Anjol Story - কাজল

Anjol Story - কাজল ...এইতো জীবন!

 #ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী  #হুমাইরা_কাজল #পর্ব -১১শনিবার সকাল বাড়ির বউরা রান্নার কাজে ব্যাস্ত কেউ নাস্তা তৈরি করতেছে ক...
27/07/2026

#ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী
#হুমাইরা_কাজল
#পর্ব -১১

শনিবার সকাল বাড়ির বউরা রান্নার কাজে ব্যাস্ত কেউ নাস্তা তৈরি করতেছে কেউ চা বানাচ্ছে। বাড়ির পুরুষরা আর মেয়েরা আজ তাদের কর্মস্থানে যাবে তাই তাদের জন্য সকালে নাস্তা তৈরি করতেছে। পুরুষরা সবাই সকালের নাস্তা শেষ করতেছে মেয়েরা এখনো খাবার টেবিলে আসেনি। আফরিন চৌধুরী বলে সালমা গিয়ে আমিরাদের ডেকে দিয়ে আয় দেরি হচ্ছে আজ অফিসে যাবে মনে নাই মনে হয়।
আচ্ছা বড় মা যাচ্ছে বলে সালমা উপরে আমিরার রুমে যায় আমিরা প্রায় তৈরি হয়ে গেছে আপা মনি বড় মা তাড়াতাড়ি যেতে বলতেছে দেরি হয়ে যাচ্ছে। সালমা আপু তুমি আরিশাদের দেখো উঠছে কিনা আমি নিচে যাচ্ছি।
আমিরা মাথায় কালো আরামদায়ক হিজাব কালো লং ব্লেজার ভিতরে সাদা কোর্তা কালো প্লাজো কালো হিল হাতে ব্যান্ডের ঘড়ি দেখতে একদম বস লেডির মতো। যখন নিচে আসে তখন আরমিন চৌধুরী বলে আমার মেয়েকে দেখতে মাশাআল্লাহ একদম অফিসের বস এ-র মতো লাগতেছে। ধন্যবাদ ফুফি। আমিরা খাবার টেবিলে বোনদের জন্য অপেক্ষা করে।

সাবিহা চৌধুরী বলে বাকি দুজন কয় এতো দেরি করলে হবে । মেজ আম্মু কাল সিনেমা দেখতে একটু দেরিতে ঘুম গিয়েছে তাই দেরি হচ্ছে। বলতে বলতে আরিশা আর রুহি চলে আসে চেয়ারে বসে পড়ে রুটি নেই আফরিন চৌধুরী মুরগির মাংস আর সবজি নিয়ে আসে। আমিরারা সবজি আর দুটি করে রুটি খায়। সাবিহা চৌধুরী বলে রুহি তুমি নানু বাড়িতে আসছো একটু ভালো করে খাবে আনন্দ করবে তা না করে তোমার বোনদের সাথে অফিসে কাজ করতে যাচ্ছো। মামি আপুরা অফিসে গেলে আমার একা একা ভালো লাগবে না তাই আমি ততদের সাথে যাচ্ছি।
আরিশা মেরুন হিজাব মেরুন লং কোট প্লাজো সাদা কোর্তা মেরুন হিল রুহি লং কোট ভিতরে শার্ট প্যান্ট হিজাব।
আরমান চৌধুরী যাওয়ার সময় বলল বেশি সময় নেই খাবার শেষ করে তাড়াতাড়ি আসো, আমরা যাচ্ছি সময়ের মধ্যে অফিসে পৌছাবে। তিন বোন একসাথে বলে ওঠে আচ্ছা ঠিক আছে। আরিশা বড়ো আম্মু তাড়াতাড়ি কপি দাও বলতে সালমা কপি নিয়ে আসে। আমিরা তাদের ব্যাগপত্র নিয়ে বেরিয়ে পড়ে বাইরে গাড়ি আছে তাদের। তাদের বাড়িতে ৬ টা গাড়ি আছে। তিন ভাইয়ের ৩টা আতিফ চৌধুরী ১ টা, বাড়িতে ২ টা থাকে বাড়ির বউ আর ছেলে মেয়েদের জন্য। অনেক সময় আরমান চৌধুরী আর আনাস চৌধুরী একসাথে এক গাড়িতে অফিসে যায়। আমিন চৌধুরীর টা সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া কেউ ব্যাবহার করে না।
আমিরা কোথাও গাড়ির চালক নিয়ে যায়না। নিজে চালিয়ে যায়। তাদের দুই বোনের এবং আমানের সহ ৩ টি বাইক আছে যা কাজে ব্যাবহার করে সবসময় না। বাড়ির কেউ বাইক কিনে দিতে রাজি হয়নি আমিন চৌধুরী আর আমিরের জোরাজোরিতে বাধ্য হয়েছে। আমিন চৌধুরী নিজের কাধের উপর বাইকের দায়িত্ব নিয়েছে।
আমিরা রা অফিসের জন্য চলে যাওয়ার পরে বাড়ির মহিলরা খেতে বসে তারা গল্প করে আস্তে ধিরে খায়। আরমিন চৌধুরীর ভাবিদের সাথে সম্পর্ক বন্ধুর মতো হবেনা কেন একমাত্র ননদ বলে কথা তার উপর আফরিন চৌধুরীর বান্ধবী বলে কথা।
আমিরা রা টিক নয়টার দিকে অফিস পৌঁছে। অফিসে তারা তাদের পারিবারিক সম্পর্ক দেখায় না অফিসের নিয়ম অনুযায়ী চলার চেষ্টা করে। আমিরা নিজের অফিসের রুমে বসার পরে সহকারি মিরাকে কল করে আসার জন্য এবং প্রজেক্টের সকল তথ্য নিয়ে আসতে বলে। পনের মিনিটের মধ্যে মিরা চলে আসে সকল ডকুমেন্টস নিয়ে। আরিশা আর রুহিকে কল করে নিজের অফিস রুমে আসার জন্য । আমিরার কক্ষ টা একটু বড় এবং এক পাশে একটি আলোচনার জন্য বড় টেবিল আছে। মিরাকে নিয়ে আলোচনা টেবিলে সকল ফাইল নিয়ে বসে পড়ে সাথে আরিশা আর রুহি। তাদের ব্যাবসা হচ্ছে রিয়েল স্টেড এবং গার্মেন্ট এ-র। এখন তাদের সামনে সরকারি ৩ টা প্রজেক্ট এর টেন্ডার জমা দিতে হবে।

১। সরকারি আবাসিক এরিয়া নির্মাণ
২। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্টান নির্মাণ
৩। সেবা খাতে সরঞ্জাম সরবরাহ করা।

আমিরা বলে আরিশা আমাদের প্রথম দুটি কিন্তু বড়ো বাজেট, তাই প্রতিযোগিতা বেশি থাকবে। এবং এ-ই দুটি যদি সফল ভাবে শেষ করা সম্ভব হলে ভবিষ্যতে টেন্ডার পাওয়া সহজ হবে তাই খুব সথর্ক ভাবে কাজ করতে হবে। আরিশা বলে ঠিক বলেছো।
আমিরা দাদুকে কল করে দাদু একটু অফিসে আসতে পারবে কয়েক ঘন্টার জন্যে। আচ্ছা দাদু মনি আসতেছি। আমিরা আর আরিশা বাবাদের কাছে যায়। নক করে আসব জিজ্ঞেস করে আরমান চৌধুরী আসতে বলে সেখানে সাথে আনাস চৌধুরী আছে, মেজ আব্বু তুমি এখানে আছো ভালো হয়েছে। দাদাভাই কে আসতে বলছি এখনি আসবে তাই তোমাদের সাথে মিটিং আছে সবাই কয়েক মিনিটের মধ্যে মিটিং রুমে আসো। কোন সমস্যা? না জরুরি আলোচনা তাই। আচ্ছা যা-ও আমরা আসতেচি কিছু লাগবে লাগবে? আমিরা বলে না তবে যারা তথ্য সংগ্রহ করে তাদের একটু তৈরি থাকতে বলো।

আমিরা সব তথ্য দেখতে দেখতে আতিফ চৌধুরী অফিসে চলে আসে আমিরাকে বলে কল করে আমিরা মিটিং রুমে আসার জন্য বলে লোক পাঠায় নিয়ে আসার জন্য। আতিফ চৌধুরী আরমান চৌধুরী আনাস চৌধুরী এবং আমিরা আরিশা রুহি আর কয়েকজন সিনিয়র কর্মচারীরা আছে।
আমিরা বলা শুরু করল আমাদের প্রথম প্রজেক্ট বা টেন্ডার হচ্ছে আবাসিক এলাকার জন্য এরিয়া নির্মাণ করা। বাজেট এ-র পরিমাণ হচ্ছে ৫ হাজার কোটি টাকা। এটার টেন্ডার এমন ভাবে জমা দিতে হবে যেন আমরা টেন্ডার টা পাই। যেমন আবাসিক এরিয়া মধ্যে এমন কিছু রাখতে হবে যেমন: মানবাধিকার ৫টি স্থাপনা। খাবারের জন্য বাজার বা সুপারশপ, চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল , বসবাসের জন্য বিল্ডিং, শিক্ষার জন্য বিদ্যালয়, মসজিদ মন্দির ইত্যাদি।

একজন সিনিয়র কর্মকর্তা আয় ব্যায় হিসাব কারি তিনি বললেন আমিরা এমন ভাবে টেন্ডার তৈরি করলে আমাদের কোম্পানির খরচ বেশি হবে আয় কম হবে। কারণ আমাদের কোম্পানির সুনাম হচ্ছে আমরা ভালো মানের সাপ্লাইজ ব্যাবহার করি তাই। এতো বড়ো প্রজেক্টের মধ্যে ভালো মানের সাপ্লাইজ ব্যাবহার করলে খরচ বেশি পরবে।
আংকেল আপনার সাথে আমি একমত কিন্তু আমাদের তো লস হবেনা মুনাফা কম হবে। কিন্তু আমরা যদি এভাবে প্রকল্প টা তৈরি করি আমাদের কোম্পানির সুনাম অনেক বৃদ্ধি পাবে এবং পরবর্তী টেন্ডার পাওয়া সহজ হবে। এবং অনেক বেসরকারি প্রজেক্ট আমরা সহজে পেয়ে যাব। এবং যদি টেন্ডার পাই কাজ শুরু করি তাহলে চেষ্টা করব খরচ কমার। কাচামাল একত্রে ক্রয় করার চেষ্টা করব যেন পাত্তা কম পড়ে এরকম ছোট ছোট কাজে খেয়াল রাখতে হবে।
দাদু ভাই কি বলেন আপনিতো সরকারে ছিলেন এটা গ্রহণ যোগ্য হবে? দাদুমনি তোমার চিন্তাধারনা অনেক সুন্দর কিন্তু অনেক সময় ক্ষমতার অপব্যবহার হয়। কিন্তু এটা সেনাবাহিনীর জন্য টেন্ডার তাই আমার মতে অনেক টা গ্রহণ যোগ্য। তবে তোমাদের কাছে আমার একটাই চাওয়া যেন সর্বোচ্চ ভালোটা দেওয়ার চেষ্টা করবে কারণ এসব কাজে কোন ত্রুটি পাওয়া গেলে কোম্পানি একবারে ধংস হয়ে যাবে। আরমান চৌধুরী বলল এসব সম্পর্কে আমরা সথর্ক থাকব। নিয়মিত দেখে আসব। আতিফ চৌধুরী বলল দেখে আসলে হবেনা কাচামাল কিনার সময় গিয়ে দেখে আসবে এবং গ্রহণ করার সময় নিজেরা উপস্থিত থাকবে। আচ্ছা আব্বা। আর সবসময় সময়ের আগে শেষ করার চেষ্টা করবে। প্রকল্পের সময় কত বছর? তিন বছর দাদু। অনেক কম সময় টাকা এবং মানুষ দুটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব প্রয়োজন।

কোম্পানি রিজার্ভ এ টাকা আছে? এতো টাকা নাই কারণ আরো কয়েকটি প্রকল্পে কাজ চলতেছে তাই এবং এ বছরের মধ্যে শেষ হবে। এখন কত আছে? এ টেন্ডারের ৫০% মতো আছে। আমিরার কথা মতো খরচ কমার জন্য একত্রে কাচামাল কিনতে হবে তাই শুরুতে ৯০% টাকা নিয়ে নামতে হবে। আরাফকে আর আমিরকে কল করে টাকা পাঠানোর জন্য বল এখন সেখানে রাত বাবা । বাড়ি আসার পরে কল করবে আমার সামনে আমি বুঝিয়ে বলব আমির কে। কারণ এখানের সব টাকা প্রজেক্ট দেওয়া সম্ভব না তাহলে আমরা বিপদে পড়তে পারি। কারণ অফিসের অনেক ধরণের খরচ আছে যা চালিয়ে যেতে হবে। আচ্ছা আব্বা।
আমিরা বলল দাদু ভাই আমি বলছিলাম কি আমাদের নিজেদের পার্সোনাল একাউন্টে যা আছে তা দেওয়া যায় না। কোম্পানির সাথে চুক্তির মাধ্যমে বিনিয়োগ করব। কাজ শেষ হলে নিয়ে নিব, তবে কোন মুনাফা নিবনা। আনাস চৌধুরী বলে তোমার কথা ঠিক কিন্তু এতো হবে না সব মিলিয়ে ১৫% হবে। আতিফ চৌধুরী বলল তা দাও বাকি গুলো আরাফ আর আমিরের কাছ থেকে নাও তাও কম হলে গার্মেন্ট সেক্টর থেকে বিনিয়োগ কর।
আতিফ চৌধুরী বলল বাকি টেন্ডার গুলো ভালো মতো জমা দিবে। আমিরা তুমি মাঝে মধ্যে এসে টেন্ডার গুলো দেখিও জমা দেওয়ার আগে। দাদু এ সপ্তাহে কয়েকবার আসব।
সেলিম সাহেব আতিফ সাহেবের সমবয়সী পরিচিত কর্মচারি। আরমান আমি তোমার বাবার সাথে কাজ করেছি তোমাদের সাথে করতেছি। কিন্তু তোমার বাবার যে চিন্তা ধারণা তা আমি আমিরার মধ্যে দেখতে পাচ্ছি এবং আবাক হয় এতো অল্প বয়সে অনেক পরিকল্পিত চিন্তা ধারণা। ভবিষ্যতে অনেক এগিয়ে যাবে।
ধন্যবাদ দাদু আতিফ চৌধুরী বলে আমিরার চিন্তা ধারণা আমার চেয়ে অনেক এগিয়ে।

আমিরা বলে দাদু ভাই আমি চাই বাকি দুটি টেন্ডার আরিশা দেখুক আর সাথে আমি থাকব কোন কিছু দরকার হলে দেখায় দেব। আরিশা কি বল? দাদুভাই বোন আমার সাথে থাকলে অনেক সুরক্ষিত মনে করি ইনশাআল্লাহ কোন সমস্যা হবেনা। জানো তোমাদের দুজন কে কেন এতো বিশ্বাস করি দাদু মনি তোমরা দুজন দুজনে প্রতি এত ভালোবাসা যা যে কোন যুদ্ধ সহজে জয় করা সম্ভব।
মিটিং শেষ হতে দুপুর হয়েগেল বাড়ি থেকে খাবার আসল ড্রাইভার নিয়ে আসে প্রতিদিন।আমিরাদের পরিবারের যারা আছে তারা একসাথে খেতে বসে আতিফ চৌধুরী আছে সাথে। খাওয়া শেষ করে আমিরা সবাই একসাথে বসে এবং অফিসের কর্মচারিদের টেন্ডারের বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য একত্র করতে বলে এবং কয়েকজন করে গ্রোপে ভাগ করে দেয় কোন গ্রোপ কোন কাজ করবে তা বুঝিয়ে দেয়। কয়েক জন ইন্জিনিয়ার কে আবাসিকের ডিজাইন করা এবং কয়েক জনকে তথ্য সংগ্রহ করে টেন্ডারে যুক্ত করা এবং যা দরকার।
তবে টেন্ডারের টাকা ঠিক করবে আমিরার বাবারা।
বিকালের দিকে আতিফ চৌধুরী আমিরাদের সাথে চলে আসে একটু আগে। আরমান চৌধুরী পরে আসবে তাদের অনেক কাজ আছে তাই। বাড়ি পোঁছানোর পরে তারা পরিষ্কার হয়ে নিচে নামে বিকালের নাস্তার জন্য। সন্ধ্যার দিকে একটু বাহির হবে রুহিকে নিয়ে কারণ সারাদিন অফিসে ছিল তাই। এখন নাস্তা করে একটু বিশ্রাম নিবে।সন্ধ্যা ৭ টার দিকে তারা বাহির হয় একটু ঘুরাঘুরি করবে এবং শপিং করবে।

তারা জি.এস.সি মুড়ে যায় এবং সেখানে নোহা যুক্ত হয়। নোহা আপু আসসালামু আলাইকুম কেমন আছো? ভালো আছি তুমি কেমন আছো রুহি? ভালো আছি আপু। তারা সবাই বসে ফুসকা খায় এবং ঝালমুড়ি খাই। খাওয়া শেষ করে বালি আর্কেড এ চলে আসে এবং কিছু কিনা কাটা করে বাড়ির সবার জন্য কাপড় কিনে। তারপর চলে আসে। আগে নোহাকে বাড়ি নামিয়ে দেয় তারপর তারা বাড়ি যায়।
বাড়ি আসার পরে যার জন্য যা কিনেছে তা দিয়ে দেয় দাদু বাবা ভাইদের জন্য পাঞ্জাবি দাদি মা ফুফির জন্য শাড়ি সালমার জন্য থ্রিপিস বাকি কাজের লোকদের জন্য লুঙ্গী আর শাড়ি।

এবাড়ির লোকদের আচরণ বাড়ির কাজের লোকদের অনেক ভালো লাগে তাই তারা সহজে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।

(কপি কারা নিষেধ। কোন ভুল করে থাকলে ক্ষমা করবেন আশা করি। দয়া করে সাপোর্ট করবেন।)

 #ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী  #হুমাইরা_কাজল  #পর্ব -১০শুক্রবার বিকালে নিচে সোফায় আমিরা আর আরিশা গল্প করতেছে আর তাদের কিছু...
24/07/2026

#ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী
#হুমাইরা_কাজল
#পর্ব -১০
শুক্রবার বিকালে নিচে সোফায় আমিরা আর আরিশা গল্প করতেছে আর তাদের কিছু বিষয়ে কথা বলতেছে বড়রা রুমে। তখন বাড়ির কলিং বেল বাজে উঠে। আমিরা বলে তুই বোস আমি গিয়ে দেখি। আমিরা গিয়ে দরজা খুলে দেখে ফুফি দাড়িয়ে আছে। ফুফিকে সালাম দিল
কেমন আছো রুহি কই? ভালো আছি বলতে রুহি চলে আসে। আমিরাপু আমাদের বাড়িতে ঢুকতে দিবেনা। দুঃখীত ফুফি ভিতরে আসো। আরে তেমন কিছু না রুহি দুষ্টুমি করতেছে ভিতরে চল। আরিশা দেরি হচ্ছে দেখে দরজার কাছে যায় দেখতে আরে ফুফি সালাম দেয় কেমন আছো রুহি কেমন আছিস? আমরা ভালো ভাইয়া ভাবিরা কোথায়? আমিরা বলল তোমরা বসো আমি যায় ডেকে আনি। সালমা আপু চুলায় চা বসাও নাস্তা তৈরি কর।

আমিরা দাদা দাদি আর বাবা মাদের ডেকে আনে। সবাই চলে আসে আরমিন চৌধুরীর সাথে আলাপ আলোচনা করে। আমিরা বলে তোমরা বড়রা বসো আমরা ছোটরা আজকে নাস্তা তৈরি করে আনি। আরমিন চৌধুরী বলে পারবি করতে তখন আফরিন চৌধুরী বলে ওরা নাস্তা বানাতে পারে আমরা বাড়ির না থাকলে নিজেরা তৈরি করে নিজেরা খায়। সবিহা চৌধুরী বলে আপা ওরা মিলেমিশে করে নিবে সালমা আছে চিন্তা করবেন না। আচ্ছা যা সাবধানে রুহি বলে আমি যায় আপুদের সাথে। তখন মামা মামিরা বলে তুমি কেন কাজ করবে আগে নাস্তা করবে তারপর যাও। মামা তোমরা বড়দের সাথে আমি কি করব আর আমি আপুদের সাথে একটু গল্প করব। আচ্ছা যাও।
আমিরা ফ্রিজ থেকে রোল সমুসা বের করে আর সালমাকে পাকুড়ার জন্য যা লাগে তা বের করতে বলে। সালমা তা বের করে চুলায় তেল তুলে দেয় ভাজার জন্য। আরিশা নাস্তার জন্য প্লেট গুলো বের করে। আমিরা পাকোড়া তৈরি করে রাখে সালমা তেলে দিবে। সালমা চুলায় সবকিছু তৈরি করে আমিরাকে দেয় আমিরা আর আরিশা মিলে নাস্তার টেবিলে সবকিছু সাজিয়ে রাখে সাথে রুহি কিছু করতে চাইলে বলে করতে হবে না শুধু খাও আর কথা বল।

তারা সবকিছু ঠিক করে রেখে আরিশা বড়দের ডেকে আনে খাওয়ার জন্যে। সবাই খাওয়ার টেবিলে বসে পড়ে তখন আরমিন চৌধুরী বলে বাহ আমার আম্মুরা অনেক বড়ো হয়ে গেছে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। রুহি বলে তোমাদের জন্য কিন্তু করলে দুষ না করলে দুষ। তখন সবাই হেঁসে উঠে। তখন বড়রা বলতেছে আরে দুষ্টামি করতেছে, আর বিয়ে একদিন না একদিন করতে হবে। তখন আতিফ চৌধুরী বলল তোরা থাম আগে নাস্তা করে নেয়। বলে সবাই একসাথে খেতে বসে আমিরা সালমা কে খাওয়ার জন্য বলে নিজে বসে পড়ে। সবার নাস্তা করা শেষ হরে সালমা চা নিয়ে আসে। আমিরা আরিশা রুহি নাস্তা শেষ করে কপি নিয়ে উপরে যাবে আড্ডা দিবে কিছুক্ষণ।
এ-র মধ্যে আমান চলে আসে নিচে ফুফিকে আর রুহি দেখে সালাম দেয় বলে ফুফি কেমন আছো? আরমিন চৌধুরী বলল ভালো আছি তুই কেমন আছিস আমান? ভালো। আয় সাথে খেয়ে নেয়। আমান নাস্তা করার জন্য বসে পড়ে চেয়ারে। আমিরারা উপরে চলে আসে কপি নিয়ে। তো রুহি কি খবর কেমন চলতেছে? ভালো।

তখন রোহানের ভিডিও কল আসে রুহির মোবাইলে। রুহি সালাম দেয় কেমন আছো ভাইয়া? রোহান বলে ভালো তোর কি খবর? আমি ভালো আছি আমরা এখন নানুবাড়িতে। কখন আসলি কিছুক্ষণ আগে। রোহানের পাশে আমির ছিল এবং শুনতে পাই। রোহান বলে মামা-মামীরা কোথায়? নিচে আর তুই কোথায়? আমি আমিরা আর আরিশা আপুদের সাথে। এটা শুনে আমির মোবাইল নিয়ে বলে রুহি কেমন আছো? ভালো ভাইয়া। তুমি কেমন আছো? আমি ভালো আছি। আমিরাকে দাও রুহি আমিরাকে দেয় মোবাইল টা আমির বলল আরিশা কই আরিশা আসে দুই বোন একসাথে মোবাইলেরদিকে থাকায়। তখন আমির বলে বোনেরা কেমন আছো? দুবোন একসাথে বলে ভালো আছি ভাইয়া। তখন রোহান দূর থেকে মোবাইলের দিকে তাকাই থাকে। তৃপ্তির সাথে তার মনের মানুষ কে দেখে।
তখন আমিরা বলে ভাইয়া তুমি কেমন আছো? ভালো আছি। আমির বলল বাড়ির সবাই কেমন আছে? আরিশা বলে সবাই ভালো আছে ভাইয়া। তখন আমিরা বলে রোহান ভাইয়া কেমন আছে? রোহান ভালো আছে। তোমরা দেশে আসবে না? এখন যাব না দেখি সামনে কাজ না থাকলে যাব। আচ্ছা ভালো থেকো বলে রুহি কে মোবাইল দিয়ে দেয় আমিরা। আর আমির রোহান কে মোবাইল দিয়ে দেয়। রুহি কিছুক্ষণ কথা বলে রেখে দেয়।
___________

ফিনল্যান্ডের রোভানিয়েমি শহরে

রোহান মোবাইল টা বুকে নিয়ে চুপ করে বসে থাকে। শালা আমার বউকে আরেকটু দেখাতে পারলি না। আমির বলল তুই আবার শুরু করলি। করব না সেই ছোট থাকতে বউকে নজরে রাখছি। আমি এখন মেজ আব্বু কে বলে বিয়ে দিয়ে দেব তারপর তুই এখানে বসে বসে কাঁদবি। এ-ই শালা তোর আমার পক্ষ নিয়ে কথা বালবি তা না করে আমার বিরুদ্ধে কথা বলিস সব সময়। তোকে আমার বোন দিবনা। দেখব কিভাবে না দিস।
তখন শাহীর আসে তাদের রুমে তোরা কি করিস বাইরে চল রাত হয়েছে খেতে আয়। আমির চল বলে রুমের বাইরে যায় খাবার টেবিলে বসে পড়ে। তখন এরিকা চলে আসে এরিকা বলে কাল সবাই মিলে অফিসে গেলে ভালো হয়। তোরা সবাই পরিবারের ব্যাবসা দেখাশোনা করস এখানে তেমন সময় দিতে পারস না। তখন শাহীর বলল হ্যা কাল অফিসে যাব। যা যা কাজ আছে তা দিয়ে দিস এখন অনিক কে,যেন কাল অফিসে সবকিছু সহজে ঠিক করে করতে পারি। এরিকা বলল আমির আর রোহান তো এখানে থাকে প্রায় অফিসে আসে। আমির বলল কি আর করার দাদা ভাই বলছে আর বাবারা পারিবারিক ব্যাবসা দায়িত্ব দিয়েছে আমাদের দুই ভাইকে। চাচ্চু একা আয়ান এখনো ছোট তাই আমরা সময় পাইনা।

শাহীর বলল কি আর করা এরিকা তুই আছিস আমাদের চিন্তা করার কোন কারণ নেই। এরিকা বলল আচ্ছা বাদ দেয় কাল সবাই অফিসে যায় কয়েকটা প্রজেক্ট এ-র মিটিং আছে তোরা প্রায় ভিডিও কলে মিটিং থাকিস আজ সরাসরি থাকলে বেশি ভালো হবে। এরিকা বলল আমাদের এতো বড় ব্যাবসা এখানে সবকিছু করতে হয়। যদি তোরা সময় দিতে পারিস তাহলে কয়েকটি শাখা খুলে ব্যাবসায় পরিধি বড় করা যেত এবং কয়েক ধরনে ব্যাবসা যুক্ত করা যেত। আমাদের বর্তমান ব্যাবসা হচ্ছে রয়েল স্টেট এর ব্যাবসা। শাহীর বলল এটা নিয়ে আমি চিন্তা করতেছি। যেমন আমরা লাক্সারি হোটেল এ-র ব্যাবসা করতে পারি। যা আমাদের গোয়েন্দা কাজে নিরাপত্তা দিবে। বিভিন্ন দেশে যদি কয়ক টি হোটেল আমাদের থাকে তাহলে আমরা সহজে অন্যায়কারি করে টার্গেট করতে পারব। কারণ বেশির ভাগ খারাপ কাজের পদক্ষেপ হোটেলে বসে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে সেটা দেশ বা বিদেশ সম্পর্কে।
আমির বলল আমি এক্ষেত্রে আমি একমত তবে আমাদের কিছুটা সময় নেওয়া উচিত কারণ আমরা এখন আমাদের ব্যাবসায় পুরোপুরি সময় দিতে পারতেছিনা। এরিকা একা কতদিকে সামলাবে। শাহীর বলল ঠিক বলেছিস তবে আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পদক্ষেপ নিতে হবে।
শাহীর বলে আমি চিন্তা করতেছি মাইকেল কে ব্যাবসায় ঢুকাব আমাদের কিছুটা দায়িত্ব কমবে। এরিকা কি বলিস? এরিকা বলল তুই যা ভালো বুঝিস কর। শাহীর বলল আমাকে ভুল বুঝিস না। দেখ মাইকেল আমাদের সবার পরিচিত আমরা মাইকেলের উপর যতটা বিশ্বাস রাখতে পারি তা অন্য কেউ এ-র উপর সম্ভব না। এদিকে আমাদের পরিবারের ব্যাবসা সামলাতে হচ্ছে। আমির বলল এরিকা তুই মন থেকে সিদ্ধান্ত নে যেন তোর মনে না হয় আমরা তোর সাথে অন্যায় করতেছি। সময় নে তোর যেটা ভালো লাগবে সেটা জানা।
এরিকা বলল তোরা আমার বন্ধু তোরা তো আমার খারাপ করবিনা আর মাইকেল কে আমি চিনি পুরুষ হিসাবে বা বন্ধু হিসেবে খারাপ না। হয়তো সম্পর্ক দিক পরিবর্তনের কারণে খারাপ লাগলো। তোরা যা ভালো বুঝিস কর। আচ্ছা আমি বাড়ি ফিরে গেলে মাইকেলের সাথে কথা বলব রাজি হলে তোদের জানাব।
সবাই রাতের খাবার এবং আলোচনা শেষ করে আরো কিছুক্ষণ গল্প করল তাদের পরবর্তী কাজ সম্পর্কে।
___________

বাংলাদেশ চট্টগ্রাম
আমিরা, আরিশা, রুহি এবং আমান সবাই মিলে গল্প করে এবং তাদের সাথে ফিনল্যান্ড থেকে আয়ান আর আরাবি ভিডিও কলে যোগ দেয়। তারা অনেকক্ষণ গল্প করে সেখানে আমান আর আরাবি আবার ঝগড়া করে তখন রুহি বলে এ-ই টম এন্ড জেরি আবার শুরু করলি। আরিশা বলে রুহি তুই কিন্তু একদম ঠিক নাম দিলি। আমান বলল তোমরা কি আমার বোন নাকি শত্রু আরাবি আগে শুরু করছে। আরাবি বলল তুমি আগে শুরু করছ। আমিরা বলল হয়েছে তোরা থামবি। তখন তারা দুজনে মুখ বন্ধ করে।
আমিরা বলল রুহি কাল অফিসে যাবি আমাদের সাথে। আমি আর আরিশা যাব তুই আমাদের সাহায্য করবি। আচ্ছা যাব, না গেলে বাড়িতে একা একা ভালো লাগবে না আমান ও বাড়ি থাকবে না।
আচ্ছা এখন কিছু একটা করার দরকার কি করি। তখন আমান বলল আমিরাপু একটা সিনেমা দেখি কি বল। রুহি বলল এখন সিনেমা দেখে লাভ নাই কিছুক্ষণ পরে রাতের খাবারের জন্য ডাকবে। তাই খাবার খাওয়ার পরে সিনেমা দেখলে মজা হবে। এখন লুডু খেলি আমরা চারজন আছি। আমিরা বলল এসব খেলা আমার খেলতে ইচ্ছে করেনা।
রুহি বলল প্লিজ একবার খেললে হবে এ-র পরে রাতের খাবার খাওয়ার ডাক পরবে। তোর জন্য রাজি হচ্ছি। তারা শুরু লুডু খেলা শুরু করল আমান আর রুহি গুটি কাটাকাটি নিয়ে ঝগড়া করতেছে। এভাবে তাদের খেলা শেষ করে খাওয়ার জন্য ডাকা আসে তারা সবকিছু ঠিকঠাক করে নিচে যায়।
সবাই খাওয়ার টেবিলে বসে পড়ে তখন আতিফ চৌধুরী বলে রফিক কে আসতে বলিসনি আরমিন? বাবা তোমার জামাই সময় আছে নাকি। ডাক্তারির পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচালনার কাজ কর্ম দেখতে হয়। রোগী দেখা অপারেশন করা আবার হাসপাতাল পরিচালনা সবকিছু খেয়াল রাখতে হয়। আর রোহান আমিরের সাথে পড়তে গেছে সেখানে আমিরের সাথে কাজ করতেছে। রোহান যদি হাসপাতালের দায়িত্ব নিত তোমাদের জামাই একটু সময় পেত।
আতিফ চৌধুরী বলল কি আর করার, তবে আমার নাতিরা সময় অপচয় না করে কাজ করতেছে এটা আমাকে সবসময় গর্ব করে। আমিরা বলল বাবা আমরা কাল অফিসে যাব রুহি যাবে আমাদের সাথে। আমার নাতিদের জন্য আমি অফিসে কক্ষ ঠিক করে রাখছি যেতে অসুবিধা কোথায়? আমি আমার প্রত্যেক নাতির জন্য কাজের জায়গা নির্ধারণ করে রাখছি যেন তাদের কাজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে যে কোন সময় থেকে। দাদি বলল হয়েছে আর কাজের কথা বাদ দাও এখন খাওয়া মন দাও।

(কপি করা নিষেধ। ভুল হলে ক্ষমা করবেন। নতুন লেখক একটু সাপোর্ট করবেন।)

 #ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী  #হুমাইরা_কাজল পর্ব-৯আজ শুক্রবার তাই আমিরাদের বাড়ি সবাই উপস্থিত আছে কয়েক মিনিট আগে বাড়ির সব ...
16/07/2026

#ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী
#হুমাইরা_কাজল
পর্ব-৯

আজ শুক্রবার তাই আমিরাদের বাড়ি সবাই উপস্থিত আছে কয়েক মিনিট আগে বাড়ির সব পুরুষরা জুমা পড়ে মসজিদ থেকে আসল। এখন সবাই একসাথে খেতে বসে। বাড়ির ছেলেমেয়েরা পরে বসে তারা বড়দের সাথে বসেনা কারণ বড়দের সাথে বসলে দুষ্টামি করতে পারেনা তাই তারা পরে বসে। কারণ তারা একসাথে হলে কিছু না কিছু নিয়ে হাসাহাসি করবে। তবে অনেক সময় বড়দের কাছ থেকে বকা শুনে থাকে। তবে কেউ মন খারাপ করেনা।
কারণ তাদের পরিবার যেমন শাসন করে তেমন ভালোবাসে তবে কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। যদি কেউ অন্যায় করে তার শাস্তি পেয়ে থাকে।
এটা আতিফ চৌধুরীর আদেশ যত বড় লোক বা ধনী হওক না কেন যেন অন্যায়কে গ্রহণ না করে।
খাওয়ার টেবিলে যখন খাচ্ছিল আর কথা বলছিল তখন আমান বলল আমিরাপু বিকালে কোথাও ঘুরে আসি আজ ছুটির দিন এমনি সময় পাইনা। আজ না আগামী শুক্রবার যাওয়া হবে,কারণ আজ বিকালে ফুপি আসবে তাই কোথাও যাওয়া হবেনা সবাই কে বাড়িতে থাকরে ভালো হবে। তো রুহি আপু আসতেছে? হ্যা আমার সাথে কথা হয়েছে আসবে বলছে। তাহলে তো অনেক মজা হবে। আমিরাদের খাওয়া শেষ এখন যে যার মতো সময় কাটাবে।
__________________

ফিনল্যান্ডের রোভানিয়েমি শহরে

শাহীরের ঘুম ভাঙ্গল ফোনের রিংটোন এর আওয়াজে মায়ের কল আসল রিসিভ করল। আম্মু আসসালামু আলাইকুম কেমন আছো? ভালো আছি, তুমি কেমন আছো? আমি ভালো আছি। বাড়ি কবে ফিরবে? দুয়েকদিনের মধ্যে ফিরব। বোন কেমন আছে আর বাড়ির সবাই কেমন আছে ? বোন আর সবাই ভালো আছে। তোর সাথে কে কে আছে? আমার বন্ধুরা সবাই আছে, তখন আমির দরজায় নক করল আর বলল শাহীর নাস্তা করতে নিচে আয় আমরা অপেক্ষা করতেছি। আচ্ছা তোরা বস আমি আসতেছি একটু পরে। আচ্ছা তারাতাড়ি কর। ঠিক আছে। আফরোজা শেখ বলল এটা কি আমির ছিল? হ্যা। আমির কে সহ সবাই কে বাড়ি নিয়ে আসিস একদিন। আচ্ছা নিয়ে আসব কোন একদিন। এরিকা এখানে থকতে অনেক আসত এখন আসেনা। এখন সবাই এখানে রোভানিয়েমিতে থাকে তাই যাওয়া হয়না। আম্মু এখন রাখি নাস্তা করব পরে কথা বলব। ঠিক আছে রাখি সাবধানে থাকিস।
শাহিরা বলল আম্মু ভাইয়া কখন আসবে? দুয়েকদিনের মধ্যে আসবে। আম্মু আমি শিহাব সাথে কথা বলছি শারিন আপুর নাকি বিয়ে হবে এটা কি সত্যি। হ্যা তোর মেজ আব্বু তোর আব্বুর সাথে এ ব্যাপারে কথা বলছিল গতকাল সামনে ছেলে পক্ষ দেখতে আসবে ছেলে সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়েছে তোর আব্বুরা ছেলে ভালো আর পড়ালেখা শেষ করে বাবার ব্যাবসা দেখাশোনা করে, পরিবার ভালো। তাই সবাই মেয়ে কে দেখানোর জন্য রাজি হয়েছে। আম্মু আপুর বিয়ে হলে আমরা দেশে যাব না? তোর আব্বু কি বলে দেখি? আম্মু প্লিজ আব্বুকে রাজি করাও আমার দেশে যাওয়ার খুব ইচ্ছে কোনদিন যাওয়া হয়নি । আগে অনেকবার বলছি কিন্তু তোমরা বারন করে দাও।
তোমরা জান আমি আর তোমার আব্বু কেন দেশে যায়না। তারপরেও এ কথা বলার কোন কারণ হয় না শাহিরা। ঠিক আছে আর কোন কথা বলতেছি না এবার একটু রাগ কর না। শাহিরা মনে মনে বলল ভাইয়ার সাথে কথা বলে রাজি করাতে হবে যে কোন প্রকারে।

শাহীররা সবাই একসাথে নাস্তা করতেছে তারা সবাই মিলে একটা পিকনিক এ যাবে তাই এক সাথে নাস্তা করে তৈরি হবে তারপর বেরিয়ে যাবে। এবং গাড়ির মধ্যে প্রয়োজনীয় সকল জিনিস পত্র নেওয়া হয়েছে।

আম্মু কল করেছিলো তোদেরকে বাসায় যেতে বলছে তোরা যাবি? এরিকা বলল আন্টিকে দেখতেছিনা অনেক বছর হচ্ছে গেলে ভালো হবে তোরা কি বলিস। আমির বলল আমার একদম যাওয়া হয়নি সে কয়েক বছর আগে গিয়েছিলাম দুই তিন বার। রোভানিয়েমি শহরে আসার পরে আর যাওয়া হয়নি। তবে আন্টির সাথে মাঝেমধ্যে কথা হয় যাওয়ার জন্য বলে আমি হেলসিংকি শহরে গেলে যাব বলেছিলাম কিন্তু কাজের জন্য হেলসিংকি শহরে গেলেও তাড়হুড়োর জন্য তোদের বাসায় যাওয়া হয়নি সামনে আমরা সবাই মিলে যাব কি বলিস এরিকা রোহান। হ্যা এখন কাজের চাপ কম তাই সামনে যাব।
শাহীর বলর আচ্ছা সবকিছু ঠিক আছে এখন বের হও দেরি হয়ে যাচ্ছে পিকনিকে।
ফিনল্যান্ডের রোভানিয়েমি শহরের এক নির্মল সকাল। আকাশ ছিল নীল, আর চারদিকে সবুজ বন আর শান্ত পাহাড়ের সৌন্দর্য। শহরের কোলাহল থেকে দূরে, পাঁচ বন্ধু—শাহীর, আমির, এরিকা, রোহান ও অনিক—একটি স্মরণীয় পিকনিকে যাওয়ার পরিকল্পনা করল।
শাহীর তাদেন কালো রঙের SUV নিয়ে সবাইকে নিয়ে রওনা দিল। গাড়ির বিশাল প্যানোরামিক সানরুফ দিয়ে ল্যাপল্যান্ডের আকাশ আর পাইন বনের দৃশ্য সবাই মুগ্ধ হয়ে দেখছিল।
তাদের গন্তব্য ছিল রোভানিয়েমির কাছের শান্ত পাহাড়ি এলাকা ওউনাসভারা (Ounasvaara)। এই এলাকায় নিরিবিলি বন, সুন্দর ভিউপয়েন্ট এবং প্রকৃতির মাঝে পিকনিকের জন্য মনোরম পরিবেশ রয়েছে।
পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে তারা একটি কাঠের পিকনিক শেল্টারের পাশে বসে। সামনে দূরে নদী, চারদিকে পাইন গাছ, আর ঠান্ডা বাতাস যেন মনকে প্রশান্ত করে দিচ্ছিল। সবাই মিলে বারবিকিউ, স্যামন, ফল, কফি ও বিভিন্ন খাবার উপভোগ করল। গল্প, হাসি আর অসংখ্য ছবি তোলার মধ্যেই সময় কেটে গেল।
বিকেলের দিকে সূর্যের সোনালি আলো পাহাড়ের গায়ে পড়তেই পরিবেশ আরও মোহনীয় হয়ে উঠল। তখন শাহীর গিটার নিয়ে নিজের সুপ্ত অনুভূতির মোহনীয় দৃশ্য কল্পনা করে গানের মাধ্যমে প্রকাশ করে
(pehli najar main
Kaisa jaado kar diya
Tere ban baita
Hai Mere jiya...................)
সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনছিল। শাহীর গান শেষ করে আমির কে গিটার দিল গান করার জন্য আমির ও একটা গান করল। তারপর আমির বলল এখন চলে যাব কপি আর কিছু নাস্তা আনি খাওয়ার জন্য।

শাহীর অন্য মনস্ক ছিল তখন এরিকা জিজ্ঞেস করল এখনো ভুলতে পারলি না। শাহীর বলল মনে এমন ভাবে বসে গেছে চাইলে ভুলা সম্ভব না। কোন খবর পেয়েছিলি? না অনেক চেষ্টা করেছি। আমার ভাবতে অবাক লাগে তোর মতো ছেলে এমন মেয়ের পিছনে পড়ে আছে যার কোন খোজ খবর নাই। তোর জীবনে অনেক মেয়ে পাগলের মতো পড়ে থাকছে কিন্তু তুই কাউকে পাত্তা দিলি না।
জানিস এরিকা ঐ ছোট দৃশ্য টা আমাকে এমন ভাবে গ্রাস করেছে এ-র থেকে চাইলে বের হতে পরিনি। প্রথমে অনেক চেষ্টা করেছি ভুলার কিন্তু পারিনি। যদি এ জীবনে তাকে খুঁজে না পাস কি করবি? জানিনা কি করব কপালে কি আছে তবে শেষ চেষ্টা করব।

আমির আর রোহান আসল খাবার নিয়ে বলল তোদের মধ্যে কি এমন জরুরি কথা হচ্ছে আমাদের ছাড়া। শাহীর বলল তেমন কিছু না ছোট বেলার কয়েকটি কথা পড়েছে তা বলতেছি। ঠিক আছে এখন খেয়ে নেই যেতে হবে।
ফেরার আগে পাঁচ বন্ধু প্রতিজ্ঞা করল—জীবন যত ব্যস্তই হোক, প্রতি বছর অন্তত একবার তারা এই নিরিবিলি পাহাড়ে আবার একসঙ্গে পিকনিক করতে আসবে।
ফেরার পথে বিলাসবহুল গাড়িটি ধীরে ধীরে পাহাড়ি রাস্তা বেয়ে রোভানিয়েমি শহরের দিকে এগিয়ে চলল। গাড়ির ভেতরে বাজছিল প্রিয় গান, আর পাঁচ বন্ধুর মুখে ছিল একদিনের অসাধারণ স্মৃতির হাসি।

(কপি করা নিষেধ। ভুল হলে আশা করি ক্ষমা করবেন।নতুন লেখা গল্প সাপোর্ট করলে এগিয়ে যেতে পারব )

12/07/2026

#ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী
#হুমাইরা_কাজল
#পর্ব__৮

শাহীররা সবাই শাহীরের ফার্ম হাউসে ফিরে আসে। লিয়ন রাধুনি দ্বারা রাতের খাবার রান্না করে সবকিছু তৈরি করে রাখে। তারা সবাই পরিষ্কার হয়ে একসাথে খেতে বসে। এরিকা বলল অনেকদিন পরে আনন্দ করলাম। আমির বলল তোর সম্পর্ক ভাঙলো কেন আর বাঁকা হলি কেন। আরে বলিস না আমি একটু আনন্দ করার জন্য ক্লাবে গেলাম। সেখানে গিয়ে দেখি ঐ কাওয়ার্ড টা মেয়ে একটা নিয়ে মজা নিচ্ছে গভীর ভাবে আমি যখন ওকে ডাকলাম আমাকে উল্টো গালি দিল। পরে যখন আমাকে চিনতে পারে স্যরি বলে। আমি রাগের মাথায় মেইন পয়েন্ট এ কিক মারি। সব কিছু ক্লোজ হয়ে যায়। রোহান বলল তাহলে তোকে এতদিন চিট করতেছে। কি আর বলব।
শাহীর বলল তোকে বলছিলাম মাইকেল কে একটু সুযোগ দিতে, না তোর তো মাইকেলকে ভালো লাগেনা। শাহীর তুই আবার শুরু করলি আমি কি করব মাইকেলের প্রতি আমার কোন ফিলিংস আসেনা। এরিকা তোর জন্য আমি মাইকেলকে আমাদের সাথে দলে নি নাই। মাইকেলের সাথে আমার মাঝেমধ্যে কথা হয় এখনো তোর কথা বলে ছেলেটা সে ভার্সিটি থেকে তোকে পছন্দ করে কিন্তু তোর তাকে ছাড়া সবাই কে ভালো লাগে।
শাহীর তুই আমাকে এভাবে দুষ দিতে পারবি না। মাইকেল যখন আমাকে প্রপোজ করে তখন আমি রিলেশনে ছিলাম তারপরেও আমাকে বারবার বলতে থাকে, তখন আমার মাথা গরম হয়ে যায় বুঝাতে না পেরে ঝগড়া হয় । এটার জন্য আমার সাথে মাইকেলের বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে। এটা কি আমার দুষ।
শাহীর বলল আচ্ছা বাদ দেয় আমি তোকে দুষ বা জোর করতে ছিনা। আমার মনে হল তোর ছন্ন ছাড়া জীবনে মাইকেলের মতো জীবন সঙ্গী খুব দরকার। কারণ মাইকেল কে আমি সে ছোট থেকে চিনি তাই । ছেলেটা এখনো তোর আশায় আছে।
আমির বলল আচ্ছা আমরা এ-ই সুন্দর রাতে কষ্টের কথা স্বরণ না করে আনন্দ করতে পারি। রোহান বলল শালা শুরু করলি তুই আবার বলতেছোস কষ্টের কথা স্বরণ না করি। আমাকে শালা ডাকবি না আমার বোন তোর মতো ভিতু কে দিব না। দেখব কিভাবে আটকাবি। এরিকা বলল তোরা আবার শুরু করলি। তাদের এরকম খুনসুটির মধ্যে রাতের খাবার শেষ হল, সাবাই ওঠে সোফায় বসল শাহীর গিটার নিয়ে একটা গান করল (love me like you do)এটা শাহীরের পছন্দের গানের মধ্যে একটি।

তারা সবাই কপি খেয়ে রুমে শুতে চলে যা এ-ই ফর্মহাউজে নিচে তিন টা উপরে দুটি পাচটি বেডরুম আছে। নিচে রান্না ঘর, ড্রয়িং ও ডাইনিং রুম এবং তিনটি বেড রুম। উপরের তলায় মাঝখানে আড্ডা ও সিক্রেট রুমের দুই পাশে দুটি বেড রুম। শাহীরের রুমটা বড়ো এবং শাহীর নিজে ডিজাইন করে শাহীরের পছন্দের রং এর পুরো রুম সাদা রং-এর আর আসবাবপত্র কালো রং এ-র, মানে সাদাকালো। শাহীরের রুমে কিং সাইজের বেড বড় আলমিরা একটা ড্রেসিংটেবিল , প্রতেক রুমে কম আসবাবপত্র রেখেছে।
নিচে তিন রুমের মধ্যে একটিতে এরিকা আরেকটিতে আমির ও রোহান অন্যটিতে অনিক। শাহীর নিজের রুমে আছে। শাহীর কে আজ ও একটা দৃশ্য তাড়া করে যায়। শাহীর চিন্তা করতে ঘুমিয়ে পড়ে।
_________________
বাংলাদেশ চট্টগ্রাম :
আজ শুক্রবার বড়রা সবাই বাড়িতে আছে আজ ছুটির দিন তাই। আমিরা আর আরিশা আজ একটু দেরিতে উঠলো নাস্তার টেবিলে আসল এবং বসে পড়ে। আরিশা বড়ো আম্মু আমাদের কপি দাও। আফরিন চৌধুরী বলল আগে নাস্তা শেষ করো আনতেছি। মেজ ওদের গরুর মাংস টা গরম করে দিয়ে এমনি কম খাবার খায় দেখবি একটু পরটা খেয়ে কপি নিয়ে ওঠে যাবে। আচ্ছা আপা আমি দেখতেছি বলে চুলার উপর হাঁড়ি থেকে বাটিতে করে গরুর মাংস নিয়ে নেয় তারপর টেবিলের দিকে যায়। আর বুয়া সালমা কে বড়দের জন্য চা নিয়ে যেতে বলে সবাই এখন সোফা রুমে বসে আড্ডা দিচ্ছে, আমিরার বাবারা আর দাদা-দাদি। সাবিনা বলল

তোমাদের জন্য গরুর মাংস নিয়ে আসছি নাও। মেজ আম্মু আমাদের খাওয়া প্রায় শেষ। জানি তোমরা এটা বলবে আরেকটু খাও এরকম কম খাবার খায়। আম্মু আগে দিতে একটু বেশি করে খেতাম এখন সম্ভব না। আচ্ছা মেজ আম্মু এত করে বলতেছো যখন দাও একটু করে খায় বলে আমিরা মাংস আর পরটা নিল সাথে আরিশা নিল।
আমিরা আর আরিশা নাস্তা শেষ করে কপি নিয়ে বাবা সাথে গিয়ে বসে। আরমান চৌধুরী বলল আম্মুরা কেমন আছো এবং পড়ালেখা কেমন চলতেছে? ভালো আব্বু। আনাস চৌধুরী বলল আম্মুরা আগামী মাসে একটু অফিসে যেতে পারবে? কেন মেজ আব্বু কোন সমস্যা? না আগামী মাসের পরের মাসে একটা সরকারি বড় প্রজেক্টের কাগজ পত্র জমা দিতে হবে। অফিসের লোকজনদের সাথে তোমাদের ভালো বন্ডিং আছে এতো কম সময়ে তোমরা তাদের সাথে মিশে সহজে প্রজেক্টের সকল তথ্য সংগ্রহ করে ফাইল তৈরি করতে পারবে। পরে আমরা তোমার দাদার সাথে আলোচনা করে জমা দিব। তোমরা থাকলে আমরা একটু সহজে কাজটা এগিয়ে নিতে পারব। জোর করছি না তোমাদের ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে।
তামান্না চৌধুরী বলল তোদের বলি মেয়েদের কে বিয়ে দিবি না ব্যাবসা করালে হবে। আতিফ চৌধুরী বলল আমার নাতনিদেরকে এমন বাড়িতে বিয়ে দিব সেখানে তাদের বউ হিসাবে না মেয়ে হিসাবে দেখবে এবং তাদের দক্ষতা কে সম্মান করবে। তামান্না চৌধুরী আমি এভাবে বলিনি আমাদের বয়স হচ্ছে নাতি নাতনির বিয়ে সাদি দেখব না তাই। আমার দাদু মনিরা অনেক দক্ষ।

কি করব মা তোমার বড়ো নাতি তো বিদেশে চাচার এবং নিজের ব্যাবসা সামলাচ্ছে। আর এদিকে আমি আর মেজ আছি ছোটকে বলি মাঝে মধ্যে যেতে সে সময় পাইনা বাড়ি আসার অফিস তো অনেক দূর। আর আমিরা আর আরিশা মাঝেমধ্যে ব্যাবসায়ের কাজে সাহায্য করে থাকে তাতে আমাদের কাজ কিছুটা এগিয়ে যায়। আর মেয়েদের সময় হলে বিয়ে দিব তোমার চিন্তা করতে হবেনা। তত দিন না হয় আমাদের একটু সাহায্য করুক। আর আম্মুরা তোমাদের কাজে কোন সমস্যা হলে জানিও।

আমিরা বলল দাদাভাই আজ তো ছুটির দিন ফুপি কে আসতে বল ভালো লাগবে। আচ্ছা আমি ফোন করে বলব আসতে এমনি আসতেছে না অনেকদিন হচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেক কথাবার্তা হলো এবং ফুপিকে কল দিছে করে আসতে বলে বিকালে দিকে আসবে বলছে। আমিরাদের পরিবারের মেয়েদের অনেক সম্মান দেয় বাড়ির বউরা আগে অফিসের কাজে সাহায্য করত বাচ্চা হবার পরে বাড়ির কাজে ব্যাস্ত হয়ে যায় আর অফিসের দিকে নজর দেওয়া হয়নি।
আমিরা বাবাদের কাছ থেকে ওঠে এসে ছোট ভাই আমানকে নাস্তার টেবিল থেকে ওঠতে দেখে বলে তোর কি খবর? সপ্তাহের ছয় দিন তো ক্লাস কোচিং প্রাইভেট চলে যায়। তারা সবাই মিলে আরেক দিকের সোফায় বসে পড়ে আমান, আরিশা ও আমিরা।তখন আয়ান কল করে আমিরার ফোনে। সবাই একসাথে কথা বলে। আমিরা বলল এখন তো জানুয়ারি মাস সামনে তোদের ফাইনাল পরিক্ষা। আয়ান বলল আমান তোর এইচএসসি পরিক্ষার প্রস্তুতি কেমন? এ-ই তো ভালো আর ব্যাস্ত সময় পার করতেছি। আরাবি বলল ভালো করে পড় নাহলে ভলো রেজাল্ট পাবেনা। তোর চিন্তা করতে হবেনা নিজে ভালো করে পরিক্ষা দেয় আগে পাশ হবি কিনা দেখ। আমি তোর মতো গাদা না, তুই চাইলে গাদা হতে পারবি না তুই তো হবি গাঁদি হা হা হা। আমানের বাচ্চা.......

এ-ই তোরা আবার শুরু করলি আমিরাপু ও আমাকে গাঁদি বলছে আমান বলল তুই আগে শুরু করলি। আরিশা বলল হয়েছে থাম, তোরা সবসময় একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে পড়ে থাকিস পারিস ও বটে। আমিরা বলল তুই এখন যা গোসল করে জুমা নামাজের জন্য তৈরি হও আর বিকালে ফুপি আসবে তখন জমিয়ে আড্ডা দিবো। সবাই যে যার রুমে চলে গেল কিছুক্ষণ পরে বাড়ির পুরুষরা মসজিদে যাবে তারপর সবাই একসাথে খাবে।

(ভুল হলে ক্ষমা করবেন। নতুন গল্প লিখতেছি আশাকরি ভালো লাগবে)

 #ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী  #হুমাইরা_কাজল  #পর্ব : ৭আমিরা যখন ছেলে গুলোর সম্পর্কে গভীর চিন্তায় মগ্ন তখন হঠাৎ আমিরার ফোন...
10/07/2026

#ভালোবাসা_যখন_ন্যায়ের_সাথী
#হুমাইরা_কাজল
#পর্ব : ৭

আমিরা যখন ছেলে গুলোর সম্পর্কে গভীর চিন্তায় মগ্ন তখন হঠাৎ আমিরার ফোন বেজে ওঠল। ফোন হাতে নিয়ে দেখল ব্ল্যাক রোজ এর গ্রোপ এ কল দিচ্ছে। আমিরার তখন মনে পড়ে বিকালের দিকে বলছিল কথা আছে। তাই এখন কল আসছে। গ্রোপ কলে জয়েন হল তখন সবাই বলে উঠলো কি খরব আমিরা বলল আছে। বলল মামার ঐদিনের কথা নিয়ে চাচ্চুর সাথে কথা বললাম সেটা অনেক বড়ো সমস্যা রাজনীতিবিদরা জড়িত আছে এবং বিদেশি কেউ না কেউ জড়িত আছে। চাচ্চুরা প্রায় কাজ শুরু করে দিয়েছে এবং দরকার পড়লে আমাদের সাহায্য নিবে। আর আমাদের কাজ আমাদের করতে বলছে।
আর আজ সিবিচে যে ছেলে গুলোর কথা বলতেছি তারা সবাই বড়ো লোক বাবার অসভ্য সন্তান এবং অনেকের বাবা রাজনীতিতে আছে আমাদের যা করতে হবে তার সাবধানে করতে হবে। শিক্ষা এমন ভাবে দিতে হবে যে সারা জীবন মনে রাখে। আর আমাদের মনে রাখতে হবে মৃত্যু হচ্ছে সব চেয়ে সহজ শাস্তি। সবাই মনযোগ দিয়ে শুনল আর আমিরা করে সমর্থন করল। আমাদের এমন ভাবে এগোতে হবে যেন ওরা বুঝতে না পারে ওদের জীবনে কি থেকে কি হল। আর শাহিরা ওদের এক সপ্তাহ ওদের উপর নজর রাখবে আর কোথায় যায় কি করে আরও কোন জায়গায় একত্রিত হবে তা পূর্ণ খবর রাখবে।
আর শিহাব আর সামির ওদের পিছনে লোক রাখবে যেন সব কিছু জান তে পারি।
আমাদের এমন স্থান নির্বাচন করতে হবে যেন সব কয়টা একত্র হবে এবং একত্রে শাস্তি দিতে পারি। বিশেষ করে তারা যখন নোংরা খেলায় মেতে উঠে তখন যেন শাস্তির মুখোমুখি হয়। যেন তাদের পরিবার বাচিয়ে না নিতে পারে। সবাই একত্রে বুঝে গেল আমিরা কি করতে চাচ্ছে। তখন আমিরা বলল আমাদের হাতে এক সপ্তাহ সময় আছে। তারা আরও কিছুক্ষণ গল্প করল।
____________________

ফিনল্যান্ডের রোভানিয়েমি শহরে :

আমির বলল অনেক দিন হচ্ছে একটু এনজয় করতেছিনা আজ বিকালে একটু বাহির হলে মন্দ নই। শাহীর বলল আমি চিন্তা করতেছি একটা রেসের প্রতিযোগিতা দিলে কি হয়। তুই সবসময় অন্য রকম চিন্তা করিস,বরফে ঢাকা চারিদিকে কোন ধরনে দুর্ঘঠনা হলে কি করবি। এডভেঞ্চার না থাকলে জীবনে মজা লাগেনা। রোহান বলল ভাই সব ঠিক আছে কিন্তু এ অকালে আমার বউ বিধবা হয়ে যাবে তাই আমি এসবের মধ্যে নাই। আসলে তুই ভয় পাস,আমির তোর বোন দিবি এরকম মিতুর ডিম কে ছেহ আমার বোন হলে আমি জীবনে রাজি হতাম না। রোহান বলল আমি কি বলছি তোর বোন দিতে তাই তোর রাজি আমার লাগবে না। আমির বলল আচ্ছা তোকে আমি তো বলিনি বোন দিব তুই আগে থেকে বউ বউ করতেছিস লজ্জা লাগেনা। তুই কে? না করার আমি মামাদের এক মাত্র শান্ত সৃষ্ট ভাগ্নে না করার প্রশ্নে ওঠে না। দেখ আমি আমার বোন কে তোর বিরুদ্ধে উসকে দিবো।
এ-ই শালা একদম বাজে কথা বলবি না আমি এখনো ওকে প্রস্তাব দিই নাই, তার আগে আমার সংসার ভাঙবি না বলে দিলাম। আমার বিয়ে না হলে তোদের কারো বিয়ে হতে দিব না। শাহীর বলল তোর মতো আমরা বিয়ে পাগল না। আমাদের এখনো অনেক ধর্য আছে তাইনা আমির। তোমাদের জীবনে এমন কেউ আসেনি তাই ধর্য আছে বুঝতে পারছো অবুঝ বাচ্চারা। অনিক বলল বলল রোহান ভাই আমার স্যার বিয়ে না করলে আমি করব। এ-ই তো আমার মতো একজন পেলাম।
এ-ই অনিকের বাচ্চা তুই আমার আগে বিয়ে করতে পারবিনা আমার আগে বিয়ে করলে বাসর করতে দিবনা, তোর বউকে আমার বোন বানিয়ে রেখে দিব। স্যার আপনার বোন থাকতে আমার বউকে কেন বোন বনাবেন? তোকে কন্ট্রোল করব আর বাদর নাচ নাচাবো। স্যার আমি কি আপনার কোনকালে শত্রু ছিলাম? না তুই আমার বিপক্ষে কথা বললে শত্রু হবি তাই সাবধানে। আচ্ছা স্যার ' বস অলওয়েজ রাইট ' যেন মনে থাকে।
আমির বলল তোদের আজইরা কথা বাদ দেয় কখন রাইড দিবি বল? রাত দশটার দিকে তখন সবদিকে নিরিবিলি থাকবে তখন রাইড শুরো করব। আচ্ছা ঠিক আছে গেরেজ এ চল বাইক গুলো দেখি ঠিক আছে কিনা। শাহীর বলল ঠিক থাকবে কেয়ার টেকার লিয়ন কিছু দিন পর পর চেক করে রাখে আমরা কখন না কখন আসি তার ঠিক থাকে না তাই। আচ্ছা তারপরেও দেখে আসি বাহির হবার আগে যেন কোন ঝামেলায় না পড়ি।
চল নিচে যায় গেরেজে, এটা গেরেজ বললে ভুল হবে কারণ এখানে শাহীরের অর্ধেক বাইকের কালেকশন এতগুলো মধ্যে এখানে শাহীরের দুটো বাইক আছে যা কাউ কে দেয় না। বাকি গুলো নিতে পারে এবং অনেক সময় এখান থেকে নিয়ে বন্ধুরা চালায়। এখানে বন্ধুদের ও বাইক আছে একটা করে তারা এখানে রাখে কারণ তারা এখানে আসলে রাইড করে তাই। শাহীর তার পেছনে কাউকে তুলে না এটা শাহীরের অভ্যাস।
রাত নয়টা বাজতেছে তারা লিয়নকে কপি আর হালকা নাস্তা দিতে বলে এবং প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র গুছাতে যায়। তাদের সাথে তাদের আরেক বান্ধবী এরিকা জয়েন হবে। সে হচ্ছে হ্যাকার গত মিশনে জয়েন হতে পারেনি কারণ এরিকার একটা সমস্যা হয়েছিল ব্রেকআপ করছে তাই একটু সময় দিয়েছে শাহীর, এরিকা জোর করছিল কিন্তু শাহীর রাজি হয়নি। তাদের গ্রোপে পাঁচ জন আছে শাহীর, আমির, রোহান, এরিকা ও অনিক ( অনিক এসিস্টেন্ট হলেও বন্ধুর মতো ) এ-র বাইরে মাঝে মাঝে শাহীন ও সাহায্য করে শাহীন শাহীরের সম্পর্কে প্রায় জানে।
শাহীররা কপি পান করে সামান্য নাস্তা করে দশটার দিকে বেরিয়ে যায়। তারা তাদের গন্তব্যে পৌঁছে যায় সেখানে আগে থেকে এরিকা বসে আছে। তাদের রেইড হবে ১০ কি.মি. এবং পাহাড়ি রাস্তা এবং অনেক জায়গায় খাদ আছে। তবে তাদের এ রাস্তা মুখস্থ কারণ তারা কয়েকবার এখানে বাইক রেইস করছে। তারা কোন বার শাহীর কে হারাতে পারে না অনেক বার চেষ্টা করছে কিন্তু পরেনি। তারা অনেক বার মরতে মরতে বেচে যায়। কিন্তু তারপরেও বাইকের নেশা ছাড়তে পারেনা।

১০ কিলোমিটারের একটি নির্ধারিত রুটে দাঁড়িয়ে আছে পাঁচ বন্ধু।
তাদের দলের নেতৃত্বে শাহীর। সঙ্গে আছে আমির, এরিকা, রোহান ও অনিক। এরিকা দলের একমাত্র মেয়ে, আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ বাইক রাইডার।
সবাই হেলমেট পরে ইঞ্জিন স্টার্ট করল। ঠান্ডা বাতাসে ইঞ্জিনের গর্জন যেন রাতের নীরবতা ভেঙে দিল।
শাহীর বলল, — "এটা শুধু গতি নয়, নিরাপদে শুরু করে নিরাপদে শেষ করাই আজকের লক্ষ্য।"
সবাই মাথা নাড়ল।
১০... ৯... ৮...
কাউন্টডাউন শেষ হতেই পাঁচটি মোটরসাইকেল একসঙ্গে সামনে ছুটে গেল।
প্রথম দুই কিলোমিটার ছিল সোজা রাস্তা। শাহীরের পিছনে এরিকা এগোচ্ছিল। আমির খুব কাছেই ছিল, আর রোহান ও অনিক কিছুটা পেছন থেকে তাল মিলিয়ে আসছিল।
চার কিলোমিটারের মাথায় রাস্তা ঘন বনাঞ্চলের পাশ দিয়ে বাঁক নিল। হেডলাইটের আলোয় বরফে ঢাকা গাছগুলো যেন অন্য এক জগতের দৃশ্য তৈরি করছিল। সবাই নির্ধারিত গতি ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখল।
সাত কিলোমিটারে পৌঁছে শাহীর রিয়ারভিউ মিররে তাকিয়ে দেখল, সবাই ঠিক আছে। সে হাতের ইশারায় সবাইকে একসঙ্গে থাকার সংকেত দিল।
শেষ তিন কিলোমিটারে রাস্তা আবার সোজা হয়ে গেল। পাঁচ বন্ধু একই ছন্দে এগিয়ে চলল। কারও লক্ষ্য ছিল না অন্যকে হারানো; লক্ষ্য ছিল একসঙ্গে সুন্দরভাবে পথ শেষ করা।
অবশেষে ১০ কিলোমিটারের ফিনিশ লাইনে পৌঁছে সবাই নিরাপদে থামল। হেলমেট খুলতেই ঠান্ডা বাতাসে হাসির ঝলক ছড়িয়ে পড়ল।
এরিকা হেসে বলল, — "আজকের রাতটা মনে রাখার মতো।"
আমির উত্তর দিল, — "বন্ধুত্ব আর বিশ্বাস থাকলে প্রতিটি পথই সুন্দর হয়ে ওঠে।"
শাহীর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, — "রোভানিয়েমির এই রাত আমাদের শুধু গন্তব্যে পৌঁছায়নি, আমাদের বন্ধুত্বকেও আরও শক্ত করেছে।"
পাঁচ বন্ধু মোটরসাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে উত্তর আকাশের নীরব সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগল। তাদের কাছে এ রাতের সবচেয়ে বড় জয় ছিল—নিরাপদে শুরু, নিরাপদে শেষ, আর একসঙ্গে পথচলা।

শাহীরের দাদার নাম " শফিক শেখ "
তিন ছেলে এক মেয়ে।
১/শাহরিয়ার শেখ, স্ত্রী : আফরোজা শেখ
২/শোয়েব শেখ, স্ত্রী : রোমানা শেখ
৩/শাকিব শেখ, স্ত্রী : রুবি শেখ
৪/ শাইলা
শাহরিয়ার শেখের এক ছেলে এক মেয়ে #শাহীর_শেখ (২৮),শাহিরা শেখ (২২)
শোয়েব শেখের দুই ছেলে ও এক মেয়ে শাহীন শেখ (২৭), শারিন শেখ (২৫), শিহাব শেখ (২২)
শাকিব শেখ এক মেয়ে এক ছেলে শোভা শেখ (১৮), শোহান শেখ (১৬)

(ভুল হলে ক্ষমা করবেন আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে। )

Address

New Market/Lohagara
Chittagong

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Anjol Story - কাজল posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category