31/07/2026
#উপন্যাস_রক্ত_চন্দ্রের_ছায়া
#আইফা_নুর_ফাম্মী
অষ্টম পর্ব 📖
আইফা আইয়ানাকে কিছু বলছে আর আইয়ানা তার কথা শুনে হাসছে। নীল ভাবছে,
"এই দুই মানব-মানবী আইফা আর জাভিয়ান তার উপর হঠাৎ হঠাৎ এতো ক্ষেপে যায় কেনো?"
আবার আইয়ানার দিকে চোখ গেলো তার,
"এই মানবী কতই না সুন্দর! মন চায় ওকে নিয়ে কোথাও পালিয়ে যাই।"
ভাবনা শেষ করে গুটি গুটি পায়ে আইফা আর আইয়ানার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। আইফা তাকে দেখে জিজ্ঞেস করলো,
"থেকে যাওনি কেনো তোমার Boss-এর সাথে। সংসার পাততে এখানে!"
আইফার কথা শুনে উঁচু স্বরে হেসে উঠলো আইয়ানা। নীল কিছু বলল না, বরং চোখ বড় বড় করে চেয়ে রইলো ওই সুন্দরী মায়াবতী তরুণীর দিকে!
মনে মনে, "কী সুন্দরী এই মানবী! তার হাসি মাশাল্লাহ! এতো মায়াময় কেউ হয়? আমি পড়ে যাচ্ছি তার প্রেমে।"
কিন্তু এর মাঝখানে জাভিয়ান এসে তাকে আর প্রেমে পড়তে দিলো না, বরং মাথায় একটা টোকা দিলো।
তা দেখে আবার হেসে উঠলো তরুণী।
"কিরে, তোরে না বলেছি যেতে? যাসনি কেন? (ফিসফিসিয়ে) আর এতো হা করে তাকিয়ে থাকিস না, মুখে মশা ঢুকে যাবে! ওই মেয়ে তোর দ্বারা পটানো সম্ভব না।"
নীল জাভিয়ানের কথা শুনে চুপ হয়ে গেলো। জাভিয়ান আবার বলে উঠলো,
"চলো, নাকি এখানেই দাঁড়িয়ে থাকবে?"
"ভাই, আপনার গাড়ি কই?"
"তুমি যেখানে তোমারটা রেখে এসেছ এখানে। চলো এবার হেঁটে হেঁটে চলো।"
জাভিয়ানের কথা শুনে সবাই হাঁটা শুরু করলো। আইফা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছে আইয়ানাকে পেয়ে, হেসে হেসে কথা বলে বলে যাচ্ছে দুজন। জাভিয়ান, নীল তাদের ঢং দেখছে। আইয়ানা হচ্ছে আইফার American friend।
বয়সে পার্থক্য হলেও বন্ধুত্বে সব বিফলে যায়। বাবা বাঙালি হওয়ায় বাংলা সে পারে, আর ছোট থেকে বড় হওয়া তার America-তেই। আইয়ানার বয়স ২৩, আইফার সাথে তার পরিচয় ফেসবুকে, ১ বছরের Friendship তাদের।
প্রথম যখন বাংলাদেশে আসে, আইফার সাথে জাভিয়ানকে দেখে। সেখান থেকে জাভিয়ানের সাথে তার পরিচয় হয়। জাভিয়ানকে প্রথম দেখেই আইয়ানার ভালো লেগে যায়। যখন সে এটা জাভিয়ানকে বলতে যায়, জাভিয়ান মানা করে দেয়। তখন থেকে তারাও ভালো ফ্রেন্ড।
আইয়ানা এবার বাংলাদেশে এসেছে ২ দিন হলো। আইফার সাথে Contact না থাকলেও জাভিয়ানের সাথে তার Contact ছিল। কারণ আইফা আর আইয়ানার বন্ধুত্বের সম্পর্কের আজ ১ বছর পূরণ হবে, তাই আইয়ানা আইফাকে Surprise দিতে চেয়েছিল, কিন্তু তা আর হলো কই?
আইফা এমনিতেই অনেক Surprise হয়ে গেছে আইয়ানাকে পেয়ে, তাই আজকে সে অনেক আনন্দিত। তারা গাড়ির সামনে পৌঁছাতেই আইফা নীলকে গাড়ির Lock খুলতে বললে নীল বলে,
"তুমি ভাইয়ের গাড়ি করে যাবে আর আইয়ানা আমার।"
"কেন, কেন??"
"আমি বলেছি তাই! আপনার সাথে আমার কিছু কথা আছে। আশা করি বুঝতে পারেছেন?"
"ওকে, বুঝেছি!"
"ওকে, আইফা Bye, আমরা আবার তোমার Apartment-এ দেখা করছি।"
নীল আইয়ানার জন্য রাজকুমারীদের মতো দরজা খুলে দিলো। আইয়ানা মুচকি মুচকি হাসছে! আর তা দেখে নীলের বুকের ভিতর তোলপাড় শুরু হয়ে যাচ্ছে।
আইফাও জাভিয়ানের গাড়িতে উঠে বসলো। জাভিয়ান নীলকে ইশারা দিয়ে বলল সে যেনো আগে চলে যায়। নীল আগে গাড়ি চালিয়ে চলে গেলে তারপর জাভিয়ানও তার পিছু পিছু গাড়ি নিয়ে যায়।
Car-এর মধ্যে দুজন নিস্তব্ধ মানুষ বসে আছে। কোনো কথা নেই, নেই কোনো অনুভূতি, আছে শুধু একটা নিস্তব্ধতা। এই নিস্তব্ধ পরিবেশ ভাঙতে জাভিয়ান কথা বলে উঠলো,
"হুটহাট যেখানে সেখানে বের হয়ে যাওয়া এটা কি আপনার জন্মগত স্বভাব? যখন তখন যেখানে সেখানে বের হয়ে যান!"
জাভিয়ানের কথা এমনিতেই গা জ্বালা করে আইফার, হুটহাট রাগিয়ে দেয় লোকটা আইফাকে। আইফা এখন চুপচাপ, লোকটার সাথে কথা বলবে না আইফা। জাভিয়ান আবার বলে উঠলো,
"মুখে কি কুলুপ এঁটে রেখেছেন? কথা বলছেন না কেন?"
"আমার মুখ, আমার ইচ্ছা— আমি কথা বলব নাকি বলব না! তাতে আপনার সমস্যা কি?"
"সবার সাথে কথা বলার সময় তো মুখ দিয়ে মধু ঝরে, আর আমার সাথে কথা বলার সময় মুখ দিয়ে এত করলার রস ঝরে কেন?"
আইফা সাথে সাথে জবাব দিলো...,
"আপনি করলার মতো তেঁতো তাই!"
আইফার কথা শুনে জাভিয়ান রেগে গেলো না বরং তাকে যেনো Reward দেওয়া হয়েছে এমন উচ্ছ্বাসের সাথে বলতে লাগলো,
"তেঁতোই ভালো বুঝেছেন Ms. Nur!"
জাভিয়ান এটুকু বলে থেমে গেলো, আর ওদিকে আইফা রাগে লাল। এখন আইফা বলল,
"তেঁতোই যদি এতো ভালো হয়! আমার তেঁতো কথাগুলো আপনার হজম করতে সমস্যা হয় কেন?"
আইফার কথা শুনে জাভিয়ান ভেবাচ্যাকা খেয়ে গেলো। এই মেয়ে ভালোই কথা প্যাঁচাতে পারে! মানুষের সাথে তর্ক কীভাবে করতে হয় তা এই মেয়ে থেকে শেখা উচিত। এবার জাভিয়ান আইফাকে একটু লজ্জা দেওয়ার জন্য রোমান্টিক ভঙ্গিতে বলে উঠলো,
"আপনি তো আর আমার মতো তেঁতো না, Little Panther! মিষ্টি জিনিস যদি তেঁতো হয়ে যায় তা কি আর খেতে ভালো লাগে?"
আইফা জাভিয়ানের কথা শুনে ভড়কে গেল!
"কী, কী বললেন আপনি?"
"কই, কী বললাম? আপনি কিছু শুনলেন নাকি?"
নিজের কথা বরাবরের মতো অস্বীকার করল লোকটা। আইফা চুপ হয়ে গেলো কারণ তার কাছে তো আর প্রমাণ নেই, নইলে এতক্ষণ চুপ থাকত না সে। আইফা আবার সুন্দরভাবে বসে গেলো। গাড়ি আগের মতোই চলতে লাগলো।
সকাল ০৪:৪১— চারদিকে আজানের ধ্বনি শোনা যাচ্ছে। আজানের ধ্বনি সবাইকে জাগ্রত করছে, আহ্বান জানাচ্ছে নামাজের জন্য,
"আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার! আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ..."
জাভিয়ান আজানের ধ্বনি শুনতে পেয়ে তাদের গাড়ি যে এলাকায় আছে তার একটা পাশে মসজিদ দেখে গাড়িটা থামালো। গাড়ি থেকে নেমে আইফাকে জিজ্ঞেস করলো,
"আমি নামাজ পড়তে যাচ্ছি, আপনি যাবেন কি?"
"এই কাপড়ে কেমনে?"
"Back seat-এ বোরকা আছে, Ready hizab-ও আছে। Ready হয়ে নেন, আমি অপেক্ষা করছি! 😌"
আইফা জাভিয়ানের কথা মতো গাড়ির Back seat-এ গিয়ে কাপড়ের উপর বোরকাটা আর হিজাবটা পরে নিলো। হিজাবের সাথে নিকাব ছিল নিকাবটাও তুলে নিলো মুখের উপর, fully Ready হয়ে আইফা গাড়ি থেকে নামলো।
জাভিয়ান এখনো দাঁড়িয়ে আছে আইফার জন্য, আইফা নামতেই জাভিয়ান তার দিকে তাকালো। এক মুহূর্তের জন্য কোথায় যেনো হারিয়ে গেলো, আবার নিজের মধ্যে ফিরে এলো সে। ওই কাপড়ে যেমন লাগছিল তার চাইতে বোরকাতে তাকে বেশ মানিয়েছে!
আইফা কাছে আসতে জাভিয়ান তাকে জিজ্ঞেস করলো,
"Ready আপনি? আর কিছু করা লাগবে?"
"না, আমি Ready চলুন।"
আইফা আর জাভিয়ান একসাথে রাস্তা পার হলো, তারপর জাভিয়ান আইফাকে নারীদের নামাজ ঘরের দিকে এগিয়ে দিয়ে নিজেও নামাজ পড়তে গেলো, পুরুষদের নামাজের জায়গায়। কিছুক্ষণ পর নামাজ পড়ে জাভিয়ান বের হলো। আইফাকে দেখতে না পেয়ে নারীদের নামাজের স্থানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল।
সামনে যায়নি, কিছুটা দূরে হয়েই দাঁড়িয়ে ছিল। কয়েকজন বের হলেও আইফা তো বের হলো না! জাভিয়ান একটু চিন্তিত হলো, কিন্তু মুখে তা প্রকাশ পেল না। নারীদের নামাজের স্থান, তাই ও ভেতরেও যেতে পারছে না।
হঠাৎ, এক মেয়ে তার কাছে আসলো—বোরকা পরা, নামাজের ঘর থেকেই বের হলো। জাভিয়ানের কাছে এসে মেয়েটা জাভিয়ানকে খুব নরম সুরে জিজ্ঞেস করলো,
"আপনি কি কাউকে খুঁজছেন?"
জাভিয়ান তার কাছে কারো উপস্থিতি টের পেয়ে পিছন ফিরে তাকালো। আকস্মিক এক মেয়েকে দেখে অবাক হলো! এতো সকালে তেমন একটা মেয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে আসে না, বেশির ভাগ এই ঘরে পড়ে। পরক্ষণে জবাব দিলো,
"জি..."
"কাকে...?"
আইফা নামাজ ঘর থেকে বের হচ্ছিল হঠাৎ দুর থেকে দেখতে পেলো জাভিয়ান একটা মেয়ের সাথে কথা বলছে। আইফার কেমন জানি লাগলো, সে ধেয়ে গেলো! গিয়ে জাভিয়ানের কাঁধে হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরে বলল,
"আমাকে, হি হি হি, আমাকে!"
জাভিয়ান আকস্মিক আইফা এমন গলা জড়িয়ে ধরাতে সামনে কিছুটা ঝুঁকে পড়লো! এইভাবে আইফার আগমনে ভয় পেলো ওই হিজাবি মেয়েটি। বুকে থুথু দিয়ে বলতে লাগলো,
"এই কেমন উপস্থিতি রে বাবা...!"
"আমি এভাবেই আসি, সমস্যা? সমস্যা কোনো তোমার?"
মেয়েটি মুখ ভেঙচালো নাকি জানা নাই, মাস্ক পরে ছিল যে। কিন্তু পরক্ষণে কিছু না বলে জোরপূর্বক হাসি দিয়ে পাশ কেটে চলে গেলো। আইফা মেয়েটাকে ভেঙচিয়ে বলতে লাগলো,
"আ... হা... আমার সোনা ময়নার পাখি রে... রাস্তায় যেই না ছেলে দেখেছে কথা বলতে চলে আসছে। তোমাগো মতো মেয়েরে আমি চিনি না মনে করেছো? যেই রাস্তায় একটা Handsome পোলা দেখছে ঠিক চলে আসছে কথা বলতে!"
আইফা জাভিয়ানের অবস্থা বুঝতে পেরে সরে গেলো ওকে ছেড়ে। আবার মেয়েটার উদ্দেশ্যে বিড়বিড় করে বলতে লাগলো,
"উপরে ফিটফাট ভেতরে সদরঘাট, হুম! 😒"
জাভিয়ান আইফার দিকে তাকিয়ে আছে এটা আইফা খেয়াল করেনি। সে জাভিয়ানের দিকে তাকাতেই দেখতে পেলো জাভিয়ান সন্দেহভাজন দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে আছে। আইফা ফিরতেই দেখতে পেল জাভিয়ান তার দিকে তাকিয়ে আছে, সে জিজ্ঞেস করলো,
"কী হয়েছে?"
"কী হয়নি?"
"মানে...?"
"মানে আপনি এতক্ষণ কই ছিলেন? এত সময় লাগলো কেন? কী করছিলেন এত সময়!"
"আরে... নামাজ পড়তে একটু সময় লাগে না?"
"হ্যাঁ, যতটুকু সময় লাগার কথা তার চাইতে বেশি লেগেছে!"
"আরে... এত সন্দেহ করেন কেন? আমি কী সব জায়গায় ঝামেলা পাকাই নাকি?"
"হ্যাঁ, তাই তো দেখছি!"
"আরে..."
জাভিয়ান আইফাকে বলতে না দিয়ে নিজে বলতে লাগলো,
"আমাকে এইভাবে লাফিয়ে লাফিয়ে এসে জড়িয়ে ধরার কারণ কী?"
আইফা ততমত খেয়ে গেলো! কেন ধরেছে সে নিজেও বুঝতে পারছে না। হঠাৎ একটা মেয়ের সাথে জাভিয়ানকে দেখে তার কেমন জানি লাগলো! মনে হলো জাভিয়ানের সাথে ওই মেয়ে ইটিশপিটিশ করতে আসছে, তাই তো আইফা এভাবে জড়িয়ে ধরলো। সে বলতে লাগলো,
"আরে আপনি ওর মতো মেয়েদের চেনেন না! রাস্তা..."
"রাস্তায় ছেলে দেখলে কথা বলতে চায়, তাদের কথার জালে ফাঁসাতে চায়, আর কিছু?"
আইফা হা করে তাকিয়ে আছে! কী বলবে বুঝতে পারছে না, জাভিয়ান হুবহু তার নকল করল! কী বলবে বুঝতে না পেরে আইফা চুপ করে রইলো। ওর চুপ থাকা দেখে জাভিয়ান বলল,
"এখন যাওয়া যাক? নাকি এখানে এইভাবে দাঁড়িয়ে থাকবেন?"
"হ্যাঁ, চলুন।"
"হুম, Good Girl।"
আইফা আর কিছু বলল না। জাভিয়ান এবং আইফা গাড়ির দিকে এগলো। তারা ওখান থেকে প্রস্থান করলো, আইফা আর জাভিয়ান এখন গাড়িতে দুজনেই চুপ, এখন তারা গ্রাম side থেকে শহর এর side-এ চলে এসেছে।
গাড়ির ভেতর দুজন নিস্তব্ধ মানুষ কিন্তু পরিবেশটা নিস্তব্ধ নয়। ব্যস্ত শহরের গাড়ির হর্ন, মানুষের চলাচল, কলকারখানার ধোঁয়া— একবারে বলতে গেলে দূষিত পরিবেশ! এক মুহূর্তে তাদের নিস্তব্ধতা কাটিয়ে দিলো একটা ছোট ছেলে এসে।
হাতে তার একটা ছোট বালতি ভর্তি ফুল, এখানে একটা অদ্ভুত ফুল— সচরাচর এরা যারা ফুল বিক্রি করে তাদের কাছে দেখা যায় না। এটি একটি বিদেশি ফুল, এটি বাংলাদেশেও দেখা যায় না। দেখা গেলেও খুবই কম, তাও তীব্র ফুলপ্রেমীদের কাছে ছাড়া নেই, কিন্তু এই ছোট বাচ্চার কাছে আছে। ছেলেটা বলে উঠলো,
"ভাই ফুল নিবেন ফুল?"
জাভিয়ান ছেলেটার দিকে না তাকিয়েই মানা করে দিলো,
"না, নিবো না।"
ছেলেটা আবার বলে উঠলো,
"ভাই নেন না একটা ফুল, ভাই নেন!"
জাভিয়ান এখন ছেলেটার দিকে তাকালো। ছেলেটাকে আবার মানা করতে যাবে, তখন জাভিয়ান দেখতে পেলো বালতিতে থাকা ওই ফুলটা। নাম: Hyacinth bulb flower, আইফার পছন্দের ফুল! জাভিয়ান ফুলটা দেখে আর মানা করল না। জিজ্ঞেস করলো ছেলেটিকে,
"দাম কত?"
"গোলাপ ফুল মাত্র ৫০ টাকা ভাই।"
"উহুম, গোলাপ না, ওই ফুলটা।"
হাতের ইশারায় দেখালো জাভিয়ান। ছেলেটা বলল,
"ওহ, ওই ফুলডা! ওইডা তো কেউ লই না। আপনে নিছেন যে।"
"হুম, কত?"
"বেশি না, একটা চল্লিশ টাকা দিলে হইবো।"
"একটা না, সব।"
"সব লইবেন?"
"হ্যাঁ, সব।"
"আইচ্ছা, আইচ্ছা, সব ৫০০ টাকা দিলে হইবো।"
ছেলেটা সব Hyacinth flower গুছিয়ে নিলো। জাভিয়ানকে ফুলগুলো দিতেই জাভিয়ান তার wallet থেকে দুইটা কচকচে এক হাজার টাকার নোট বের করে দিলো। জাভিয়ানকে দুই হাজার টাকা দিতে দেখে ছেলেটা বলতে লাগলো,
"না, না, এতো টাকা লাগবো না, পাঁচশত টাকা দিলে হইবো ভাই।"
"নাও, খুশি হয়ে দিলাম।"
ছেলেটা আর কিছু বলল না, নিয়ে নিলো টাকাগুলো। তার চোখে-মুখে এক আনন্দ ছেয়ে গেলো। ছেলেটা চলে গেলো। ট্রাফিক জ্যামও ছাড়লো, জাভিয়ান গাড়ি টান দিলো।
কিছু দূর যেতেই জাভিয়ান আইফাকে ফুলগুলো এগিয়ে দিলো। এক হাতে গাড়ি চালাচ্ছে, অন্য হাতে ফুল ধরে আইফার দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
"নেন।"
"কী?"
আইফা জাভিয়ানের দিকে তাকালো। এতগুলো ফুল দেখে সে অবাক হলো! জাভিয়ান কখন নিলো এই ফুল? রাস্তার দিকে মন স্থির করে বসে ছিল সে, তাই খেয়াল করে নি। তাও আবার এই ফুল, "Hyacinth bulb flower"!
এটা বেশিরভাগ ইউরোপ কান্ট্রিতে হয়ে থাকে, কারণ এটা ঠান্ডা পরিবেশ ছাড়া হয় না। আর ইউরোপ কান্ট্রির বেশিরভাগ দেশই শীতকালীন দেশ। আইফা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
"এতো ফুল! কোথা থেকে নিলেন?"
"ওই একটা ছেলে যাচ্ছিল ফুল নিয়ে, ওর থেকে নিলাম।"
"এই ফুল?"
"হ্যাঁ, আমিও অবাক হয়েছি, পরে নিয়ে নিলাম।"
"ওহ।"
"নিবেন? না কোনো সমস্যা হচ্ছে? সমস্যা হলে বলেন, ফেলে দিই ফুলগুলো!"
আইফা জাভিয়ানের কথা শুনে রেগে গেলো আর মনে মনে বলতে লাগলো,
"মনে মনে, বন্ধুর সুলভ আচরণ যখন করতেই পারে না, ওনার মুখে যখন কেউ মধু এই দেয় নি, তিঁতা করলা যখন ঠুসে খাইয়ে দিয়েছে, তাহলে ওই করলা-পানা মুখটা নিয়ে আমার সামনে এত আদিখ্যেতা করার কী আছে?"
আইফা রেগে যাওয়া সত্ত্বেও খুব শান্ত ভঙ্গিতে সরাসরি বলল,
"যেহেতু ফেলে দেওয়ার জন্য নিয়েছেন, ফেলে দিন। আমাকে দিচ্ছেন কেন?"
জাভিয়ান আর কিচ্ছু বলল না। জোরপূর্বক আইফার হাতে দিলো ফুলগুলো, আইফাও নিয়ে নিলো। আইফা এই প্রথম জাভিয়ানকে ভালোমতো দেখলো।
তার চুল Soft Wolf Cut, গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, পরনে Gray Colour-এর পাঞ্জাবি। Gray Colour ছাড়া জাভিয়ানকে কখনো অন্য Colour পরতে দেখেনি আইফা।
ও সবসময় ভাবতো একটা Shirt নাকি এই লোকের, কিন্তু পরে নীল থেকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো জাভিয়ান Gray Colour ছাড়া অন্য Colour কখনো পরেনি আর পরবেও না।
ওর Gym করা Figure আর চোখ! তার চোখ বাকিদের থেকে আলাদা, পুরো rare "Olive Green eyes" অরণ্য-সবুজ নয়ন অন্ধকারে অদ্ভুতভাবে স্থির থাকে। চোখ দুটোতে এমন এক শীতলতা থাকে যা মানুষকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও সত্য বলতে বাধ্য করে।
আইফা নীল থেকেই আবার জানতে পারে যে জাভিয়ান এখানে জন্ম নেয়নি। তার মা বাংলাদেশি হলেও তার বাবা ছিলেন Spain-এর Mafia দলের একজন সদস্য।
তার মা জানতো না এটা, পরে যখন জানে তখন জাভিয়ান ৪ বছরের শিশু।
এরপর তার বাবার সাথে অনেক তর্কবিতর্ক হয়, পরে আর না পেরে জাভিয়ানের বাবাকে Divorce দিয়ে নিজের ছেলেকে নিয়ে নিজের দেশে ফিরে আসেন জাভিয়ানের মা "এলিজা মেহরাম"।...
________________________________________________
[ আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ ।আজকের পর্বটি ভালো লাগলে লাইক করুন কমেন্ট করুন।ভালো লাগলে ও বলুন না লাগলে ও বলুন।এতে আমার জন্য গল্পটা লিখতে সুবিধা হবে। আজকের পর্ব টা আমি একটু বড় করে দিলাম। গল্প আরো চলবে। আপনাদের আগ্রহ দেখে আমি একটু একটু অনুপ্রাণিত হচ্ছি..... যদি ভালো response পায় তাহলে পরবর্তী পর্ব টিও দিবো ।কষ্ট করে আমাকে ভুলার দরকার নেই... প্রতি মুহূর্তে মুহূর্তে মনে রাখুন জাভিয়ান কে। এতদিন আমার পরীক্ষা থাকায় আমি গল্প দিতে পারি নি.... এখন থেকে আবার দিবো, ধন্যবাদ ]
#চলতি.....