27/01/2026
-156
Fahmida Sultana
BDS-36
অঙ্ক-১:
(নাগরঙ্গবর্ণী পাঞ্জাবী পরিহিত বক্তা পুষ্পহস্তে নীল শাড়ি পরিহিতা শ্রোতাকে দেখে এগিয়ে এলো। হাজার বছরের মুখচোরাদের সাহস ধার করে সে আজ বেরিয়েছিল শ্রোতাকে কিছু শোনাবে বলে। কিন্তু একী! শ্রোতাকে দেখে তার উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ মুখশ্রী যে আরক্তিম হয়ে উঠলো!)
বক্তা : কেমন আছো?
(ভীষণ অবাক হয়ে) শ্রোতা : এইতো ভালো আছি। আপনি হঠাৎ এইখানে?এই সময়ে?
বক্তা : হাঁটতে এসেছিলাম আরকি!
(মুচকি হেসে) শ্রোতা : হ্যাঁ,বুঝতেই পারছি। তা হঠাৎ গোলাপ নিয়ে কোথায় যাচ্ছেন?
অঙ্ক-২:
(১ ঘণ্টা আগে,বক্তা একটি খসড়া কাগজে তার স্বীকারোক্তি লিখে তৈরি করেছিল। অত:পর ৪৫ মিনিট ধরে মুখস্থ করেছে। স্টার্নামের আইটেমটি দেওয়ার সময় প্রতিটি মেডিকেল-ডেন্টাল শিক্ষার্থীর যেমন ভয় হয়,সেও একই ভয়ে ছিল।)
(বুকভরা নিঃশ্বাস নিয়ে,যতটা সম্ভব সুন্দর কণ্ঠে বলার চেষ্টা,
কিন্তু কর্কশ কণ্ঠে) বক্তা : তো...তো...তো...তোমাকে আমি প্রথম দে...দে...দেখেছিলাম ডি...ডি...ডি...ডিসেম্বর মাসের কো...কো...কোনো এক....
(হাসি চেপে) শ্রোতা : আপনি এমন তোতলাচ্ছেন কেন?
(অতিকষ্টে) বক্তা : বলতে পারছি না। সব জড়িয়ে যাচ্ছে।
(পকেট থেকে একটি ভাঁজ করা কাগজ বের করে শ্রোতার হাতে গুঁজে দিয়ে) সময় পেলে পড়ে নিও।
(চোখের পলকে বক্তার প্রস্থান,রীতিমতো চম্পট)
অঙ্ক-৩:
শ্রোতা খুলে দেখলো কাগজে কিছুই লেখা নেই। শ্রোতা এক ভীষণ টাস্কি খেলো।
(তুমি যদি আমাকে ফিরিয়ে দাও,তাহলে আমিও কিন্তু ঠিক একইভাবে ভীষণ টাস্কি খাবো)
শ্রোতা চোখ ভালো করে মুছে দেখলো,মতিভ্রম। সুন্দর করে লেখা আছে কিছু।
"ডিসেম্বরের কোনো এক হিমশীতল সকালে তোমাকে দেখেছিলাম হন্তদন্ত হয়ে ক্লাসের দিকে ছুটে যেতে। ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখে রীতিমতো দৌড়াচ্ছিলে। আমাকে হয়তো দেখোনি,কিন্তু আমি তোমাকে দেখেছিলাম। অনেকটা ছোট বাচ্চারা প্রথমবার বিমান উড়ে যেতে দেখলে যেভাবে তাকিয়ে থাকে ঐভাবে। তোমার বন্ধুমহলে তুমিই বোধহয় সবচেয়ে লাজুক গোছের। কিন্তু অনলাইনে বোধহয় ঠিক তার উল্টো..."
২ পৃষ্ঠার পুরোটা পড়া শেষে স্মিতহেসে শ্রোতা...
[যবনিকাপাত]
এখন ধরে নাও,শ্রোতাটিই তুমি। কী করতে তখন?
বি.দ্র. : কখনো যদি নীলশাড়ি পরিহিতা শ্রোতা পুষ্পহস্তে নাগরঙ্গবর্ণী পাঞ্জাবী পরিহিত বক্তার সাক্ষাৎ পায়,তখন ২ পৃষ্ঠার পুরো লেখাটা যেন শুনে নেয়।
প্রেরক,
খুঁজে নিও আমায়
(অনুমতি বিনা ছবি দেওয়া নিয়ে সন্দিহান। তাই ছবি সংযুক্ত করতে পারছি না।)