24/09/2026
সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে। নতুন দামে ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা।
সরকারের যুক্তি—আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে এবং দেশের তুলনামূলক কম দামের কারণে সীমান্তপথে তেল পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই যুক্তিগুলোকে একেবারে অস্বীকার করা যায় না। Reuters-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্চ থেকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি তেলের দাম ও freight cost বেড়ে যাওয়ার কথা সরকার জানিয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের লোকসান প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা হয়েছে।
The Daily Star-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের আগে ব্রেন্ট crude-এর দাম যেখানে প্রায় ৭২ ডলারের কাছাকাছি ছিল, পরে তা ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটের প্রভাব যে ছিল, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
কিন্তু একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিদিন তেলের দাম একভাবে বাড়েনি। Prothom Alo-র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ সেপ্টেম্বরের ১০৯ ডলার থেকে নভেম্বর futures-এর দাম এক পর্যায়ে ৯৮ ডলারে নেমে আসে। আবার Reuters-এর ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেদিন ব্রেন্টের দাম ০.৯ শতাংশ কমে ১০২.১৬ ডলারে নেমেছিল—যদিও এর আগের সেশনে দাম ৪ শতাংশ বেড়েছিল।
অর্থাৎ বাস্তবতা হলো, বিশ্ববাজারে কখনো দাম বেড়েছে, কখনো কমেছে। বাজার অস্থির ছিল। তাই শুধু “আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে”—এই একটি বাক্য দিয়ে দেশের মানুষের ওপর লিটারে ২০ টাকা বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেওয়া যথেষ্ট ব্যাখ্যা হতে পারে না।
জনগণের জানার অধিকার আছে—এই মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে আন্তর্জাতিক তেলের দাম কতটা প্রভাব ফেলেছে? Freight cost কতটা বেড়েছে? ডলারের বিনিময় হার কতটা দায়ী? কর ও শুল্কের অংশ কত? পুরোনো মজুতের ক্রয়মূল্য কী ছিল? বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের লোকসানের হিসাব কীভাবে করা হয়েছে?
সরকার যদি বলে, প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে ২০৫ টাকা খরচ হয় এবং দাম বাড়ানোর পরও লোকসান থাকে, তাহলে সেই হিসাবের পূর্ণ breakdown জনগণের সামনে প্রকাশ করা হোক। আমদানি মূল্য, জাহাজভাড়া, বীমা, কর, শুল্ক, ডলারের মূল্য, মজুত ব্যবস্থাপনা ও ভর্তুকি—সবকিছুর হিসাব প্রকাশ করা হোক।
কারণ জ্বালানি তেলের দাম শুধু পাম্পে গিয়ে থেমে থাকে না। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাসভাড়া, পণ্য পরিবহন, কৃষি উৎপাদন, ব্যবসার খরচ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনে শুধু ২০ টাকার চাপ নয়; এটি ধীরে ধীরে পুরো বাজারে মূল্যস্ফীতির নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।
আমরা অন্ধভাবে মূল্যবৃদ্ধির বিরোধিতা করছি না। আন্তর্জাতিক বাজারে দীর্ঘমেয়াদি মূল্যবৃদ্ধি হলে তার বাস্তব প্রভাব দেশের বাজারে পড়তেই পারে। কিন্তু একই সঙ্গে জনগণের ওপর চাপানো প্রতিটি টাকার হিসাবও জনগণের জানার অধিকার।
দাম বাড়ানোর যুক্তি যদি সত্যিই শক্ত হয়, তাহলে সেই হিসাব জনগণের সামনে প্রকাশ করতে আপত্তি কোথায়?
দাম বাড়ানো যদি যুক্তিসঙ্গত হয়, হিসাব প্রকাশ করুন।
আর যদি হিসাব প্রকাশ না করা হয়, তাহলে জনগণের ওপর বাড়তি বোঝা চাপানোর নৈতিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।
— Tousif Arafat ✒️
Sources —
1. Reuters — Bangladesh raises fuel prices by up to 17% amid global oil-price surge
2. The Daily Star — Fuel prices up Tk 20 across the board
3. Prothom Alo — Bangladesh fuel-price report
4. Reuters — Oil prices edge lower amid diplomatic hopes
5. IEA — Oil Market Report, September 2026
#জ্বালানিতেলেরদাম #তেলেরদাম #জনগণেরহিসাবচাই #স্বচ্ছতাচাই #জ্বালানিমূল্য #বাংলাদেশ #মূল্যস্ফীতি #জনস্বার্থ