পুত্র আমি প্রার্থনা করি। রাজার প্রার্থনা অনুসারে বরদান করে ভগবান অন্তর্হিত হলেন। রাজা পত্নীসহ নগরে ফিরে এলেন। যথাসময়ে রাণী পদ্মিনীর গর্ভে মহাবলশালী এক পুত্রের জন্ম হয়। মহারাজ কৃতবীর্য পুত্রের নাম রাখেন কার্তবীর্য। ত্রিলোকে তার সমান কোন বীর ছিল না। তাই দশানন রাবণ যুদ্ধে তার কাছে পরাজিত হয়।
শ্রীকৃষ্ণ বললেন-হে মহারাজ! এই ব্রত যিনি পালন করবেন, তিনি ভগবান শ্রীহরির শ্রীপাদপদ্মে অহৈতুকী ভক্তি লাভ করবেন।
শ্রীকৃষ্ণের উপদেশে ধর্মরাজ সপরিবারে এই একাদশী ব্রত পালন করেন। যিনি এই ব্রত মাহাত্ম্য পাঠ ও শ্রবণ করেন তিনি বহু পুণ্য লাভ করেন।
━─✤পারন✤─━
🇧🇩 বাংলাদেশ সময় - সকাল ০৫:১১ থেকে ০৮:২৯ মিঃ মধ্যে।
🇮🇳 ভারত সময় - সকাল ০৪:৫০ থেকে ০৭:৫৯ মিঃ মধ্যে।
•─⊱✦পারণ মন্ত্র✦⊰─•
"একাদশ্যাং নিরাহারো ব্রতেনানেন কেশব।
প্রসীদ সুমুখ নাথ ঙ্গানদৃষ্টিপ্রদো ভব"।।
✤-অর্থ:
হে কেশব, আমি একাদশীতে নিরাহার থেকে এই ব্রত পালন করেছি। হে প্রভু, আমার প্রতি প্রসন্ন হও এবং আমাকে জ্ঞান ও দৃষ্টি দান করো।
❏ একাদশী তিথির পরদিন উপবাস ব্রত ভাঙার পর অর্থাৎ, উপবাসের পরদিন সকালে যে নির্দিষ্ট সময় দেওয়া থাকে, সেই সময়ের মধ্যে পঞ্চ রবিশস্য ভগবানকে ভোগ নিবেদন করে একাদশীর পারণ মন্ত্র তিনবার ভক্তিভরে পাঠ করতে হয়। এরপর প্রসাদ গ্রহণ করে পারণ করা একান্ত ভাবে দরকার, নতুবা
একাদশীর পূর্ণ ফল লাভ হবে না। আর অবশ্যই একাদশীর আগের দিন ও পরের দিন নিরামিষ
প্রসাদ গ্রহণ করতে হবে।
"হরে"কৃষ্ণ"হরে"কৃষ্ণ"
"কৃষ্ণ"কৃষ্ণ"হরে"হরে।"
"হরে"রাম"হরে"রাম"
"রাম"রাম"হরে"হরে।।
আপনারা নিজে একাদশী ব্রত পালন করুন 🙏 এবং অন্যকে ও পালন করতে উৎসাহিত করুন 🙏🙏 হরিবোল