10/02/2026
আজকের পোস্টটা সবার কাছে বোরিং লাগতে পারে, কারন বেশ লম্বা হয়ে গেছে তোহ!
ছবিতে খুবই সুপরিচিত একটা পাখি দেখা যাচ্ছে। আমি প্রতিদিন সকালে ছাদে উঠলেই এই পাখির জুটিকে দেখি তবে কাছে যেতেই উড়ে চলে যায়।
পাখিটির পরিচয় হল ঝুঁটকুলি বা বাংলা বুলবুলি যার ইংরেজি নাম রেড-ভেনটেড বুলবুল (Red-Vented Bulbul)। বৈজ্ঞানিক নাম Pycnonotus cafer।
সংক্ষেপে পাখিটির সম্পর্কে কিছু বিবরণ -
• শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য :
বাংলা বুলবুল ছোট বাদামি রঙের এক বৃক্ষচারী পাখি। এর দৈর্ঘ্য কমবেশি ২০ সেন্টিমিটার, ডানা ১০ সেন্টিমিটার, ঠোঁট ২ সেন্টিমিটার, লেজ ৯.৫ সেন্টিমিটার ও পা ২.২ সেন্টিমিটার। ওজন ৪২ গ্রাম।
বাংলা বুলবুলের ঠোঁট দূর থেকে কালো দেখালেও তা আসলে কালচে-নীল। চোখ কালচে বাদামি। পা ও পায়ের পাতা সামান্য বাদামি-কালো। মুখের ভেতরটা ধূসর, বেগুনি ও হলুদে মেশানো। স্ত্রী ও পুরুষ বুলবুল দেখতে একই রকম। অপ্রাপ্তবয়স্ক পাখির দেহ অপেক্ষাকৃত হালকা। মাথার কালো ঝুঁটি দেখে খুব সহজেই এদের শনাক্ত করা যায়।
প্রাপ্তবয়স্ক পাখির মাথা কালো বা কালচে-বাদামি। পালকের গড়ন আঁশের মতো বলে এমনটা হয়। লেজ বাদামি হলেও লেজের আগা কিছু অংশ গাঢ় বাদামি হয়ে প্রান্ত একদম সাদা। পেট অপেক্ষাকৃত ফিকে বাদামি। দেহতলে এবং কখনো কখনো উপপ্রজাতিভেদে পিঠে মাছের আঁশের মতো ফিকে দাগ থাকে। লেজের গোড়ার দিকটা সাদা। বাদামি দেহের শেষাংশ ও ডানার প্রান্ত কালচে-বাদামি। এর দেহের সবচেয়ে বিচিত্র স্থানটি হলো টকটকে লাল অবসারণী-ঢাকনি। এ লাল অবসারণীর জন্যই এর ইংরেজি নাম হয়েছে Red-vented Bulbul।
• খাদ্যভ্যাস: এরা সাধারণত ফল, ফুলের মধু এবং ছোটখাটো পোকা খেয়ে বেঁচে থাকে। ঝোপঝাড় ও গাছের পাতায় এরা খাবার খুঁজে বেড়ায়। এদের খাদ্য তালিকার বড় অংশজুড়ে রয়েছে পোকামাকড়। আগাছাজাতীয় গাছের বীজও এরা খায়। বাগানের সফেদা, পেয়ারা বা পেঁপে গাছে এদের প্রায়ই দেখা যায়।
• বাসস্থান/বিচরনক্ষেত্র: এরা শহর, গঞ্জ, গ্রাম, পাতাঝরা বন, প্যারাবন, গ্রামীণ বন, বনের প্রান্ত, ক্ষেতখামার ও বাগানে বিচরণ করে। সীতাকুণ্ডের মতো পাহাড়ি ও গাছপালা ঘেরা এলাকায় এদের প্রচুর দেখা যায়। এরা বেশ সাহসী হয় এবং মানুষের কাছাকাছি থাকতে ভয় পায় না।
বাসা বানাতে এদের সময় লাগে ২-৫ দিন। সাধারণত এরা ছোট ঝোপঝাড়ে বাসা বানায়। এ ছাড়া গাছের গর্ত, ঝাপালো গাছ, নদী তীরের গর্ত, ভাসমান কচুরিপানা, বাসা-বাড়ির কার্নিশ এমনকি বাসের মধ্যেও বাসা বানায়। বাসার উচ্চতা ভূমি থেকে ৭-১০ ফুট ওপরে হয়। ডাল, ধাতব তার, পাতা, কঞ্চি, ঘাস, চুল ইত্যাদি মাকড়সার জালে জড়িয়ে পরিপাটি করে বাটির মতো বাসা বানায় এরা। বাসা বানানো হয়ে গেলে তিনটি ডিম পাড়ে। ডিমগুলো হালকা গোলাপি রঙের, তার ওপরে লাল লাল ছিটমতো থাকে। ডিমের প্রশস্ত দিকে ছিট তুলনামূলক ঘন। ১৪ দিনের মাথায় ডিম ফুটে ছানা বের হয়। বাবা-মা উভয়েই সন্তান দেখাশোনার ভার নেয়।
সূত্র:
সোনালীনিউজডটকম
বাংলা উইকিপিডিয়া
দৈনিক সংবাদপত্রের প্রতিবেদনের কাটিং