23/06/2026
# ওহে বালিকা
# written by AMK Meherin
# পর্ব -০১
ভোরের কুয়াশা তখনো পুরোপুরি কাটেনি। দুই পাশে ঘন সবুজে ঘেরা সরু রাস্তা যেন এক রহস্যময় সুরঙ্গের মতো দূরে মিলিয়ে গেছে। ঘড়ির কাঁটা তখন ভোর ৬য় টা ছুঁই ছুঁই। চারদিক নিস্তব্ধ পাখিরা ও যেন আজ একটু দেরিতে জাগবে বলে ঠিক করেছে। এমন কনকনে ঠান্ডায় যেন সব জমে যাবে, এমন আবহাওয়া । ঘন কুয়াশায় ডাকা সরু রাস্তার দুই পাশে সারি সারি সবুজ গাছপালা গুলো যেন নীরব প্রহরী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
ঠিক সেই নীরবতাকে ভেদ করে ভেসে এলো ইঞ্জিনের গর্জন। একটি কালো Audi car অস্বাভাবিক দ্রুতগতিতে ছুটে চলেছে ফাঁকা রাস্তায়।
গাড়ির ভেতরে থাকা যুবকটির চোখ স্থির, মায়াবী কিন্তু তীক্ষ্ণ।শরীরের পরিহিত কালো রঙের শার্ট যা ফর্সা শরীরে ভালোভাবে মানিয়েছে । মুখে কালো মাস্ক । চোখে মুখে তার চাপা উত্তেজনা আর অস্বস্তি। ডিসেম্বর মাস বাইরে শীতের কনকনে ঠান্ডা, অথচ তার কপালে ঘাম চিকচিক করছে ।
সে বিরক্ত হয়ে এয়ার কন্ডিশনের তাপমাত্রা আরো কমিয়ে দিল। তবুও শরীরের ভেতরের উত্তাপ যেন কমছে না। তার মুঠো শক্ত হয়ে আছে স্টিয়ারিংয়ে। দাঁত চেপে ধরে যেন নিজের ভেতরে কিছু একটা দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
সে দ্রুত পৌঁছাতে চাই গন্তব্যে। খুব দ্রুত।
হঠাৎ কুয়াশার মত গাড়ির সামনে কিছু একটা যেন চলে আসলো!
সেকেন্ড এর মধ্যে গর্জন করে উঠলো গাড়ির কর্কশ ব্র্যাকের শব্দ।
গাড়ি হঠাৎ থেমে গেল টায়ারের ঘর্ষণে। কুয়াশার ভেতর ধোঁয়ার মতো কিছু উড়ে উঠল।
যুবকটির বুক স্টিয়ারিং এর সাথে বেজে গেল খানিকটা। মাথা তুলে সামনের দিকে দৃষ্টি স্থির করলো। চোখের দৃষ্টি মুহুর্তে যেন স্থির হয়ে গেল।
রাস্তার মাঝখানে ডার্ক লাইট পারপেল রংয়ের গোল জামা পড়া এক বালিকা মেয়ে, বয়স আর কতই বা হবে ১৪-১৫ হবে হইতো । কাঁধে তার স্কুল ব্যাগ, লম্বা ঘন কালো চুল বাতাসে এলোমেলো হয়ে পিঠে পড়ে আছে । নিচে ঝুকে থাকার কারণে রাস্তায় ও খানিকটা বেজে গেছে লম্বা হওয়ার দরুন।
যেন সে এই পৃথিবীর কোন নিয়মই মানে না। সে ভয় পাইনি। আবার পিছিয়েও যায়নি। বরং পুরো মনোযোগ দিয়ে রাস্তার মাঝখানে থাকা একটি লাল বিড়াল ছানাকে ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
দ্রুত গাড়ির দরজা খুলে গাড়ি থেকে নেমে ভারী পায়ে হেঁটে মেয়েটির পাশে এসে দাঁড়ালো যুবকটি। মেয়েটির কোন সাড়া নেই। যুবকটি ভাবলো বিকট ব্রেকের শব্দ ও যেন তার কানে পৌঁছায়নি! মুহূর্তেই শুনতে পেল মেয়েটির বিড়ালকে বলা কথাগুলো..
মেয়েটি তার ছোট ছোট মোলায়েম রিনিঝিনি কন্ঠে বিড়াল ছানা টিকে বলছে -দাঁড়াও ভয় পেয়ো না আমি তোমাকে কিছু করবো না। ছুটোছুটি করো না দাঁড়াও বলছি। যেকোনো মুহূর্তে গাড়ি আসতে পারে, বিপদ হতে পারে, বলছি দাড়াও।
মেয়েটির কথাগুলো শুনে তার ভীষণ রাগ হলো ।একটা মানুষ এত কেয়ারলেস কিভাবে হয়?
যুবকটি চিৎকার করে উঠলো "এইই মেয়ে " বলে।
ভয়ে কেঁপে উঠল মেয়েটি। চিৎকার এর উৎস খুঁজে দেখল তার পাশে ইয়া... লম্বা অচেনা এক লোক দাঁড়িয়ে আছে।
অচেনা লোক দেখে ভয় পেয়ে ও তেমন একটা হেলদোল দেখালো না। বরংচ কিছুটা ইতস্তত বোধ হলো । ইতস্ততাবোধে তড়িঘড়ি করে বিড়ালছানাটিকে ধরতে চাইছিলো।
মেয়েটি নিজের জগতে মগ্ন এই দৃশ্য দেখে যুবকটির মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠলো।
রাগে তার মেজাজ হারাচ্ছিল। একটু হলেই মুহূর্তে একটা জীবন শেষ হয়ে যেতে পারত ! তার নিজের জীবনও হয়তো পাল্টে যেত !
এতকিছুর পরও মেয়েটি তাকালো না পর্যন্ত তার দিকে ! যে লোকটি কি বলতে চাইছে?
মেয়েটির এই অবহেলা টুকুই যেন আগুনে ঘি ঢেলে দিল।
মুহূর্তের মধ্যে সে মেয়েটির হাত ধরে টেনে তুলল।
আর সজোরে একটি চড় বসিয়ে দিল তার গালে।
সবকিছু যেন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে গেল। হঠাৎ করে কিছুই বুঝে উঠতে পারল না মেয়েটি। শরীর কেঁপে উঠলো। তারপরই নিথর নিস্তব্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ল।
নীরবতা। আরো গভীর নীরবতা।
কেবল পাশে দাঁড়িয়ে ছোট্ট বিড়ালছানাটি " মেও" মেও" করে ডাকছে।
যুবকটি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলো। রাগ যেন আরও দ্বিগুণ বাড়ছে। ইচ্ছে করছে, মেও মেও শব্দ করা বিড়ালটিকে এক লাথি দিয়ে শূন্যে তুলতে।
বিরক্ত নিয়ে সে হাঁটু গেড়ে বসে পড়লো মেয়েটির পাশে।
" এই...? শোনো ওঠো ! ওঠো বলছি " । এই বলে মেয়েটির হাত নাড়াতে লাগলো।
কোন সাড়া শব্দ নেই।
মেয়েটির নিঃশ্বাস আছে কিন্তু জ্ঞানহীন।
যুবকটি চোখ বন্ধ করে একবার গভীর শ্বাস নিল।
তারপর আর দেরি করল না । ইচ্ছে না থাকা সত্ত্বেও দুই হাতে মেয়েটিকে তুলে নিল পাজা কোলে । দ্রুত পায়ে গিয়ে গাড়ির দরজা খুলে তাকে পেছনের সিটে শুইয়ে দিল।
গাড়িতে উঠতে গিয়ে হঠাৎ থেমে গেল সে ।কিছু একটা ভেবে সে আবার গেল সেই জায়গায় যেখানে মেয়েটি পড়ে ছিল।
যেখানে ছোট বিড়ালছানাটি এখনো ডাকছে।
কিছুটা বিরক্তি, কিছুটা অদ্ভুত দায়িত্ববোধ নিয়ে সে দুই আঙ্গুলে বিড়ালছানাটিকে তুলে নিল। গাড়িতে এনে মেয়েটির সিটের নিচে রেখে দিল ।
তারপর দরজা বন্ধ করে দ্রুত ড্রাইভিং সিটে বসে পড়ল।
ইঞ্জিন স্টার্ট হলো, গাড়ি আবার ছুটতে শুরু করলো।
গন্তব্য একটাই Hospital...
# জনরা : রোমান্টিক, / টানাপুড়েন, /সামাজিক, / কাল্পনিক ।
বি. দ্র. - দয়া করে গল্পটি পড়ে যদি ভালো লাগে তাহলে , রেসপন্স করবেন। আমি লিখার উৎসাহ পাব। কোনরকম ভুল ত্রুটি হলে ধরিয়ে দিবেন । আমি ভুল শুধরে নিব।