19/08/2026
এম.ই.এস কলেজকে নিয়ে কিছু কথা—একজন সাধারণ শিক্ষার্থীর জায়গা থেকে। 🖤
এই কথাগুলো আমি আগেও একবার তুলে ধরেছিলাম। কিন্তু ইদানীং আবারও আমাদের প্রিয়, এম.ই.এস কলেজকে নিয়ে, বিভিন্ন গ্রুপে কিছু ব্যাক্তি বিভ্রান্তিকর ও নেতিবাচক মন্তব্য ছড়াচ্ছে। সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ ছাড়াই পুরো কলেজকে নিয়ে মন্তব্য করা হচ্ছে।
যেহেতু, সামনে আমাদের কলেজে "এইচএসসি ২৭-২৮" সেশনের শিক্ষার্থীরা ভর্তি হবে। তাই, পুরোনো কথাগুলো আবারও নতুন করে বলার প্রয়োজন বলে মনে হলো।
আমাদের প্রিয়, এম.ই.এস কলেজের নাম শুনলেই আজও অনেকের মুখে নানা ধরনের মন্তব্য শুনতে হয়—
ওই কলেজ তো গুন্ডা-মাস্তানদের কলেজ”, “সন্ত্রা/সীদের-টুকাইদের কলেজ”—আরও কত কী!
সবচেয়ে বেশি কষ্ট লাগে তখন, যখন এসব কথা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, ব্যক্তি বা প্রমাণ ছাড়াই পুরো কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বলা হয়।
কারণ আমিও এই কলেজের একজন শিক্ষার্থী। কথাগুলো যখন আমার সামনে বলা হয় তখন মনে হয়, কথাগুলো শুধু আমার কলেজকে নয়,
আমাকেও উদ্দেশ্য করে বলা হচ্ছে।
হ্যাঁ, আমি স্বীকার করছি —আমাদের কলেজের কিছু শিক্ষার্থী উশৃংখল করে, কিছু শিক্ষার্থীর আচরণ নিয়ে অভিযোগ বা সমস্যা থাকতেই পারে। যা অন্যান্য কলেজেও কমবেশি থাকে। এমন না যে "এম.ই.এস কলেজ" ছাড়া চট্টগ্রামের সব কলেজের সব শিক্ষার্থীরাই ভালো। ভালো-খারাপ সচরাচর সব কলেজেই থাকে, আপনি মানুন বা না মানুন।
শিক্ষার্থীরা ভুল করলে অবশ্যই সেই ভুলের সমালোচনা হওয়া উচিত এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া উচিত।
কিন্তু কয়েকজনের কাজের দায় কি পুরো কলেজের?
একজন শিক্ষার্থী কোনো ভুল করলেই কি তার সহপাঠী, শিক্ষক কিংবা পুরো প্রতিষ্ঠানের সবাই সেই ভুলের অংশীদার হয়ে যায়?
ধরুন! আপনার পরিবারের সবাই ভালো, কিন্তু আপনি ইচ্ছাকৃত বা ভুলবশত কোন একটা খারাপ কাজে লিপ্ত হলেন, তাই বলে কি আপনার কারণে আপনার পরিবারের অন্য সদস্যরাও খারাপ হয়ে যায়?
একটি পরিবারে একজন মানুষ ভুল করলে যেমন পুরো পরিবারকে খারাপ বলা যায় না, ঠিক তেমনি কয়েকজনের আচরণের কারণে একটি পুরো কলেজের হাজারো শিক্ষার্থীকে একই পরিচয়ে বিচার করাও ন্যায্য নয়।
এই কলেজে এমন অনেক শিক্ষার্থী আছে, যারা নিয়মিত পড়াশোনা করে, স্বপ্ন দেখে, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য পরিশ্রম করে এবং নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়। তারা কোনো ধরনের অপরাধ বা উশৃঙ্খলতার সঙ্গে জড়িত নয়।
কিন্তু কিছু শিক্ষার্থীর কর্মকাণ্ডের কারণে যখন পুরো MES College-কে নিয়ে নেতিবাচক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করা হয়, তখন আমাদের মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদেরও সেই পরিচয়ের বোঝা বহন করতে হয়। সত্যি বলতে, বিষয়টি খুবই কষ্টদায়ক।
তাই আপনাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে—
কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার সমস্যা থাকলে সেটার সমালোচনা করুন, প্রমাণ থাকলে কথা বলুন। কিন্তু প্রমাণ ছাড়া একটি পুরো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং তার হাজারো শিক্ষার্থীকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করবেন না।
আমি আমার কলেজকে সম্মান করি।
আমার শিক্ষকদের সম্মান করি।
এই প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। ❤️
দয়া করে,
কয়েকজনের ভুল দিয়ে পুরো MES College-কে বিচার করবেন না। একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় শুধু কিছু শিক্ষার্থীর আচরণে নয়—এখানে থাকা অসংখ্য ভালো শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও অর্জনেও তৈরি হয়।
MES College-এর প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান সবসময়। 🖤
বি.দ্র.: কারও প্রতি ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অসম্মান করার উদ্দেশ্যে এই লেখা নয়। ভুল কিছু লিখে থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
ধন্যবাদ। 🖤