27/07/2026
#ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী
#হুমাইরা_কাজল
#পর্ব -১১
শনিবার সকাল বাড়ির বউরা রান্নার কাজে ব্যাস্ত কেউ নাস্তা তৈরি করতেছে কেউ চা বানাচ্ছে। বাড়ির পুরুষরা আর মেয়েরা আজ তাদের কর্মস্থানে যাবে তাই তাদের জন্য সকালে নাস্তা তৈরি করতেছে। পুরুষরা সবাই সকালের নাস্তা শেষ করতেছে মেয়েরা এখনো খাবার টেবিলে আসেনি। আফরিন চৌধুরী বলে সালমা গিয়ে আমিরাদের ডেকে দিয়ে আয় দেরি হচ্ছে আজ অফিসে যাবে মনে নাই মনে হয়।
আচ্ছা বড় মা যাচ্ছে বলে সালমা উপরে আমিরার রুমে যায় আমিরা প্রায় তৈরি হয়ে গেছে আপা মনি বড় মা তাড়াতাড়ি যেতে বলতেছে দেরি হয়ে যাচ্ছে। সালমা আপু তুমি আরিশাদের দেখো উঠছে কিনা আমি নিচে যাচ্ছি।
আমিরা মাথায় কালো আরামদায়ক হিজাব কালো লং ব্লেজার ভিতরে সাদা কোর্তা কালো প্লাজো কালো হিল হাতে ব্যান্ডের ঘড়ি দেখতে একদম বস লেডির মতো। যখন নিচে আসে তখন আরমিন চৌধুরী বলে আমার মেয়েকে দেখতে মাশাআল্লাহ একদম অফিসের বস এ-র মতো লাগতেছে। ধন্যবাদ ফুফি। আমিরা খাবার টেবিলে বোনদের জন্য অপেক্ষা করে।
সাবিহা চৌধুরী বলে বাকি দুজন কয় এতো দেরি করলে হবে । মেজ আম্মু কাল সিনেমা দেখতে একটু দেরিতে ঘুম গিয়েছে তাই দেরি হচ্ছে। বলতে বলতে আরিশা আর রুহি চলে আসে চেয়ারে বসে পড়ে রুটি নেই আফরিন চৌধুরী মুরগির মাংস আর সবজি নিয়ে আসে। আমিরারা সবজি আর দুটি করে রুটি খায়। সাবিহা চৌধুরী বলে রুহি তুমি নানু বাড়িতে আসছো একটু ভালো করে খাবে আনন্দ করবে তা না করে তোমার বোনদের সাথে অফিসে কাজ করতে যাচ্ছো। মামি আপুরা অফিসে গেলে আমার একা একা ভালো লাগবে না তাই আমি ততদের সাথে যাচ্ছি।
আরিশা মেরুন হিজাব মেরুন লং কোট প্লাজো সাদা কোর্তা মেরুন হিল রুহি লং কোট ভিতরে শার্ট প্যান্ট হিজাব।
আরমান চৌধুরী যাওয়ার সময় বলল বেশি সময় নেই খাবার শেষ করে তাড়াতাড়ি আসো, আমরা যাচ্ছি সময়ের মধ্যে অফিসে পৌছাবে। তিন বোন একসাথে বলে ওঠে আচ্ছা ঠিক আছে। আরিশা বড়ো আম্মু তাড়াতাড়ি কপি দাও বলতে সালমা কপি নিয়ে আসে। আমিরা তাদের ব্যাগপত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়ে বাইরে গাড়ি আছে তাদের। তাদের বাড়িতে ৬ টা গাড়ি আছে। তিন ভাইয়ের ৩টা আতিফ চৌধুরী ১ টা, বাড়িতে ২ টা থাকে বাড়ির বউ আর ছেলে মেয়েদের জন্য। অনেক সময় আরমান চৌধুরী আর আনাস চৌধুরী একসাথে এক গাড়িতে অফিসে যায়। আমিন চৌধুরীর টা সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া কেউ ব্যাবহার করে না।
আমিরা কোথাও গাড়ির চালক নিয়ে যায়না। নিজে চালিয়ে যায়। তাদের দুই বোনের এবং আমানের সহ ৩ টি বাইক আছে যা কাজে ব্যাবহার করে সবসময় না। বাড়ির কেউ বাইক কিনে দিতে রাজি হয়নি আমিন চৌধুরী আর আমিরের জোরাজোরিতে বাধ্য হয়েছে। আমিন চৌধুরী নিজের কাধের উপর বাইকের দায়িত্ব নিয়েছে।
আমিরা রা অফিসের জন্য চলে যাওয়ার পরে বাড়ির মহিলরা খেতে বসে তারা গল্প করে আস্তে ধিরে খায়। আরমিন চৌধুরীর ভাবিদের সাথে সম্পর্ক বন্ধুর মতো হবেনা কেন একমাত্র ননদ বলে কথা তার উপর আফরিন চৌধুরীর বান্ধবী বলে কথা।
আমিরা রা টিক নয়টার দিকে অফিস পৌঁছে। অফিসে তারা তাদের পারিবারিক সম্পর্ক দেখায় না অফিসের নিয়ম অনুযায়ী চলার চেষ্টা করে। আমিরা নিজের অফিসের রুমে বসার পরে সহকারি মিরাকে কল করে আসার জন্য এবং প্রজেক্টের সকল তথ্য নিয়ে আসতে বলে। পনের মিনিটের মধ্যে মিরা চলে আসে সকল ডকুমেন্টস নিয়ে। আরিশা আর রুহিকে কল করে নিজের অফিস রুমে আসার জন্য । আমিরার কক্ষ টা একটু বড় এবং এক পাশে একটি আলোচনার জন্য বড় টেবিল আছে। মিরাকে নিয়ে আলোচনা টেবিলে সকল ফাইল নিয়ে বসে পড়ে সাথে আরিশা আর রুহি। তাদের ব্যাবসা হচ্ছে রিয়েল স্টেড এবং গার্মেন্ট এ-র। এখন তাদের সামনে সরকারি ৩ টা প্রজেক্ট এর টেন্ডার জমা দিতে হবে।
১। সরকারি আবাসিক এরিয়া নির্মাণ
২। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টান নির্মাণ
৩। সেবা খাতে সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
আমিরা বলে আরিশা আমাদের প্রথম দুটি কিন্তু বড়ো বাজেট, তাই প্রতিযোগিতা বেশি থাকবে। এবং এ-ই দুটি যদি সফল ভাবে শেষ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে টেন্ডার পাওয়া সহজ হবে তাই খুব সথর্ক ভাবে কাজ করতে হবে। আরিশা বলে ঠিক বলেছো।
আমিরা দাদুকে কল করে দাদু একটু অফিসে আসতে পারবে কয়েক ঘন্টার জন্যে। আচ্ছা দাদু মনি আসতেছি। আমিরা আর আরিশা বাবাদের কাছে যায়। নক করে আসব জিজ্ঞেস করে আরমান চৌধুরী আসতে বলে সেখানে সাথে আনাস চৌধুরী আছে, মেজ আব্বু তুমি এখানে আছো ভালো হয়েছে। দাদাভাই কে আসতে বলছি এখনি আসবে তাই তোমাদের সাথে মিটিং আছে সবাই কয়েক মিনিটের মধ্যে মিটিং রুমে আসো। কোন সমস্যা? না জরুরি আলোচনা তাই। আচ্ছা যা-ও আমরা আসতেচি কিছু লাগবে লাগবে? আমিরা বলে না তবে যারা তথ্য সংগ্রহ করে তাদের একটু তৈরি থাকতে বলো।
আমিরা সব তথ্য দেখতে দেখতে আতিফ চৌধুরী অফিসে চলে আসে আমিরাকে বলে কল করে আমিরা মিটিং রুমে আসার জন্য বলে লোক পাঠায় নিয়ে আসার জন্য। আতিফ চৌধুরী আরমান চৌধুরী আনাস চৌধুরী এবং আমিরা আরিশা রুহি আর কয়েকজন সিনিয়র কর্মচারীরা আছে।
আমিরা বলা শুরু করল আমাদের প্রথম প্রজেক্ট বা টেন্ডার হচ্ছে আবাসিক এলাকার জন্য এরিয়া নির্মাণ করা। বাজেট এ-র পরিমাণ হচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এটার টেন্ডার এমন ভাবে জমা দিতে হবে যেন আমরা টেন্ডার টা পাই। যেমন আবাসিক এরিয়া মধ্যে এমন কিছু রাখতে হবে যেমন: মানবাধিকার ৫টি স্থাপনা। খাবারের জন্য বাজার বা সুপারশপ, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল , বসবাসের জন্য বিল্ডিং, শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়, মসজিদ মন্দির ইত্যাদি।
একজন সিনিয়র কর্মকর্তা আয় ব্যায় হিসাব কারি তিনি বললেন আমিরা এমন ভাবে টেন্ডার তৈরি করলে আমাদের কোম্পানির খরচ বেশি হবে আয় কম হবে। কারণ আমাদের কোম্পানির সুনাম হচ্ছে আমরা ভালো মানের সাপ্লাইজ ব্যাবহার করি তাই। এতো বড়ো প্রজেক্টের মধ্যে ভালো মানের সাপ্লাইজ ব্যাবহার করলে খরচ বেশি পরবে।
আংকেল আপনার সাথে আমি একমত কিন্তু আমাদের তো লস হবেনা মুনাফা কম হবে। কিন্তু আমরা যদি এভাবে প্রকল্প টা তৈরি করি আমাদের কোম্পানির সুনাম অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং পরবর্তী টেন্ডার পাওয়া সহজ হবে। এবং অনেক বেসরকারি প্রজেক্ট আমরা সহজে পেয়ে যাব। এবং যদি টেন্ডার পাই কাজ শুরু করি তাহলে চেষ্টা করব খরচ কমার। কাচামাল একত্রে ক্রয় করার চেষ্টা করব যেন পাত্তা কম পড়ে এরকম ছোট ছোট কাজে খেয়াল রাখতে হবে।
দাদু ভাই কি বলেন আপনিতো সরকারে ছিলেন এটা গ্রহণ যোগ্য হবে? দাদুমনি তোমার চিন্তাধারনা অনেক সুন্দর কিন্তু অনেক সময় ক্ষমতার অপব্যবহার হয়। কিন্তু এটা সেনাবাহিনীর জন্য টেন্ডার তাই আমার মতে অনেক টা গ্রহণ যোগ্য। তবে তোমাদের কাছে আমার একটাই চাওয়া যেন সর্বোচ্চ ভালোটা দেওয়ার চেষ্টা করবে কারণ এসব কাজে কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে কোম্পানি একবারে ধংস হয়ে যাবে। আরমান চৌধুরী বলল এসব সম্পর্কে আমরা সথর্ক থাকব। নিয়মিত দেখে আসব। আতিফ চৌধুরী বলল দেখে আসলে হবেনা কাচামাল কিনার সময় গিয়ে দেখে আসবে এবং গ্রহণ করার সময় নিজেরা উপস্থিত থাকবে। আচ্ছা আব্বা। আর সবসময় সময়ের আগে শেষ করার চেষ্টা করবে। প্রকল্পের সময় কত বছর? তিন বছর দাদু। অনেক কম সময় টাকা এবং মানুষ দুটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজন।
কোম্পানি রিজার্ভ এ টাকা আছে? এতো টাকা নাই কারণ আরো কয়েকটি প্রকল্পে কাজ চলতেছে তাই এবং এ বছরের মধ্যে শেষ হবে। এখন কত আছে? এ টেন্ডারের ৫০% মতো আছে। আমিরার কথা মতো খরচ কমার জন্য একত্রে কাচামাল কিনতে হবে তাই শুরুতে ৯০% টাকা নিয়ে নামতে হবে। আরাফকে আর আমিরকে কল করে টাকা পাঠানোর জন্য বল এখন সেখানে রাত বাবা । বাড়ি আসার পরে কল করবে আমার সামনে আমি বুঝিয়ে বলব আমির কে। কারণ এখানের সব টাকা প্রজেক্ট দেওয়া সম্ভব না তাহলে আমরা বিপদে পড়তে পারি। কারণ অফিসের অনেক ধরণের খরচ আছে যা চালিয়ে যেতে হবে। আচ্ছা আব্বা।
আমিরা বলল দাদু ভাই আমি বলছিলাম কি আমাদের নিজেদের পার্সোনাল একাউন্টে যা আছে তা দেওয়া যায় না। কোম্পানির সাথে চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ করব। কাজ শেষ হলে নিয়ে নিব, তবে কোন মুনাফা নিবনা। আনাস চৌধুরী বলে তোমার কথা ঠিক কিন্তু এতো হবে না সব মিলিয়ে ১৫% হবে। আতিফ চৌধুরী বলল তা দাও বাকি গুলো আরাফ আর আমিরের কাছ থেকে নাও তাও কম হলে গার্মেন্ট সেক্টর থেকে বিনিয়োগ কর।
আতিফ চৌধুরী বলল বাকি টেন্ডার গুলো ভালো মতো জমা দিবে। আমিরা তুমি মাঝে মধ্যে এসে টেন্ডার গুলো দেখিও জমা দেওয়ার আগে। দাদু এ সপ্তাহে কয়েকবার আসব।
সেলিম সাহেব আতিফ সাহেবের সমবয়সী পরিচিত কর্মচারি। আরমান আমি তোমার বাবার সাথে কাজ করেছি তোমাদের সাথে করতেছি। কিন্তু তোমার বাবার যে চিন্তা ধারণা তা আমি আমিরার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি এবং আবাক হয় এতো অল্প বয়সে অনেক পরিকল্পিত চিন্তা ধারণা। ভবিষ্যতে অনেক এগিয়ে যাবে।
ধন্যবাদ দাদু আতিফ চৌধুরী বলে আমিরার চিন্তা ধারণা আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে।
আমিরা বলে দাদু ভাই আমি চাই বাকি দুটি টেন্ডার আরিশা দেখুক আর সাথে আমি থাকব কোন কিছু দরকার হলে দেখায় দেব। আরিশা কি বল? দাদুভাই বোন আমার সাথে থাকলে অনেক সুরক্ষিত মনে করি ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা হবেনা। জানো তোমাদের দুজন কে কেন এতো বিশ্বাস করি দাদু মনি তোমরা দুজন দুজনে প্রতি এত ভালোবাসা যা যে কোন যুদ্ধ সহজে জয় করা সম্ভব।
মিটিং শেষ হতে দুপুর হয়েগেল বাড়ি থেকে খাবার আসল ড্রাইভার নিয়ে আসে প্রতিদিন।আমিরাদের পরিবারের যারা আছে তারা একসাথে খেতে বসে আতিফ চৌধুরী আছে সাথে। খাওয়া শেষ করে আমিরা সবাই একসাথে বসে এবং অফিসের কর্মচারিদের টেন্ডারের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য একত্র করতে বলে এবং কয়েকজন করে গ্রোপে ভাগ করে দেয় কোন গ্রোপ কোন কাজ করবে তা বুঝিয়ে দেয়। কয়েক জন ইন্জিনিয়ার কে আবাসিকের ডিজাইন করা এবং কয়েক জনকে তথ্য সংগ্রহ করে টেন্ডারে যুক্ত করা এবং যা দরকার।
তবে টেন্ডারের টাকা ঠিক করবে আমিরার বাবারা।
বিকালের দিকে আতিফ চৌধুরী আমিরাদের সাথে চলে আসে একটু আগে। আরমান চৌধুরী পরে আসবে তাদের অনেক কাজ আছে তাই। বাড়ি পোঁছানোর পরে তারা পরিষ্কার হয়ে নিচে নামে বিকালের নাস্তার জন্য। সন্ধ্যার দিকে একটু বাহির হবে রুহিকে নিয়ে কারণ সারাদিন অফিসে ছিল তাই। এখন নাস্তা করে একটু বিশ্রাম নিবে।সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তারা বাহির হয় একটু ঘুরাঘুরি করবে এবং শপিং করবে।
তারা জি.এস.সি মুড়ে যায় এবং সেখানে নোহা যুক্ত হয়। নোহা আপু আসসালামু আলাইকুম কেমন আছো? ভালো আছি তুমি কেমন আছো রুহি? ভালো আছি আপু। তারা সবাই বসে ফুসকা খায় এবং ঝালমুড়ি খাই। খাওয়া শেষ করে বালি আর্কেড এ চলে আসে এবং কিছু কিনা কাটা করে বাড়ির সবার জন্য কাপড় কিনে। তারপর চলে আসে। আগে নোহাকে বাড়ি নামিয়ে দেয় তারপর তারা বাড়ি যায়।
বাড়ি আসার পরে যার জন্য যা কিনেছে তা দিয়ে দেয় দাদু বাবা ভাইদের জন্য পাঞ্জাবি দাদি মা ফুফির জন্য শাড়ি সালমার জন্য থ্রিপিস বাকি কাজের লোকদের জন্য লুঙ্গী আর শাড়ি।
এবাড়ির লোকদের আচরণ বাড়ির কাজের লোকদের অনেক ভালো লাগে তাই তারা সহজে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
(কপি কারা নিষেধ। কোন ভুল করে থাকলে ক্ষমা করবেন আশা করি। দয়া করে সাপোর্ট করবেন।)