09/05/2026
যারা কথায় কথায় "পুলিশ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে" বলেন তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি-
"পুলিশ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় চলে"—এই কথাটি মূলত একটি একপাক্ষিক সত্য। অনেকেই সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য বেশিরভাগ সময় এই কথাটি ব্যবহার করে।
ট্যাক্স সবাই দেয় (পুলিশ নিজেও)। সবচেয়ে বড় সত্য হলো, পুলিশ সদস্যরাও এই দেশের নাগরিক। একজন পুলিশ কর্মকর্তা যখন বাজার করেন, ফুয়েল কেনেন বা মোবাইল রিচার্জ করেন, তখন তিনিও ভ্যাট বা ট্যাক্স দেন। এমনকি সরকারি বেতন থেকেও একটি নির্দিষ্ট অংশ ট্যাক্স হিসেবে কেটে রাখা হয়। তাই পুলিশও পরোক্ষভাবে নিজের বেতনের যোগানদাতা।
বেতন কোনো দয়া নয়, এটি শ্রমের বিনিময়।
যেকোনো পেশাজীবী (ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা করপোরেট চাকুরিজীবী) যেমন তার মেধা ও শ্রমের বিনিময়ে বেতন পান, পুলিশের ক্ষেত্রেও তাই। পুলিশ কোনো ‘অনুদান’ নেয় না; বরং দিনে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে ৭ দিন এবং বছরে ৩৬৫ দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে সেবা দেয়, তার বিপরীতে রাষ্ট্র তাকে এই পারিশ্রমিক দেয়। এটি শ্রমের একটি বাণিজ্যিক চুক্তি মাত্র।
নিরাপত্তা ছাড়া অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অসম্ভব।
আপনি/আমি/জনগণ ট্যাক্স দিতে পারছে কারণ দেশে একটি স্থিতিশীল নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে। যদি পুলিশ না থাকত, তবে ব্যবসা-বাণিজ্য, কল-কারখানা বা ব্যাংক-বিমা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়ত। অর্থাৎ, পুলিশ যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, তার ফলেই মানুষ অর্থ উপার্জন করে সরকারকে ট্যাক্স দিতে সক্ষম হচ্ছে।
ভাই জনগণের ট্যাক্সের টাকায় আমাদের বেতন হয় বলেই আমরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ। আর সেই দায়বদ্ধতা থেকেই আমরা রোদ-বৃষ্টি বা উৎসবের দিনগুলোতে পরিবার ফেলে আপনাদের জানমালের নিরাপত্তার দায়িত্বে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকি। সরকারি কর্মচারীরা জনগণের সেবক—এই চেতনাটি আমাদের পেশাদারিত্বেরই অংশ।
একটি ছোট্ট উদাহরণ দিয়ে বললে বুঝবেন- "একজন বাস চালকও যাত্রীদের ভাড়ার টাকায় বেতন পান, কিন্তু তাই বলে কোনো যাত্রী তাকে অপমান করার অধিকার রাখেন না। যাত্রী যেমন ভাড়ার বিনিময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর সেবা পান, জনগণও ট্যাক্সের বিনিময়ে নিরাপত্তা ও আইনি সেবা পান। এখানে টাকাটা বড় নয়, সেবার বিনিময়টাই মুখ্য।"
মনে রাখবেন- রাষ্ট্রীয় পরিভাষায় সরকারি কর্মচারীরা 'জনগণের সেবক', কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তারা কারও ব্যক্তিগত ভৃত্য।
From- বখতিয়ার আলম স্যার