17/05/2025
ইউনূস বাহিনী এই লেখা পড়বে না। সহযোদ্ধাদের অনুরোধ করবো লেখাটা পড়ে আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
------------------------------------------------------------
আলোচনার বিষয়বস্তু মানবিক করিডরের আড়ালে ইউনূস এবং আমেরিকার বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্র
------------------------------------------------------------
বাংলাদেশে রোহিঙ্গা রয়েছে ১৩ লক্ষ আরো ৬ লক্ষ রাখাইনে রয়েছে এখনো। একটা কথা আগেই বলে রাখি যে ৬ লাখ রাখাইন এখনো রাখাইনে রয়েছে তারা কিন্তু রাখাইন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আসুন মানবিক করিডর নিয়ে একটু কথা বলি। ১৪ ই মার্চ জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এবং ইউনূস রহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন এবং ঘোষণা দেন আগামী ঈদ রোহিঙ্গারা তাদের দেশে যেন পালন করতে পারে সে জন্য তিনি মিয়ানমার সরকারের সাথে কথা বলে তিনি জানিয়েছেন যে মিয়ানমারের জান্তা সরকার প্রাথমিক উদ্যোগ হিসেবে ১ লক্ষ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।
আমার প্রশ্ন হলো রাখাইনরা রয়েছে আরাকান আর্মিদের নিয়ন্ত্রণে এবং মিয়ানমার সরকারের সাথে আরাকান আর্মির কোন সম্পর্ক নেই। তাহলে ইউনূস কিভাবে মিয়ানমারের জান্তা সরকারের সাথে সমঝোতা করে রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফেরত পাঠাবেন ?
যা হোক তার এই অভূতপূর্ব উদ্যোগে নেওয়ার সাথে সাথে কাজের কাজ যেটি হলো নতুন করে আরো ১ লক্ষ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করলো।
যে জাতিসংঘের মহাসচিবের সাথে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের পরে ইউনূস ১ লক্ষ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে পাঠানোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সেই জাতিসংঘই ইউনূসকে আহবান জানিয়েছে নতুন যে ১ লক্ষ ১৩ হাজার রোহিঙ্গা ঢুকেছে বাংলাদেশে তাদের আবাসন ব্যবস্থা করে দেওয়ার।
এখন আসি মানবিক করিডর কি সেই বিষয়ে। মানবিক করিডর হলো রাখাইনে যে সকল রোহিঙ্গারা আটকা পড়েছে এবং সেখানে যে চরম দুর্ভিক্ষ চলমান তাদের ত্রাণ এবং অন্যান্য সহায়তা করতে বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার করা যাবে সেই বন্দবস্ত করা। এবং ইতোমধ্যে দেশদ্রোহী অবৈধ ইউনূস সরকার বাংলাদেশের কোন রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা না করেই নীতিগত ভাবে রাখাইনদের জন্য করিডর দিতে সম্মতি দিয়েছেন। অর্থ্যাৎ বাংলাদেশের সীমানায় মিয়ানমার তথা রহিঙ্গা এবং আরাকান সেনাবাহিনীর বিচরণে আর কোন আনুষ্ঠানিক বাঁধা থাকবে না।
আপনাদের মনে আছে নিশ্চয়ই যে কিছুদিন আগে বঙ্গোপসাগর থেকে আরাকান আর্মি বাংলাদেশী জেলেদের ধরে নিয়ে গিয়েছে কয়েকবার। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের মুখে ছাই দিয়ে আরাকান আর্মি বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে নাচ গান করে অনুষ্ঠান করে গিয়েছে। তাহলে ভাবুন মানবিক করিডরের নামে এই করিডর দেওয়া হলে সম্ভাব্য কী কী হতে পারে।
মনেরাখবেন একবার করিডর দিলে তা আবার বন্ধ করতে গেলে তা যুদ্ধে পরিণত হবে নিশ্চিত। মানবিক করিডর দিয়ে অমানবিক কার্যকলাপ নিশ্চিতভাবে বাড়বে। মাদক চোরাকারবারিদের দৌড়াত্ব বাড়বে। নারী, শিশু অপহরণ বাড় তথা অপরাধের সীমা লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব যতটুকু এখনো আছে তার কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
প্রশ্ন হলো রাখাইনে ত্রাণ পাঠানোর নাম করে কেন বাংলাদেশকেই বেছে নিচ্ছে জাতিসংঘ ?
জাতিসংঘ চাইলেই রাখাইনের উপকূলীয় অঞ্চলে তাদের ত্রান-সাহায্য সমেত জাহাজ ভিড়িয়ে রাখাইনদের ত্রাণ সহায়তা দিতে পারে। কিন্তু কেন তা না করে বাংলাদেশের করিডরই লাগবে ?
এখানেই রাজনীতিটা করে নিচ্ছে আমেরিকার হাতের পুতুল জাতিসংঘ। বিষয়টা হলো জাতিসংঘের জাহাজ যদি সরাসরি রাখাইনদের ত্রাণ-সামগ্রী দেয় তাহলে বাংলাদেশকে নিয়ে আমেরিকার আমেরিকার শুপ্ত রাজনীতি বাস্তবায়ন হবেনা। তাই জাতিসংঘ তথা আমেরিকার প্রথম এবং শেষ পছন্দ হলো বাংলাদেশের করিডর ব্যবহার করা।
আর আমারিকা বরাবরের মতন এই মানবিক করিডরের দোহাই দিয়ে আরাকান আর্মিকে শক্তিশালী করতে যা যা সহযোগিতা করার করবে। এবং তখন আরাকান আর্মি আমেরিকা থেকে শক্তিশালী অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ পেয়ে যখন বাংলাদেশে প্রবেশ করবে তখন কি তা প্রতিরোধের ক্ষমতা বাংলাদেশের আছে ?
এখন আসি আসল খেলায় কি হবে।
প্রথমত, আমেরিকা ক্রেডিট নিবে তারা রাখাইনদের সহায়তা করছে।
দ্বিতীয়ত, চীন ইতোমধ্যে রাখাইনে ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে সেখানে আমেরিকার হস্তক্ষেপ চীন মেনে নিবে না।
তৃতীয়ত, চীন যখন জানবে বাংলাদেশের করিডর ব্যবহার করে আমেরিকা এই কাজ করছে তখন চীনের সাথে বাংলাদেশের বানিজ্যিক সহ বন্ধুত্বসুলভ কোন সম্পর্কই থাকবেনা এটা নিশ্চিত থাকুন।
চতুর্থত, বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল গুলোর বিদ্রোহীরা অত্যাধুনিক আমেরিকান অস্ত্র পেয়ে শক্তিশালী হয়ে এতো বেশি শক্তিশালী হবে তা অবৈধ ইউনূস সরকার কেন যে কোন সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।
সর্বোপরি মানবিক করিডরের নামে আমেরিকা আর কুখ্যাত ইউনূস অবৈধ সরকারের পরিকল্পনায় বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্ব হারাবে, এবং পার্বত্য অঞ্চলে সাধারণ মানুষের যাওয়া স্বপ্নে পরিনত হবে।
মানবিক করিডর নিয়ে এখন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগনের.....
#বাংলাদেশ