14/11/2024
১৯২০ সালের একদিনের কথা। চট্টগ্রামের আদালত ভবন তখন বেশ জমজমাট। লাল ইটের এই ভবনটির প্রতি কেমন একটা মহিমান্বিত ভাব কাজ করত, কারণ এই আদালতে বিচারের জন্য দূরদূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসত। লোকে বলত, এই ভবনের প্রতিটা ইটে নাকি আইন আর ন্যায়ের চিহ্ন আঁকা আছে।
আদালতে বিচার কার্যক্রম চলছিল। বিচারক সুশান্ত বাবু ছিলেন চট্টগ্রামের একজন প্রভাবশালী ও সৎ বিচারক। তার সামনে হাজির হলেন এক বৃদ্ধ, নাম মনির উদ্দিন। তার কাঁধে ফতুয়া, মুখে ক্লান্তির ছাপ। গ্রামের এক প্রভাবশালী জমিদারের বিরুদ্ধে মামলা করে তিনি আদালতে এসেছেন। জমিদার তার একমাত্র জমি দখল করে নিয়েছে, কিন্তু দারিদ্র্য আর ভয়ের কারণে গ্রামে কেউই তার পক্ষে সাক্ষ্য দিতে চায় না।
বিচারক সুশান্ত বাবু তার কথা শুনলেন। মনির উদ্দিনের চেহারায় অসহায়ত্ব স্পষ্ট। আদালতের সব প্রভাবশালী আইনজীবীও বুঝতে পারলেন, এই বৃদ্ধ ন্যায়ের জন্যে লড়তে এসেছে, তার নিজের কাছে হার মানতে নয়। আদালতের চারদিকে মানুষের মধ্যে তখন চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে—এই একটুকরো জমির জন্য বৃদ্ধ মনির উদ্দিন কি শেষমেশ বিচার পাবে?
দিনটি ছিল মনির উদ্দিনের জীবনের সবচেয়ে বড় দিন। বিচারের রায় ঘোষণা করা হল—জমিদারের বিরুদ্ধে এবং মনির উদ্দিনের পক্ষে। এই রায়ে মনির উদ্দিন চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তার মতো সাধারণ একজন মানুষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। আদালতের লাল ইটের দেয়াল যেন সেদিন আরও বেশি উজ্জ্বল হয়ে উঠল, যেন বহু বছরের পুরানো এই ভবনটির গর্ব আরও একটু বেড়ে গেল।
বাইরে এসে মনির উদ্দিন ভবনের দিকে তাকিয়ে হাত জোড় করে মৃদু কণ্ঠে বললেন, "এই লাল ইটের গাঁথুনি শুধু ইট নয়, এর মাঝে মানুষের ন্যায়ের আশা আর বিশ্বাস মিশে আছে। আল্লাহ এ ভবনকে চিরকাল অক্ষত রাখুক।"