আইফা নুর ফাম্মী /Aifa Nur Fammi

আইফা নুর ফাম্মী /Aifa Nur Fammi শব্দের বুননে ফুটিয়ে তুলি মনের অবাধ্য সব ভাবনা। ��
আমি আইফা নূর ফাম্মী।স্বাগতম আমার পাতায়! ��

 #উপন্যাস_রক্ত_চন্দ্রের_ছায়া #আইফা_নুর_ফাম্মী অষ্টম পর্ব 📖​আইফা আইয়ানাকে কিছু বলছে আর আইয়ানা তার কথা শুনে হাসছে। নীল ভা...
31/07/2026

#উপন্যাস_রক্ত_চন্দ্রের_ছায়া

#আইফা_নুর_ফাম্মী



অষ্টম পর্ব 📖

​আইফা আইয়ানাকে কিছু বলছে আর আইয়ানা তার কথা শুনে হাসছে। নীল ভাবছে,

"এই দুই মানব-মানবী আইফা আর জাভিয়ান তার উপর হঠাৎ হঠাৎ এতো ক্ষেপে যায় কেনো?"

​আবার আইয়ানার দিকে চোখ গেলো তার,

"এই মানবী কতই না সুন্দর! মন চায় ওকে নিয়ে কোথাও পালিয়ে যাই।"

​ভাবনা শেষ করে গুটি গুটি পায়ে আইফা আর আইয়ানার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। আইফা তাকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,

​"থেকে যাওনি কেনো তোমার Boss-এর সাথে। সংসার পাততে এখানে!"

​আইফার কথা শুনে উঁচু স্বরে হেসে উঠলো আইয়ানা। নীল কিছু বলল না, বরং চোখ বড় বড় করে চেয়ে রইলো ওই সুন্দরী মায়াবতী তরুণীর দিকে!

​মনে মনে, "কী সুন্দরী এই মানবী! তার হাসি মাশাল্লাহ! এতো মায়াময় কেউ হয়? আমি পড়ে যাচ্ছি তার প্রেমে।"

​কিন্তু এর মাঝখানে জাভিয়ান এসে তাকে আর প্রেমে পড়তে দিলো না, বরং মাথায় একটা টোকা দিলো।
​তা দেখে আবার হেসে উঠলো তরুণী।

​"কিরে, তোরে না বলেছি যেতে? যাসনি কেন? (ফিসফিসিয়ে) আর এতো হা করে তাকিয়ে থাকিস না, মুখে মশা ঢুকে যাবে! ওই মেয়ে তোর দ্বারা পটানো সম্ভব না।"

​নীল জাভিয়ানের কথা শুনে চুপ হয়ে গেলো। জাভিয়ান আবার বলে উঠলো,

​"চলো, নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে?"

​"ভাই, আপনার গাড়ি কই?"

​"তুমি যেখানে তোমারটা রেখে এসেছ এখানে। চলো এবার হেঁটে হেঁটে চলো।"

​জাভিয়ানের কথা শুনে সবাই হাঁটা শুরু করলো। আইফা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে আইয়ানাকে পেয়ে, হেসে হেসে কথা বলে বলে যাচ্ছে দুজন। জাভিয়ান, নীল তাদের ঢং দেখছে। আইয়ানা হচ্ছে আইফার American friend।

বয়সে পার্থক্য হলেও বন্ধুত্বে সব বিফলে যায়। বাবা বাঙালি হওয়ায় বাংলা সে পারে, আর ছোট থেকে বড় হওয়া তার America-তেই। আইয়ানার বয়স ২৩, আইফার সাথে তার পরিচয় ফেসবুকে, ১ বছরের Friendship তাদের।

​প্রথম যখন বাংলাদেশে আসে, আইফার সাথে জাভিয়ানকে দেখে। সেখান থেকে জাভিয়ানের সাথে তার পরিচয় হয়। জাভিয়ানকে প্রথম দেখেই আইয়ানার ভালো লেগে যায়। যখন সে এটা জাভিয়ানকে বলতে যায়, জাভিয়ান মানা করে দেয়। তখন থেকে তারাও ভালো ফ্রেন্ড।

​আইয়ানা এবার বাংলাদেশে এসেছে ২ দিন হলো। আইফার সাথে Contact না থাকলেও জাভিয়ানের সাথে তার Contact ছিল। কারণ আইফা আর আইয়ানার বন্ধুত্বের সম্পর্কের আজ ১ বছর পূরণ হবে, তাই আইয়ানা আইফাকে Surprise দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তা আর হলো কই?
আইফা এমনিতেই অনেক Surprise হয়ে গেছে আইয়ানাকে পেয়ে, তাই আজকে সে অনেক আনন্দিত। তারা গাড়ির সামনে পৌঁছাতেই আইফা নীলকে গাড়ির Lock খুলতে বললে নীল বলে,

​"তুমি ভাইয়ের গাড়ি করে যাবে আর আইয়ানা আমার।"

​"কেন, কেন??"

​"আমি বলেছি তাই! আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। আশা করি বুঝতে পারেছেন?"

​"ওকে, বুঝেছি!"

​"ওকে, আইফা Bye, আমরা আবার তোমার Apartment-এ দেখা করছি।"

​নীল আইয়ানার জন্য রাজকুমারীদের মতো দরজা খুলে দিলো। আইয়ানা মুচকি মুচকি হাসছে! আর তা দেখে নীলের বুকের ভিতর তোলপাড় শুরু হয়ে যাচ্ছে।

আইফাও জাভিয়ানের গাড়িতে উঠে বসলো। জাভিয়ান নীলকে ইশারা দিয়ে বলল সে যেনো আগে চলে যায়। নীল আগে গাড়ি চালিয়ে চলে গেলে তারপর জাভিয়ানও তার পিছু পিছু গাড়ি নিয়ে যায়।
Car-এর মধ্যে দুজন নিস্তব্ধ মানুষ বসে আছে। কোনো কথা নেই, নেই কোনো অনুভূতি, আছে শুধু একটা নিস্তব্ধতা। এই নিস্তব্ধ পরিবেশ ভাঙতে জাভিয়ান কথা বলে উঠলো,

​"হুটহাট যেখানে সেখানে বের হয়ে যাওয়া এটা কি আপনার জন্মগত স্বভাব? যখন তখন যেখানে সেখানে বের হয়ে যান!"

জাভিয়ানের কথা এমনিতেই গা জ্বালা করে আইফার, হুটহাট রাগিয়ে দেয় লোকটা আইফাকে। আইফা এখন চুপচাপ, লোকটার সাথে কথা বলবে না আইফা। জাভিয়ান আবার বলে উঠলো,

​"মুখে কি কুলুপ এঁটে রেখেছেন? কথা বলছেন না কেন?"

​"আমার মুখ, আমার ইচ্ছা— আমি কথা বলব নাকি বলব না! তাতে আপনার সমস্যা কি?"

​"সবার সাথে কথা বলার সময় তো মুখ দিয়ে মধু ঝরে, আর আমার সাথে কথা বলার সময় মুখ দিয়ে এত করলার রস ঝরে কেন?"

​আইফা সাথে সাথে জবাব দিলো...,

​"আপনি করলার মতো তেঁতো তাই!"

​আইফার কথা শুনে জাভিয়ান রেগে গেলো না বরং তাকে যেনো Reward দেওয়া হয়েছে এমন উচ্ছ্বাসের সাথে বলতে লাগলো,

​"তেঁতোই ভালো বুঝেছেন Ms. Nur!"

​জাভিয়ান এটুকু বলে থেমে গেলো, আর ওদিকে আইফা রাগে লাল। এখন আইফা বলল,

​"তেঁতোই যদি এতো ভালো হয়! আমার তেঁতো কথাগুলো আপনার হজম করতে সমস্যা হয় কেন?"

​আইফার কথা শুনে জাভিয়ান ভেবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। এই মেয়ে ভালোই কথা প্যাঁচাতে পারে! মানুষের সাথে তর্ক কীভাবে করতে হয় তা এই মেয়ে থেকে শেখা উচিত। এবার জাভিয়ান আইফাকে একটু লজ্জা দেওয়ার জন্য রোমান্টিক ভঙ্গিতে বলে উঠলো,

"আপনি তো আর আমার মতো তেঁতো না, Little Panther! মিষ্টি জিনিস যদি তেঁতো হয়ে যায় তা কি আর খেতে ভালো লাগে?"

​আইফা জাভিয়ানের কথা শুনে ভড়কে গেল!

​"কী, কী বললেন আপনি?"

​"কই, কী বললাম? আপনি কিছু শুনলেন নাকি?"

​নিজের কথা বরাবরের মতো অস্বীকার করল লোকটা। আইফা চুপ হয়ে গেলো কারণ তার কাছে তো আর প্রমাণ নেই, নইলে এতক্ষণ চুপ থাকত না সে। আইফা আবার সুন্দরভাবে বসে গেলো। গাড়ি আগের মতোই চলতে লাগলো।

​সকাল ০৪:৪১— চারদিকে আজানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আজানের ধ্বনি সবাইকে জাগ্রত করছে, আহ্বান জানাচ্ছে নামাজের জন্য,

"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ..."

​জাভিয়ান আজানের ধ্বনি শুনতে পেয়ে তাদের গাড়ি যে এলাকায় আছে তার একটা পাশে মসজিদ দেখে গাড়িটা থামালো। গাড়ি থেকে নেমে আইফাকে জিজ্ঞেস করলো,

​"আমি নামাজ পড়তে যাচ্ছি, আপনি যাবেন কি?"

​"এই কাপড়ে কেমনে?"

​"Back seat-এ বোরকা আছে, Ready hizab-ও আছে। Ready হয়ে নেন, আমি অপেক্ষা করছি! 😌"

​আইফা জাভিয়ানের কথা মতো গাড়ির Back seat-এ গিয়ে কাপড়ের উপর বোরকাটা আর হিজাবটা পরে নিলো। হিজাবের সাথে নিকাব ছিল নিকাবটাও তুলে নিলো মুখের উপর, fully Ready হয়ে আইফা গাড়ি থেকে নামলো।
জাভিয়ান এখনো দাঁড়িয়ে আছে আইফার জন্য, আইফা নামতেই জাভিয়ান তার দিকে তাকালো। এক মুহূর্তের জন্য কোথায় যেনো হারিয়ে গেলো, আবার নিজের মধ্যে ফিরে এলো সে। ওই কাপড়ে যেমন লাগছিল তার চাইতে বোরকাতে তাকে বেশ মানিয়েছে!

​আইফা কাছে আসতে জাভিয়ান তাকে জিজ্ঞেস করলো,

​"Ready আপনি? আর কিছু করা লাগবে?"

​"না, আমি Ready চলুন।"

​আইফা আর জাভিয়ান একসাথে রাস্তা পার হলো, তারপর জাভিয়ান আইফাকে নারীদের নামাজ ঘরের দিকে এগিয়ে দিয়ে নিজেও নামাজ পড়তে গেলো, পুরুষদের নামাজের জায়গায়। কিছুক্ষণ পর নামাজ পড়ে জাভিয়ান বের হলো। আইফাকে দেখতে না পেয়ে নারীদের নামাজের স্থানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।

সামনে যায়নি, কিছুটা দূরে হয়েই দাঁড়িয়ে ছিল। কয়েকজন বের হলেও আইফা তো বের হলো না! জাভিয়ান একটু চিন্তিত হলো, কিন্তু মুখে তা প্রকাশ পেল না। নারীদের নামাজের স্থান, তাই ও ভেতরেও যেতে পারছে না।

​হঠাৎ, এক মেয়ে তার কাছে আসলো—বোরকা পরা, নামাজের ঘর থেকেই বের হলো। জাভিয়ানের কাছে এসে মেয়েটা জাভিয়ানকে খুব নরম সুরে জিজ্ঞেস করলো,

​"আপনি কি কাউকে খুঁজছেন?"

​জাভিয়ান তার কাছে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে পিছন ফিরে তাকালো। আকস্মিক এক মেয়েকে দেখে অবাক হলো! এতো সকালে তেমন একটা মেয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে আসে না, বেশির ভাগ এই ঘরে পড়ে। পরক্ষণে জবাব দিলো,

​"জি..."

​"কাকে...?"

​আইফা নামাজ ঘর থেকে বের হচ্ছিল হঠাৎ দুর থেকে দেখতে পেলো জাভিয়ান একটা মেয়ের সাথে কথা বলছে। আইফার কেমন জানি লাগলো, সে ধেয়ে গেলো! গিয়ে জাভিয়ানের কাঁধে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল,

​"আমাকে, হি হি হি, আমাকে!"

​জাভিয়ান আকস্মিক আইফা এমন গলা জড়িয়ে ধরাতে সামনে কিছুটা ঝুঁকে পড়লো! এইভাবে আইফার আগমনে ভয় পেলো ওই হিজাবি মেয়েটি। বুকে থুথু দিয়ে বলতে লাগলো,

​"এই কেমন উপস্থিতি রে বাবা...!"

​"আমি এভাবেই আসি, সমস্যা? সমস্যা কোনো তোমার?"

​মেয়েটি মুখ ভেঙচালো নাকি জানা নাই, মাস্ক পরে ছিল যে। কিন্তু পরক্ষণে কিছু না বলে জোরপূর্বক হাসি দিয়ে পাশ কেটে চলে গেলো। আইফা মেয়েটাকে ভেঙচিয়ে বলতে লাগলো,

​"আ... হা... আমার সোনা ময়নার পাখি রে... রাস্তায় যেই না ছেলে দেখেছে কথা বলতে চলে আসছে। তোমাগো মতো মেয়েরে আমি চিনি না মনে করেছো? যেই রাস্তায় একটা Handsome পোলা দেখছে ঠিক চলে আসছে কথা বলতে!"

​আইফা জাভিয়ানের অবস্থা বুঝতে পেরে সরে গেলো ওকে ছেড়ে। আবার মেয়েটার উদ্দেশ্যে বিড়বিড় করে বলতে লাগলো,

​"উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট, হুম! 😒"

​জাভিয়ান আইফার দিকে তাকিয়ে আছে এটা আইফা খেয়াল করেনি। সে জাভিয়ানের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো জাভিয়ান সন্দেহভাজন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আইফা ফিরতেই দেখতে পেল জাভিয়ান তার দিকে তাকিয়ে আছে, সে জিজ্ঞেস করলো,

"কী হয়েছে?"

​"কী হয়নি?"

​"মানে...?"

​"মানে আপনি এতক্ষণ কই ছিলেন? এত সময় লাগলো কেন? কী করছিলেন এত সময়!"

​"আরে... নামাজ পড়তে একটু সময় লাগে না?"

​"হ্যাঁ, যতটুকু সময় লাগার কথা তার চাইতে বেশি লেগেছে!"

​"আরে... এত সন্দেহ করেন কেন? আমি কী সব জায়গায় ঝামেলা পাকাই নাকি?"

​"হ্যাঁ, তাই তো দেখছি!"

​"আরে..."

​জাভিয়ান আইফাকে বলতে না দিয়ে নিজে বলতে লাগলো,

​"আমাকে এইভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে এসে জড়িয়ে ধরার কারণ কী?"

​আইফা ততমত খেয়ে গেলো! কেন ধরেছে সে নিজেও বুঝতে পারছে না। হঠাৎ একটা মেয়ের সাথে জাভিয়ানকে দেখে তার কেমন জানি লাগলো! মনে হলো জাভিয়ানের সাথে ওই মেয়ে ইটিশপিটিশ করতে আসছে, তাই তো আইফা এভাবে জড়িয়ে ধরলো। সে বলতে লাগলো,

​"আরে আপনি ওর মতো মেয়েদের চেনেন না! রাস্তা..."

​"রাস্তায় ছেলে দেখলে কথা বলতে চায়, তাদের কথার জালে ফাঁসাতে চায়, আর কিছু?"

​আইফা হা করে তাকিয়ে আছে! কী বলবে বুঝতে পারছে না, জাভিয়ান হুবহু তার নকল করল! কী বলবে বুঝতে না পেরে আইফা চুপ করে রইলো। ওর চুপ থাকা দেখে জাভিয়ান বলল,

​"এখন যাওয়া যাক? নাকি এখানে এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন?"

​"হ্যাঁ, চলুন।"

​"হুম, Good Girl।"

​আইফা আর কিছু বলল না। জাভিয়ান এবং আইফা গাড়ির দিকে এগলো। তারা ওখান থেকে প্রস্থান করলো, আইফা আর জাভিয়ান এখন গাড়িতে দুজনেই চুপ, এখন তারা গ্রাম side থেকে শহর এর side-এ চলে এসেছে।

​গাড়ির ভেতর দুজন নিস্তব্ধ মানুষ কিন্তু পরিবেশটা নিস্তব্ধ নয়। ব্যস্ত শহরের গাড়ির হর্ন, মানুষের চলাচল, কলকারখানার ধোঁয়া— একবারে বলতে গেলে দূষিত পরিবেশ! এক মুহূর্তে তাদের নিস্তব্ধতা কাটিয়ে দিলো একটা ছোট ছেলে এসে।

​হাতে তার একটা ছোট বালতি ভর্তি ফুল, এখানে একটা অদ্ভুত ফুল— সচরাচর এরা যারা ফুল বিক্রি করে তাদের কাছে দেখা যায় না। এটি একটি বিদেশি ফুল, এটি বাংলাদেশেও দেখা যায় না। দেখা গেলেও খুবই কম, তাও তীব্র ফুলপ্রেমীদের কাছে ছাড়া নেই, কিন্তু এই ছোট বাচ্চার কাছে আছে। ছেলেটা বলে উঠলো,

​"ভাই ফুল নিবেন ফুল?"

​জাভিয়ান ছেলেটার দিকে না তাকিয়েই মানা করে দিলো,

​"না, নিবো না।"

​ছেলেটা আবার বলে উঠলো,

​"ভাই নেন না একটা ফুল, ভাই নেন!"

​জাভিয়ান এখন ছেলেটার দিকে তাকালো। ছেলেটাকে আবার মানা করতে যাবে, তখন জাভিয়ান দেখতে পেলো বালতিতে থাকা ওই ফুলটা। নাম: Hyacinth bulb flower, আইফার পছন্দের ফুল! জাভিয়ান ফুলটা দেখে আর মানা করল না। জিজ্ঞেস করলো ছেলেটিকে,

"দাম কত?"

​"গোলাপ ফুল মাত্র ৫০ টাকা ভাই।"

​"উহুম, গোলাপ না, ওই ফুলটা।"

​হাতের ইশারায় দেখালো জাভিয়ান। ছেলেটা বলল,

​"ওহ, ওই ফুলডা! ওইডা তো কেউ লই না। আপনে নিছেন যে।"

​"হুম, কত?"

​"বেশি না, একটা চল্লিশ টাকা দিলে হইবো।"

​"একটা না, সব।"

​"সব লইবেন?"

​"হ্যাঁ, সব।"

​"আইচ্ছা, আইচ্ছা, সব ৫০০ টাকা দিলে হইবো।"

​ছেলেটা সব Hyacinth flower গুছিয়ে নিলো। জাভিয়ানকে ফুলগুলো দিতেই জাভিয়ান তার wallet থেকে দুইটা কচকচে এক হাজার টাকার নোট বের করে দিলো। জাভিয়ানকে দুই হাজার টাকা দিতে দেখে ছেলেটা বলতে লাগলো,

​"না, না, এতো টাকা লাগবো না, পাঁচশত টাকা দিলে হইবো ভাই।"

​"নাও, খুশি হয়ে দিলাম।"

​ছেলেটা আর কিছু বলল না, নিয়ে নিলো টাকাগুলো। তার চোখে-মুখে এক আনন্দ ছেয়ে গেলো। ছেলেটা চলে গেলো। ট্রাফিক জ্যামও ছাড়লো, জাভিয়ান গাড়ি টান দিলো।

​কিছু দূর যেতেই জাভিয়ান আইফাকে ফুলগুলো এগিয়ে দিলো। এক হাতে গাড়ি চালাচ্ছে, অন্য হাতে ফুল ধরে আইফার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,

​"নেন।"

​"কী?"

​আইফা জাভিয়ানের দিকে তাকালো। এতগুলো ফুল দেখে সে অবাক হলো! জাভিয়ান কখন নিলো এই ফুল? রাস্তার দিকে মন স্থির করে বসে ছিল সে, তাই খেয়াল করে নি। তাও আবার এই ফুল, "Hyacinth bulb flower"!

​এটা বেশিরভাগ ইউরোপ কান্ট্রিতে হয়ে থাকে, কারণ এটা ঠান্ডা পরিবেশ ছাড়া হয় না। আর ইউরোপ কান্ট্রির বেশিরভাগ দেশই শীতকালীন দেশ। আইফা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,

​"এতো ফুল! কোথা থেকে নিলেন?"

​"ওই একটা ছেলে যাচ্ছিল ফুল নিয়ে, ওর থেকে নিলাম।"

​"এই ফুল?"

​"হ্যাঁ, আমিও অবাক হয়েছি, পরে নিয়ে নিলাম।"

​"ওহ।"

​"নিবেন? না কোনো সমস্যা হচ্ছে? সমস্যা হলে বলেন, ফেলে দিই ফুলগুলো!"

​আইফা জাভিয়ানের কথা শুনে রেগে গেলো আর মনে মনে বলতে লাগলো,

​"মনে মনে, বন্ধুর সুলভ আচরণ যখন করতেই পারে না, ওনার মুখে যখন কেউ মধু এই দেয় নি, তিঁতা করলা যখন ঠুসে খাইয়ে দিয়েছে, তাহলে ওই করলা-পানা মুখটা নিয়ে আমার সামনে এত আদিখ্যেতা করার কী আছে?"

আইফা রেগে যাওয়া সত্ত্বেও খুব শান্ত ভঙ্গিতে সরাসরি বলল,

​"যেহেতু ফেলে দেওয়ার জন্য নিয়েছেন, ফেলে দিন। আমাকে দিচ্ছেন কেন?"

​জাভিয়ান আর কিচ্ছু বলল না। জোরপূর্বক আইফার হাতে দিলো ফুলগুলো, আইফাও নিয়ে নিলো। আইফা এই প্রথম জাভিয়ানকে ভালোমতো দেখলো।

​তার চুল Soft Wolf Cut, গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, পরনে Gray Colour-এর পাঞ্জাবি। Gray Colour ছাড়া জাভিয়ানকে কখনো অন্য Colour পরতে দেখেনি আইফা।
ও সবসময় ভাবতো একটা Shirt নাকি এই লোকের, কিন্তু পরে নীল থেকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো জাভিয়ান Gray Colour ছাড়া অন্য Colour কখনো পরেনি আর পরবেও না।

ওর Gym করা Figure আর চোখ! তার চোখ বাকিদের থেকে আলাদা, পুরো rare "Olive Green eyes" অরণ্য-সবুজ নয়ন অন্ধকারে অদ্ভুতভাবে স্থির থাকে। চোখ দুটোতে এমন এক শীতলতা থাকে যা মানুষকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সত্য বলতে বাধ্য করে।

​আইফা নীল থেকেই আবার জানতে পারে যে জাভিয়ান এখানে জন্ম নেয়নি। তার মা বাংলাদেশি হলেও তার বাবা ছিলেন Spain-এর Mafia দলের একজন সদস্য।
তার মা জানতো না এটা, পরে যখন জানে তখন জাভিয়ান ৪ বছরের শিশু।
এরপর তার বাবার সাথে অনেক তর্কবিতর্ক হয়, পরে আর না পেরে জাভিয়ানের বাবাকে Divorce দিয়ে নিজের ছেলেকে নিয়ে নিজের দেশে ফিরে আসেন জাভিয়ানের মা "এলিজা মেহরাম"।...

________________________________________________

[ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ ।আজকের পর্বটি ভালো লাগলে লাইক করুন কমেন্ট করুন।ভালো লাগলে ও বলুন না লাগলে ও বলুন।এতে আমার জন্য গল্পটা লিখতে সুবিধা হবে। আজকের পর্ব টা আমি একটু বড় করে দিলাম। গল্প আরো চলবে। আপনাদের আগ্রহ দেখে আমি একটু একটু অনুপ্রাণিত হচ্ছি..... যদি ভালো response পায় তাহলে পরবর্তী পর্ব টিও দিবো ।কষ্ট করে আমাকে ভুলার দরকার নেই... প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে মনে রাখুন জাভিয়ান কে। এতদিন আমার পরীক্ষা থাকায় আমি গল্প দিতে পারি নি.... এখন থেকে আবার দিবো, ধন্যবাদ ]

#চলতি.....

 #উপন্যাস_রক্ত_চন্দ্রের_ছায়া #আইফা_নুর_ফাম্মী সপ্তম পর্ব 📖গাড়ি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। বাইরের অন্ধকার আর কুয়াশা যেন আই...
19/06/2026

#উপন্যাস_রক্ত_চন্দ্রের_ছায়া

#আইফা_নুর_ফাম্মী



সপ্তম পর্ব 📖

গাড়ি দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে। বাইরের অন্ধকার আর কুয়াশা যেন আইফার মনের ভেতরের ধোঁয়াশাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সে বারবার পেছনের ঘটনাগুলো মেলানোর চেষ্টা করছে। কিছুতেই মাথায় ঢুকছে না, কীভাবে কোনো পারফিউম ছাড়া শাড়ি থেকে অমন তীব্র অথচ মিষ্টি ঘ্রাণ আসতে পারে! তাছাড়া জমিদার বাড়ির সেই অদ্ভুত পরিবেশটাও তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে।

​মনে মনে, "ওই ঘ্রাণ ওই জানালা থেকে পরে যেতে নেওয়া, ওই চুল খুলে যাওয়া, এতো শক্ত করে বাঁধলাম তাও খুলে গেলো, আর ওই আয়নাই দেখা লোকটা, হ্যাঁ! ওই লোক..."

​হঠাৎ নীল break চাপতেই আইফা সামনের দিকে ঝুঁকে পড়লো আর তার ধ্যান ভাঙলো। সে নীলকে কিছু বলতে যাবে, ঠিক সে সময় নীল বলে উঠলো,

​"ধ্যান ভেঙেছে বাজপাখির ? এত কী রাজ্যের ভাবনা নিয়ে বসেছো, তুমি একটু বলবে?"

​আইফা ওর কথায় একটু বিরক্ত হলো, কিন্তু আর কিছু বলল না। কিছু বলবে মনে করেছিলো, তাও বলল না। আইফা জানে নীলকে যদি আইফা গালিও দেয়, তাও নীল তাকে কিছু বলবে না; কারণ জাভিয়ান ওকে বলে রেখেছে আইফা যদি রেগে যায়, তাহলে যেন এমন ভাব করে যে আশেপাশে কেউ নেই। তাই সে চুপ রইলো। আর নীল থামতেই আইফা ধিরে করে বললো,

​"আমরা এখন কোথায় আছি?"

​নীল আইফার চোখ-মুখ কুঁকড়ানো দেখে তাকে কিছু বলতে চাইলো, আবার পরক্ষণে কি ভেবে আর কিছু বলল না। আইফা আবার প্রশ্ন করলো,

​"আমরা কোথায় নীল?"

​নীল তার চোখ বন্ধ করে কি যেনো ভাবলো, অতঃপর বলল,

​"আমরা এখন ফটিকছড়িতে আছি। তুমি এক ঘণ্টা যাবত ভাবনায় ডুবে আছো, তাই ব্রেক দিলাম।"

​"Oh, ফটিকছড়ি চলে আসছি?"

​"হ্যাঁ, তোমার কি ফটিকছড়ি আসার কথা ছিলো নাকি? আর ফটিকছড়ি কই যাবো এখন?"

​"হ্যাঁ, একটু অপেক্ষা করো যাবো আমরা এক জায়গায়।"

​"কোথায় যাবো আগে বলে দিলে ভালো না?"

​"তোমার কি মনে হয় আমি এতো বোকা? তুমি যে তোমার Car-এ Tracker chip আর তুমি তোমার Phone-এ যে Mr. Zavian কে Call-এ রেখেছো তা আমি জানবো না?"

​নীল আমতা আমতা করে বলতে লাগলো,

"Boss...আমায় পাঠিয়ে ছিলো তোমার সাথে কথা বলার জন্য কিন্তু তুমি কথা না বলে আমায় নিয়ে চলে এসেছো তাই তখন থেকে Boss Call-এ।"

​"Oh, তাই! আমি শুনে খুশি হলাম যে Mr. Zavian না ঘুমিয়ে চোখের ঘুম হারাম করে আমার জন্য জেগে আছে। এখন আর জেগে থাকতে হবে না আপনাকে। আর Tracker-টি আমি ফেলে দিলাম। অযথা খোঁজাখুঁজি করবেন না। আমার কাজ সম্পূর্ণ হলে আমি আসবো। Bye।"

​জাভিয়ান ওই প্রান্ত থেকে কিছু বলতে চাইলো কিন্তু তার আগেই আইফা জাভিয়ানকে কিছু বলতে না দিয়ে নীলের হাত থেকে phone টা নিয়ে Call কেটে দিলো। আর নীলকে বলল,

​"গাড়ি স্পীডে নাও, থামিও না! খুব তাড়াতাড়ি যেতে হবে। আমার গন্তব্য খুবই কাছে, চলো দেরি হচ্ছে আমাদের।"

​নীল হতভম্ব হয়ে আইফার দিকে তাকিয়ে আছে। আইফা কখনো এমন Rudely behave করেনি, তো আজ কেন এমন করছে ও? নীল কিছু বুঝতে পারছে না।

জাভিয়ানের সাথে তার বরাবরই একটু ঝগড়া লেগেই থাকে, কিন্তু ট্র্যাকার, কলে রাখা নিয়ে কখনো প্রতিবাদ করেনি। তো আজ কেন এত গোপনতা কি এমন গোপন কাজে যাচ্ছে ও? নীল আর কিছু না ভেবে Car start করলো। রওনা হলো ফটিকছড়ির পুরনো জমিদার বাড়ির উদ্দেশ্যে। কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছেও যায় ফটিকছড়ি উপজেলার ভুজপুর ইউনিয়নে।

রাস্তার এক পাশে গাড়িটা পার করালো নীল। আইফাই বলেছে ওকে গাড়িটা দাঁড় করাতে, বাকি পথটা হেঁটে যাবে ওরা। রাস্তাটা খুব অদ্ভুত, অনেক নীরব-নিস্তব্ধ। আইফা আর নীল হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ আইফার চোখ পড়ে।

একদিকের তাল গাছের পাশে কে যেন একটা দারিয়ে আছে। আইফা স্পষ্ট করে দেখতে পেলো, লোকটা তার দিকেই তাকিয়ে আছে। একরকম রাগান্বিত চোখে তাকিয়ে আছে, চোখগুলো লাল হয়ে আছে।

​"নুর...!"

​হঠাৎ নীলের ডাকে আইফা পিছনে তাকিয়ে দেখে, নীল হোঁচট খেয়ে নিচে পড়ে আছে। আইফা হাসবে নাকি কাঁদবে কিছুই বুঝছে না। আইফা নীলকে তাড়াতাড়ি করে তুললো।

​"কিরে, তুমি কেমনে পড়লে?"

​"আরে, হঠাৎ হোঁচট খেলাম।"

​"সাবধানে চলতে পারো না?ভাগ্য ভালো কাদা নেই, নাহলে! কাঁদামাটি একাকার হয়ে যেতো।"

​এটা বলে আইফা হাসতে থাকে, কিন্তু পরক্ষণেই আইফার মনে পড়ে ওই তালগাছের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকটার কথা। আইফা সাথে সাথে ওদিকে তাকায়; কেউ নেই, কোথায় গেলো এই এক মুহূর্তে! আইফার ভাবান্তর মুখটা দেখে নীল জিজ্ঞাসা করলো,

​"কী ভাবছো এভাবে?"

​"কিছু না, চলো দেরি হচ্ছে।"

​আইফার গম্ভীর মুখমণ্ডল দেখে নীল আর কিছু বলল না। পরে ব্যথা পেয়েছে ঠিকই কিন্তু এতটা ও না, তাই চলতে অসুবিধা হচ্ছে না, কোমর ধরে আইফার পিছন পিছন হাঁটতে লাগলো। হাঁটতে হাঁটতে আইফা একটা বড় গেটের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।

আইফাকে দেখে নীলও থামলো। আইফা দাঁড়ানোর সাথে সাথে গেটটা খুলে গেলো এক ঝঙ্কা (ঝড়ো) হাওয়ায়। এই ঝঙ্কা হাওয়ার সাথে আকাশের অবস্থাও খারাপ হতে লাগলো।

​এ কেমন আবহাওয়া? খুব জোরে জোরে বাতাস বইতে থাকে, এ যেন কালবৈশাখীর ঝড়! বৃষ্টি নেই, কিছু নেই, কিন্তু ওই বাতাস যেন সব তছনছ করে দেবে। এই ঠান্ডার দিনে এমন বাতাস দেখে আইফা কোনো রকম অবাক হলো না; ও মনে করলো এমন বাতাস হওয়া স্বাভাবিক।

আইফা সামনে হেঁটে ভেতরে চলে গেলো। নীল আইফার পিছু পিছু হাঁটছে। আইফা একটা দরজার সামনে এসে দাঁড়ালো। দরজাতে হাত রাখতেই দরজাটা খুলে গেলো। আইফা ভেতরে ঢুকতে যাবে, ঠিক সে সময় তার পা বরাবর এসে পড়লো একটা মরা কাক। আইফা খুব হকচকিয়ে গেলো, সে দুই পা পিছিয়ে গেলো।

এই কেমন দৃশ্য! নীল অবাক; সে আইফাকে এক হাতে পেছনে টান দিলো। সাথে সাথে আইফা যেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ছিলো, ওই জায়গায় একটা বাড়ির ভাঙা স্তূপ পড়লো। একটু হলে আইফার জীবন নিয়ে টান পড়তো! আইফা তাকিয়ে রইলো, কিন্তু কোনো Reaction দিলো না।

আইফা জমিদার বাড়িতে পা রাখলো; ওর পিছু পিছু নীলও আছে। খুব নীরব পরিবেশ, গা ছমছমে ভাব! পুরো গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠছে নীলের। আইফা এমন জায়গায় আসার জন্য তার Safety নষ্ট করে দিলো! আইফা চারিপাশে আর একবার দেখে নিলো।

পুরো অন্ধকার বাড়িটা, অন্ধকার পরিবেশের সাথে তার চোখগুলো খাপ খাওয়াতে মিনিট দুই-এক লাগলো। সকালে যখন এসেছিলো তখন এমন ছিলো না; কিছু একটার পরিবর্তন লক্ষ্য করলো আইফা। সাথে সাথে Trouser-এর Pocket-এ থাকা Torch-টা বের করে On করলো।

কিছু সূত্র খুঁজছে আইফা, পেয়েও গেলো সে। সকালে এসে যে আয়নাটা সে দেখেছিলো, সে আয়নাটা এখন আর নেই! কোথায় গেলো? সে এদিক-ওদিক খুঁজলো কিন্তু পেলো না। আর এদিকে নীল তার Torch-টা জ্বালিয়ে জায়গাটা চেনার চেষ্টা করছে; কখনো কি সে এখানে এসেছে? নীল এই সুযোগে জাভিয়ানকে কল করার চেষ্টা করলো, কিন্তু হলো না; বাড়ির ভেতরে সিগন্যাল নেই।

সে বাইরে গিয়ে কল দিতে যাবে, সে সময় কিছু পড়ার আওয়াজ শোনা গেলো। আইফাও শুনলো, এগিয়ে গেলো সিঁড়ির পাশে। দুজনে দেখে হতভম্ব! বেশ বড় একটা ছবি ফ্রেম করা, ওই পুরনো দিনের মতো ছবিটা বেশ পুরনো দেখে বোঝা যাচ্ছে।

ধুলোতে ভরা, দেখে কিছু বোঝা যাচ্ছে না কিসের ছবি এটি। আইফা নিচে পড়ে থাকা ছবিটির কাছে গিয়ে বসলো, নীল দাঁড়িয়ে আছে। আইফা হাত দিয়ে ধুলো সরাতেই দেখতে পেলো একটি Date... ইংরেজি অক্ষর আর সংখ্যায় গোটা গোটা করে লেখা;

​"19 December 1948"

​ইংরেজ শাসন শেষ হওয়ার ১ বছর পরের ছবি! আইফা কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলো। তারপর কী জানি ভেবে পুরোটা মুছতে লাগলো। তখন হঠাৎ কেউ তার নাম ধরে ডাকলো, খুব চেঁচিয়েই ডাকলো,

"আইফা!"

আইফা আর নীল পিছন ফিরে তাকালো। দেখলো কে যেন জমিদার বাড়ির দরজাটা খুব জোর দিয়েই খুললো! কুয়াশা ভরা, কিছু দেখা যাচ্ছে না। আইফা তার হাতে থাকা Torch-টা দরজার দিকে করলো; দেখলো জাভিয়ান সামনে দাঁড়িয়ে! আইফা কিছুটা অবাক হয়ে নীলের দিকে তাকালো। নীলের দিকে তাকিয়ে সে বুঝতে পারলো নীল এটা করেনি। আইফা আবার জাভিয়ানের দিকে তাকালো। জাভিয়ান ওর কাছে এসে এক ঝটকায় ওর হাত টেনে উঠিয়ে নিলো ছবিটির সামনে থেকে।

আইফা হেঁচকা টানে তাল সামলাতে না পেরে জাভিয়ানের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে। নীল "আ...!" করে তাকিয়ে রইলো। জাভিয়ানও তাল সামলাতে না পেরে মেঝেতে পড়ে গেলো আর আইফা তার উপর। আইফা জাভিয়ানকে দেখে তাড়াতাড়ি করে উঠতে গেলে আবার হুমড়ি খেয়ে পড়লো জাভিয়ানের উপর।

জাভিয়ান প্রথমে যে ব্যথাটা পায়নি, এখন আইফা হুমড়ি খেয়ে পড়াতে দ্বিগুণ ব্যথা পেয়েছে। জাভিয়ানের চরম রাগ উৎপন্ন হলো। নীলকে তাদের দিকে হা... করে তাকিয়ে থাকতে দেখে রাগে বিস্ফোরিত হলো জাভিয়ান। নীলকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠলো,

​"এভাবে কী তাকিয়েই থাকবে নাকি উঠাবেও? পরে মরে আছি এখানে!!"

​নীল আর কোনো কথা না বলে আইফাকে হাত ধরে উঠালো। তারপর যখন জাভিয়ানের হাত ধরতে যাবে, জাভিয়ান নীলকে রাগ দেখাতে দেখাতে রাগে কিড়মিড় করে নিজের পাঞ্জাবি ঠিক করতে করতে নিজে নিজে উঠে পরলো। নীল বুঝতে পারলো না জাভিয়ানের এর এতো রাগের ব্যাপারটা। আইফা জাভিয়ানকে এক পলক দেখে প্রশ্ন করে উঠলো,

​"আপনি জানলেন কী করে আমরা এখানে? আমি তো ট্র্যাকার ফেলে দিয়েছিলাম।"

​জাভিয়ান এখন শান্ত হয়ে গেলো। আইফার সঙ্গে আছে সে আজ ২ বছর ছুঁই ছুঁই, কখনো রাগ দেখিয়ে কথা বলেনি জাভিয়ান। আজও তার অন্যথা হলো না! আইফা ছোট সে জানে, কিন্তু তার মাইন্ড তার ট্যালেন্ট সব বড়দের থেকে একটু বেশি। সে ঠাণ্ডা হয়ে আইফাকে জবাব দিলো,

​"Why, little Black Panther! আপনি একটা ট্র্যাকার ফেলতে পারেন, আমার দশটা way থাকতে পারে না? হুম। 🤫 "

​আইফা আর কিছু বলল না। পিছনে তাকিয়ে ছবিটা দেখতেই দেখলো ছবিটা পিছনে নেই! জাভিয়ান চোখের ইশারায় নীলকে কিছু বলল। নীলও চোখের ইশারায় তার জবাব দিলো। এর মধ্যে আইফা চেঁচিয়ে বলে উঠলো,

​"ছবিটা কই?"

​"কিসের ছবি?"

নীল বলে উঠলো। তার কথা শুনে আইফা হতবাক! কী বলছে ও? নীলও তো দেখেছিলো যখন ছবিটা পড়েছিলো। আইফা বলল,

​"কোন ছবি মানে? একটু আগে যেটার ধুলো মুছলাম আমি!"

​"কই, তুমি তো মাটিতে বসে কী খুঁজছিলে মনে হলো।"

​"মিথ্যে কথা একদম বলবে না নীল! আমি যা দেখেছি ঠিক দেখেছি।"

​নীলকে থামিয়ে দিয়ে জাভিয়ান বলে উঠলো,

​"ও যা বলছে ঠিক বলছে। আমি এসে দেখলাম আপনি পাগলের মতো নিচে কিছু খুঁজছেন, তাই তো টেনে তুললাম।"

জাভিয়ানের পাগল বলতেই চটে গেলো আইফা।

​"আপনি কী বলতে চাচ্ছেন, Mr. Zavian? আমি পাগল?"

​"আমি আপনাকে পাগল বলিনি, শুধু বোঝাতে চেয়েছি।"

​"কী বোঝাতে চেয়েছেন? আমি বুঝেছি! তাহলে শুনে রাখুন, আপনি পাগল, আপনার Full family পাগল, আর আপনার সব মানুষগুলো পাগল।"

​"আমার মানুষদের মধ্যে কিন্তু আপনিও পড়েন, নুর! 😏"

​আইফা আর কিছু বলল না, রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে নীলের দিকে তাকালো। নীল আইফার দিকে তাকাতেই আইফা চেঁচিয়ে বলল,

​"কী এখানে দাঁড়িয়ে থেকে কী দেখছো? এত রঙ-তামাশা না দেখে যাবে এখান থেকে ! নাকি এখানে থাকতে চাও? থাক তুমি তোমার Boss-কে নিয়ে এখানেই সংসার পাতো, আমি গেলাম।"

​"আরে আরে দাঁড়াও, আমি আসছি!"

​আইফা রাগে ফোঁস ফোঁস করতে করতে বাড়ির বাইরে চলে গেলো। নীল পিছু যেতেই জাভিয়ান তার পিছন থেকে কলার চেপে ধরলো,

​"কিরে শালা, তোরে তো ধরাই যায় না। আজকাল বেশি...! উড়তেছস।"

​নীল তার বত্রিশ পাটি দাঁত বের করে হেসে বলতে লাগলো,

​"হিহিহিহিহি, ভাইইইই..."

​"চুপ!!"

​নীল একটু চমকে উঠলো। জাভিয়ান আবার বলল,

​"শোন, নুর আমার সাথে যাবে আর তুই আইয়ানাকে নিয়ে, OK?"

​"আইয়ানা এসেছে?"

​"হ্যাঁ, বাইরে দাঁড়িয়ে আছে, যা।"

​"OK Boss, Apka Hukum Sarahoper! 😁"

​এই বলেই নীল বের হয়ে গেলো। নীল বের হতেই জাভিয়ান পিছনে সিঁড়ির উপরটায় তাকালে দেখতে পেলো দুটো চোখ তার দিকে তাকিয়ে আছে; রক্তলাল চোখগুলো রাগে জ্বলজ্বল করছে! জাভিয়ান পিছন থেকে চোখ সরিয়ে এক ঠোঁট বাঁকা হাসি দিয়ে বলে উঠলো,

​"তোমার ওই মিথ্যে ভয় অন্য কাউকে দেখিয়ো। ওগুলো আমার উপর কাজ করবে না। এখানে না আসার জন্য তুমি যে আর কী কী করবে ওটা দেখার বাকি আছে শুধু আমার!😏"

​এইটুকু বলেই জাভিয়ান খুব শান্ত ভঙ্গিতে বের হয়ে গেলো। দেখতে দেখতে ওই জলন্ত লাভা-র মতো চোখগুলো এক নিমিষেই নিভে গেলো; মিশে গেলো ওই অন্ধকারের ভিড়ে।

​নীল বের হয়ে দাঁড়ালো জমিদার বাড়ির দরজার সামনে। আইফা আর আইয়ানাকে দেখলো দূরে দাঁড়িয়ে আছে, জমিদার বাড়ির গেট-এর সামনে।

[ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ ।আজকের পর্বটি ভালো লাগলে লাইক করুন কমেন্ট করুন।ভালো লাগলে ও বলুন না লাগলে ও বলুন।এতে আমার জন্য গল্পটা লিখতে সুবিধা হবে। আজকের পর্ব টা আমি একটু বড় করে দিলাম। গল্প আরো চলবে। আপনাদের আগ্রহ দেখে আমি একটু একটু অনুপ্রাণিত হচ্ছি..... যদি ভালো response পায় তাহলে পরবর্তী পর্ব টিও দিবো, ধন্যবাদ ]

#চলতি.....

15/06/2026

আইফা 🐾 আর জাভিয়ান 🩶🪻

#উপন্যাস_রক্ত_চন্দ্রের_ছায়া

#আইফা_নুর_ফাম্মী

 #উপন্যাস_রক্ত_চন্দ্রের_ছায়া #আইফা_নুর_ফাম্মী ষষ্ঠ পর্ব 📖রাত ০১:০২। রিয়াদ বারান্দার রেলিং ঘেষে দাঁড়িয়ে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি...
10/06/2026

#উপন্যাস_রক্ত_চন্দ্রের_ছায়া

#আইফা_নুর_ফাম্মী



ষষ্ঠ পর্ব 📖

রাত ০১:০২। রিয়াদ বারান্দার রেলিং ঘেষে দাঁড়িয়ে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়ছে। এই শীতের দিনে হঠাৎ বৃষ্টির আগমনে মায়ায় ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিক।
আজ যেন বৃষ্টিগুলো কারো কষ্ট হয়ে ঝরে পড়ছে। শীতের দিনের কুয়াশা, তার ওপর হঠাৎ আসা বৃষ্টি— এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি করছে।

বৃষ্টির সাথে সাথে রিয়াদও একটু ভিজে নিচ্ছে। আজকে হঠাৎ মনটা কেমন আনচান করছে! নিজেকে আজ বড় একা লাগছে তার। আইফার কথা ভাবছে সে।

​মনে মনে, "কতই না মায়া ওই মেয়ের মধ্যে! কী দিয়ে তৈরি সে? এক অপরূপ মায়াবতী। তাকে পাওয়ার জন্য কী না করতে পারি আমি!"

​হঠাৎ পিছন থেকে কে যেন ডাক দিলো,

"রিয়াদ! এই রিয়াদ, কই তুই?"

ডাক শুনে রিয়াদ রুমে ঢুকে দেখে, আদ্রিয়ান হাতে দু কাপ কফি নিয়ে দাঁড়িয়ে।

​"হুম, বলো।"

​"কি বলবো আর, এই কি অবস্থা তোর! তুই তো পুরো ভিজে গিয়েছিস। ভাবলাম দুজনে বসে একটু কফি খাবো, আর তুই! যা, আগে কাপড় পাল্টে আয়।"

​আদ্রিয়ান বলার সাথে সাথে রিয়াদ আলমারি থেকে একটা T-shirt আর trouser নিয়ে washroom-এ ঢুকে গেলো।

খুব সময় নিয়েই Shower নিলো। washroom থেকে বের হয়ে দেখলো আদ্রিয়ান রুমে নেই। রিয়াদ আজকের রাতটা আদ্রিয়ানদের বাসায় থাকছে, কারণ তার বাবা-মা Business-এর কাজে Chittagong-এর বাইরে গিয়েছে; তাই ইয়াফিদের বাসায় তার থাকা।

এমনিতেও একলা বাসায় থাকতে তার Problem ছিলো না, কিন্তু ঠিক একই দিন আদ্রিয়ানের মা-বাবাও তাদের একটা আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াতে গিয়েছে। সেও যেতো, কিন্তু আইফাদের সাথে জমিদার বাড়িতে যাওয়াতে আদ্রিয়ান আর গেলো না। আদ্রিয়ানের জোরাজুরিতে থেকে গেছে রিয়াদ।

​যাই হোক,

রিয়াদ আদ্রিয়ানকে রুমে না দেখে নিচে নামলো। নিচে নামতেই দেখতে পেলো আদ্রিয়ান ড্রয়িং হলের সোফায় বসে আছে; হাতে তার Beer-এর can। আদ্রিয়ানের পাশের Tea টেবিলে একটা can রাখা।

রিয়াদ আদ্রিয়ানের কাছে গেলো। আদ্রিয়ান রিয়াদকে হাতের ইশারায় বসতে বললো। রিয়াদও বসে পড়লো আর জিজ্ঞেস বসলো,

"Coffee কই?"

​আদ্রিয়ান একটু দেমাগি সুরে মজা করেই বলে উঠলো,

"ধুর বেডা! তুই এইমাত্র ঢুকছিস। তোর বের হতে হতে coffee ঠান্ডা হয়ে গেছে, তাই তো আমি চলে আসছি। আর ওগুলোও আমি ফেলে দিয়েছি। তোর ইচ্ছা হলে নিজে বানিয়ে খা, না হলে আমার সাথে বসে Beer খা।"

​রিয়াদ আর কিছু না বলে তার রুমের দিকে রওনা হলো। কারণ সে জানে, এখন যদি এর পাশে বসে, তাহলে এ কথায় কথায় ঝগড়া করবে আর দুঃখের সাগর ভাসাবে। কারণ আজকে তার Breakup হয়েছে। আর যখনই আদ্রিয়ানের Breakup হয়, সে Beer-এর Bottle নিয়ে বসে আর ভুলভাল বকে।

রিয়াদ রুমে বসে আছে, হাতে তার এক জোড়া নূপুর।

​রাত ০২:১০। আইফার হঠাৎ ঘুম ভেঙে যায় একটা অদ্ভুত Smell-এ আর একটা অদ্ভুত স্বপ্ন দেখে। আইফা পাশে রাখা পানির গ্লাসটা নিয়ে পানি খেলো। আর ঘ্রাণটা এখনো পাচ্ছে। ঘ্রাণটা সুন্দর, কিন্তু এমন ঘ্রাণ সে আগে কখনো পায়নি। আর এমন কোনো Perfume-ও তার কাছে নেই। আর রাতে আইফা Perfume লাগিয়ে ঘুমায় না। আইফা ঘ্রাণটার উৎস খুঁজছে। বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো সে। শোবার ঘরের দরজা ​খুলে বের হলো, ড্রয়িংরুম-এ প্রবেশ করলো।

সে খেয়াল করলো ওই ঘ্রাণটা তার শোবার ঘর ছাড়া আর কোথাও পাচ্ছে না। সে আবার তার বড় শোবার ঘরটায় ফিরে এলো। ঘরের লাইট টা অন করতেই পাশেই থাকা ছোট ড্রেসিং রুম আর ছোট লন্ড্রি রুমটার দিকে তার চোখ গেল।

​ঘ্রাণটা অনেক মিষ্টি। আইফা উৎসটা খুঁজছে; প্রথমে সে ড্রেসিং রুমের ওয়ারড্রোব খুললো, সব জামাকাপড় ওলটপালট করে খুঁজলো। নাহ, এখান থেকে আসছে না। এরপর খাটের নিচে, দেয়ালের কোনায় কোনায় চোখ বুলালো।
লাস্ট পর্যন্ত সে ছোট লন্ড্রি রুমটার লাইট জ্বালিয়ে দেখলো। লন্ড্রি রুমে ঢুকতেই ঘ্রাণটা আরও তীব্র হয়ে উঠলো। তার চোখ পড়লো আধোয়া কাপড় রাখার লন্ড্রি বাস্কেটটার ওপর । তার শাড়ি; হ্যাঁ, শাড়িটা থেকেই আসছে ওই ঘ্রান টা । শাড়িটা হাতে নিলো আইফা । হ্যাঁ, এটা থেকেই আসছে। কিন্তু কীভাবে!

​মনে মনে, "আমি তো জমিদার বাড়িতে কোনো রকমের Perfume লাগিয়ে যাইনি, তাহলে?"

​তার হঠাৎ মনে পড়ে যে তার জমিদার বাড়িটা নিয়ে Research করার কথা ছিলো। সে তাড়াতাড়ি করে Computer-এর সামনে বসে পরে। আইফা Computer-এর সামনে বসে ভাবছে কী লিখে search দিবে। আইফার হুট করে মাথায় এলো— জমিদার বাড়িটা 'পোড়া জমিদার বাড়ি' নামে পরিচিত।
সে চটপট typing করলো ​"পোড়া জমিদার বাড়ি"। সাথে সাথে পুড়ে যাওয়া জমিদার বাড়ির অনেক ছবিসহ Details আসলো। কিন্তু যে জমিদার বাড়িতে তারা গিয়েছিলো, তার একটাও ছবি বা কোনো Details-ই সে পায়নি। সে খুঁজতে লাগলো।

Web-এ যতো গুলো জমিদার বাড়ি ছিলো সব দেখলো; কিন্তু একটাও তার যাওয়া জমিদার বাড়ির মতো না। তার অস্বস্তি হচ্ছে, কেমন জানি লাগছে তার! কেমন জানি রহস্যে ঘেরা জমিদার বাড়িটা।

​তার আর ইচ্ছে করছে না ঘরে থাকতে। শীতের রাত, হালকা হালকা কুয়াশা। বৃষ্টিটা থেমেছে অনেকক্ষণ হলো। আইফার বের হয়ে গেলো। তার গায়ে Turtleneck Top ও Cropped Trench Jacket আর office trousers। শীতের দিনে তার এগুলো পরতে ভালো লাগে। সে ঠিক করলো নীলের car-টা নিয়ে যাবে। তার কাছে নীলের car-এর চাবি আছে। ভালোই Driving পারে সে, Driving license অবশ্য নেই! আর এতো রাতে এমনিতেও কোনো Traffic Police থাকবে না, তাই এই রাতের সুযোগ সে নিচ্ছে।

​চাবি নিয়ে বের হলো আইফা। দরজা লাগিয়ে পিছন ফিরে দেখে নীল এদিকেই আসছে। নীলের পরনে আছে একটা খয়েরি রঙের হাতকাটা T-shirt আর Cargo Shorts। আইফা বোঝে না এই শীতের দিনেও এই ছেলে এতো ছোট ছোট প্যান্টগুলো কেমনে পরে! আইফা মনে মনে বলতে লাগলো,

"আমি বুঝি না এই ব্যাটা এত শীতের মধ্যেও কেমনে এই ছোট ছোট প্যান্টগুলো পরে! আবার নামও রেখেছে Cargo Shorts 🙄! আবার পাতলা একটা T-shirt-ও পরেছে, এই ব্যাটার কি ঠাণ্ডা লাগে না 🤨?"

​সে Phone টিপতে টিপতে আইফার সামনে এসে দাঁড়ালো। আইফা তার দিকে একটু বিরক্ত চোখেই তাকিয়ে আছে। নীল এখনো আইফাকে খেয়াল করেনি; কারণ, তার পুরো Focus তার Phone-এর দিকে— যেন কত রাজ্যের কাজ তার মোবাইলে! নীল যখনই Calling bell চাপার জন্য উপরের দিকে তাকালো, অকস্মাৎ আইফা কে দেখে সে ভূত দেখার মতো করে লাফিয়ে উঠলো,

"আ...!"

​আইফার কোনো হেলদোল নেই। আইফা দুই হাত কোমরে রেখে সেই একই ভাবভঙ্গিতে তাকিয়ে আছে। নীল বুকে হাত দিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

"এই... তোমার কি আমাকে মারার প্ল্যান আছে নাকি? এভাবে কোনো মানুষ তার বাসার দরজার সামনে এইরকম ভূতের মতো দাঁড়িয়ে থাকে 😟?"

​আইফা মুখে একটু বিরক্তি নিয়েই বললো,

"আমি থাকি, Do you have any Problem?"

​"তাই বলে এভাবে?"

​"তুমি দেখতে পাওনি এটা তোমার ব্যর্থতা 🙃।"

​"Oh, তাই নাকি? 🙁"

​"হ্যাঁ, এখন বলো এখানে কেন এসেছ?"

​"Um..."

​"কী দরকার?"

​"একটা জরুরি কাজ..।"

​"আচ্ছা পরে বলো।"

​"একটু বেশি জরুরি...।"

​"বললাম তো না, কথা পরে। এখন আমার সাথে চলো।"

​"কই যাবো?"

​"পোড়ো বাড়ি।"

​"এত রাতে?"

"হুম।"

​"পোড়ো বাড়ি? ওটা কই? আর কেনই বা যাবো?"

"এত প্রশ্ন কেন করো তুমি? তোমায় পরে বলবো সব আমি। যাবে এখন তুমি?"

নীল বলে উঠলো,

"বস জানলে কিন্তু রাগ করবে !"

আইফা পিছন ফিরে তাকালো নীলের দিকে,

"জাভিয়ানকে বলার কোনো দরকার নেই। আর উনি জানলেই বা আমার কী! আমি কি ওনার কেনা গোলাম নাকি?"

​"Okay, Okay don't be angry, bird."

​"চুপ।"

​"Okay, চলো। কিন্তু আমি কি এইভাবে যাবো নাকি তুমি দাঁড়াও, আমি টুক করে চেঞ্জ করে আসি?"

​"না, একদম না।"

​"কিন্তু, এইভাবে কীভাবে যাবো আমি?"

​"এতক্ষণ থাকো নাই? এখনও থাকবে।"

​"😒 hum."

​"এমনি গাড়িতে একটা শার্ট আর প্যান্ট আছে, ওগুলো পরতে পারো তুমি।"

​​"আম..."

​"আর কোনো কথা নয়, লেট হয়ে গেছে খুব। চলো এখন।"

​"Okay, Okay cool down."

​তারপর আইফা নীলের দিকে রাগি চোখে তাকিয়ে, ওকে মুখ ভেংচি দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলো। Car এর পেছন থেকে শার্টের Button লাগাতে লাগাতে নীল সামনে আসছে। আইফা হঠাৎ নীলের দিকে তাকাতেই তার Gym করা six packs গুলো ওর চোখে পড়তেই আইফা ছিঃ ছিঃ করে উঠলো আর মনে মনে বলতে লাগলো,

মনে মনে, “ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ! আস্তাগফিরুল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! শরম, লজ্জা, হায়া কিছুই নেই। হাজারটা মেয়ে ওর এগুলো দেখছে, তাও কি লজ্জা করে না? ওহ, আমি তো ভুলেই গেছি—এই ব্যাটা তো নির্লজ্জ!”

নীল সামনে আসতেই আইফা বলতে লাগল,

“এই, তুমি পিছন থেকে সব ঠিক করে আসতে পারো না, হ্যাঁ? ছিঃ ছিঃ ছিঃ! এসব দেখিয়ে দেখিয়ে আসতে তোমার লজ্জা লাগে না? মেয়েরা যে তোমার এগুলোর দিকে চেয়ে আছে, ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ!”

আইফার এতসব কথা শুনে নীল মুখ বাঁকিয়ে হাসল এবং বলে উঠল,

“কেন গো, Angry Bird? জ্বলে নাকি গো? 😉 আর এমনিতেও এগুলো আমি দেখানোর জন্যই করেছি, Ms.। Six Pack লুকিয়ে রাখার জন্য কে করে? তুমি বললে এখনই এই shirt খুলে ফেলতে পারি। 😁”

“ছিঃ ছিঃ! এই, আমার কাছে আসবে না একদম, নাপাক বালক। দূরে সরো, দূরে সরো!”

“তোমার কাছে আর আমি? পেতনীর মতো দেখতে! দেখলেই মনে হয়, ওই যে পেতনীটা এখন আসবে আর আমার ঘাড় মটকাবে।”

“নীল......!!!”

“আচ্ছা, sorry sorry Ms., ক্ষমা করিবেন মাতাশ্রী। 😁 আর এখন এত রাতে—রাত ২টা বাজে—তুমি মেয়ে কোথায় পেলে? থাকলে ভালোই হতো, ওকে নিয়ে long drive-এ যেতে পারতাম। তোমার মতো boring person-এর সঙ্গে না গিয়ে।”

"এই, তোমার মুখ বন্ধ রাখবে?"

​"আরে, আরে! রেগে যাও কেন?"

​"রাগবো না তো কী?"

​"আচ্ছা চলো ম্যাম, আর রাগাবো না তোমায়।"

​"🙄 hum!"

​সব ঝগড়া শেষে আইফা আর নীল তার car-টা নিয়ে চলে গেলো আইফার উদ্দেশ্যে। আইফা সে তখন থেকে এক ধ্যানে বসে আছে, তার খেয়াল শুধু একটাই— কখন জমিদার বাড়ি যাবে ও। এতে সময় লাগছে কেনো, তার শুধু এই একটাই চিন্তা।

[ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ ।আজকের পর্বটি ভালো লাগলে লাইক করুন কমেন্ট করুন।ভালো লাগলে ও বলুন না লাগলে ও বলুন।এতে আমার জন্য গল্পটা লিখতে সুবিধা হবে। আজকের পর্ব টা আমি একটু বড় করে দিলাম। আপনাদের আগ্রহ দেখে আমি একটু একটু অনুপ্রাণিত হচ্ছি..... যদি ভালো response পায় তাহলে পরবর্তী পর্ব টিও দিবো, ধন্যবাদ ]

#চলতি.....

Address

Chittagong
4100

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আইফা নুর ফাম্মী /Aifa Nur Fammi posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category