Jahra's Quill and Ink

  • Home
  • Jahra's Quill and Ink

Jahra's Quill and Ink Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Jahra's Quill and Ink, .

09/01/2026

সুখ হলো দক্ষিণা শীতল হাওয়ার মতো!
তারে অনুভব করা যায়, বোঝা যায় তার ছোঁয়া,
কিন্তু তারে ধরতে পারা যায়না!
আটকে রাখা যায়না কোনো আঙুলের ভাঁজে।
সে যেমন হঠাৎ আসে, তেমনি হঠাৎ হারিয়ে যায়।
চোখের পলকে, নিঃশ্বাসের মতো ক্ষণিক।
আর দুঃখ?
দুঃখ হলো সেই গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরের জ্বালাময় রোদ!
যে নিঃশব্দে এসে হৃদয় দগ্ধ করে, পুড়িয়ে দেয় ভিতরটা।
তবু সে সঙ্গ ছাড়ে না, তার উপস্থিতি এড়ানো যায় না,
সে ধীরে ধীরে আসে,
কিন্তু থেকে যায় দীর্ঘ সময় ধরে,
ক্লান্তি আর যন্ত্রণার সঙ্গী হয়ে।
দুঃখ এক দীর্ঘ খরা,
আর সুখ সেই খরায় নেমে আসা এক পশলা বৃষ্টি!

মানুষ তো চিরকালই চেয়ে আসে সুখের এক পশলা বৃষ্টি, শীতল দমকা হাওয়া,
তবুও সে নির্মম খরা ছাড়া আর কিই বা পায়!!

~~ Ramish Jahra

19/02/2025

আজ পূর্ণিমা রাত! ব্যালকনি তে বসে চাঁদ দেখতে দেখতে নতুন একটা উপন্যাস এর কাহিনী ভাবছে নোভা। কলমের খোঁচায় জীবনের গভীরতম রহস্য কে উন্মোচন করতে ব্যস্ত সে। মাত্র বাইশ বছর বয়সেই সাহিত্য জগতে ঝড় তুলেছে সে। তার লেখনী আজ সকলের কাছে সমাদৃত।

নতুন উপন্যাসটিতে নতুন কিছু লিখতে চায় সে, কোনো এক অপরূপ সত্ত্বার অস্তিত্ব জানান দিতে চায়। ডায়েরিতে কলম বসাতে গিয়ে হঠাৎ তার অস্থির লাগতে শুরু করলো। আকাশের চাঁদের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ চাঁদ টা কে অন্যরকম মনে হতে লাগলো।
সে লেখায় মনোযোগ দেয়ার চেষ্টা করলো।
লিখতে গিয়ে সে দেখতে পেলো সেখানে লেখা,
" জানালার পাশের টবটি আমার জীবনের ন্যায় চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেলো"

নোভা চমকে উঠল।

তার হাত থমকে গেল, কলমটা আঙুলের ফাঁক গলে পড়ে গেল ডায়েরির পাতায়। সে কি এই লাইনটা লিখেছিল? নাকি আগেই লেখা ছিল?

তার বুকের ভেতর ধুকপুক শব্দ ওঠে, অজানা এক আতঙ্কে সে ধীরে ধীরে জানালার দিকে তাকাল।

হঠাৎ একটা দমকা হাওয়া!

জানালার পাশের টবটি সত্যিই মাটিতে পড়ে গুঁড়িয়ে গেল!

নোভা দ্রুত উঠে দাঁড়ায়। গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে আসে। এটা কাকতালীয় কিছু? নাকি…?

তার হাত পাতা ঠান্ডা হয়ে এসেছে।
শুধু কিছুক্ষণ আগেই সে এই লাইনটা লিখেছিল। আর এখন সেটা বাস্তবে ঘটে গেছে!

তার ভেতর হালকা শিহরণ খেলে গেল।
নাকি সে কল্পনা করছে?

এক মুহূর্ত চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকার পর সে ডায়েরির দিকে ফিরে এল। ধীরে ধীরে কলম তুলে নিয়ে নতুন একটা লাইন লিখল—

"বাতাস হঠাৎ এমন বয়ে গেল যেন কোনো অদৃশ্য সত্তা পাশ দিয়ে চলে গেল।"

ঠিক তখনই, একটা ঠান্ডা বাতাস এসে তার খোলা চুল এলোমেলো করে দিল।

নোভা ভয়ে আর অবাক হয়ে একদম নিশ্চুপ হয়ে গেল।

এবার তার মনে হলো, এটা আর কাকতালীয় কিছু নয়।

কিছু একটা হচ্ছে।

কিন্তু কী?
আজ আর লিখতে বসার সাহস পেলনা সে। বেড এ গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
সকাল ঘুম হতে উঠার পর অন্যরকম মনে হতে লাগলো নোভার। গতকাল রাতের কিছুই তার মনে নেই।
আজ শুক্রবার। তার উপন্যাসের ড্রাফট তার আজই শেষ করতে হবে। সকাল হতে সকল কাজ সেরে সে সন্ধ্যার দিকে আবার লিখতে বসলো।
কলমের খচখচ শব্দে কিছু লাইন লিখলো সে।
"আরহার আজ ভার্সিটি থেকে ফিরতে বড্ড দেরি হয়ে গেলো। নির্জন রাস্তা। তার ভয় হচ্ছে। হঠাৎ কে যেন পিছন থেকে ছুরি দিয়ে আঘাত করলো তাকে!"
হাত থেমে গেলো নোভার। এটা তো সে লিখতে চায়নি। এটা কেন লিখলো সে! তার এমন অস্বাভাবিক ঘটনা দেখে লেখার মনমানসিকতা শেষ হয়ে গেলো। ঘড়ির কাটায় ৮ টা বাজে। সময় কত দ্রুত যায়। সে ডিনার শেষ করে ঘুমাতে গেলো। শরীর টা বড্ড খারাপ লাগছে। পরদিন সকালে ভার্সিটি যাওয়ার জন্য যখন সে তৈরি হচ্ছিল তখন আরিয়ানের ফোন আসলো!
এবং সে বলল গতকাল রাতে তার কাজিন আরহার খুন হয়েছে। কেউ একজন তাকে ছুরি চালিয়ে হত্যা করেছে। এই খবর শুনে নোভার শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা শিরশিরানি বয়ে গেলো।
সে পাগলের মতো তার ডায়েরির পাতা উল্টাতে লাগলো এবং কাঙ্ক্ষিত লেখা টি খুঁজে পেতেই সে নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছিল না।
গতকাল রাতে সে যা লিখেছে তা আজ সত্যি হয়ে গেলো! এতটা কাকতালীয় কি করে হতে পারে? এমনকি তার লেখা এবং খুন হওয়া ব্যক্তির নামও একই!
নিজেকে সামলাতে পারল না নোভা।
সে ভয়ে ভয়ে কলম নিয়ে কাঁপা কাঁপা হাতে কিছু একটা লিখে দেখতে চাইলো।
কিন্তু সে কিছুই লিখতে পারছিল না। সে চোখ বন্ধ করে কিছু একটা ভাবলো এবং হঠাৎই লিখতে শুরু করলো,
" খবরের কাগজে আজ মিস্টার সিনহার মৃত্যুর খবর ছাপা হবে"

কলম থামাতে আরেক দফা অবাক হতে হলো নোভা কে। সে এবার ও মনের অজান্তে অন্য কিছু লিখে ফেলেছে।
হঠাৎ দরজার নিচ দিয়ে একটি খবরের কাগজ এলো। ভয়ে ভয়ে কাগজ টি তুলে মেলে ধরতেই ফ্রন্ট পেইজে মিস্টার সিনহার খুনের খবর ছাপা দেখতে পেলো। নোভা আর নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। তার নিজেকে পাগল পাগল মনে হচ্ছে।
সে জ্ঞান হারালো। জ্ঞান ফিরতে সে নিজেকে বিছানায় আবিষ্কার করলো। এবং তার পাশে আরিয়ান কে বসা দেখতে পেলো।
সে ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলো এবং আরিয়ান কে জড়িয়ে ধরলো। একটু স্থির হতেই গড়গড় করে সে সব ঘটনা আরিয়ান কে বলে দিলো।
কিন্তু আরিয়ান এই ঘটনা মানতে নারাজ। সে নোভা কে বলল,
" নোভা, তোমার কোথাও একটা ভুল হচ্ছে। তুমি অনেক বেশি স্ট্রেস নিচ্ছো তাই হয়তো হেলুসিনেশন হচ্ছে! চিন্তা করো না, এই নাও ওষুধ খেয়ে আরেকটু ঘুমাও।"
নোভা কিছুতেই আরিয়ান কে এইসব বিশ্বাস করাতে পারল না
পর পর বেশ কিছুদিন একই রকম ঘটনা ঘটতে থাকলো। কখনও কারো মৃত্যু, কখনো কারো আহত হওয়া! নিজের উপর বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলো সে। আরিয়ান ও তার কথা বিশ্বাস করতে চায়না।
এখন সে নিজের উপর এতটাই বিরক্ত যে সে লেখালেখিই বন্ধ করে দিতে চাইলো। কিন্তু কোনো এক অদৃশ্য শক্তি তাকে বার বার ডায়েরির কাছে নিয়ে যাচ্ছে, বারবার তার হাতে কলম তুলে দিচ্ছে এবং এমন কিছু লিখতে বাধ্য করছে যা সে লিখতে চাচ্ছে না। তবুও সে লিখছে।
এভাবে আর পারছে না সে।
কেউ ওকে বুঝতে পারছে না। আরিয়ান ও না।
গলা শুকিয়ে গেছে। পানি খেতে গিয়ে হঠাৎ টেবিলে আরিয়ানের ল্যাপটপ দেখতে পেলো সে। হয়তো আজ সকালে নোভা কে দেখতে এসে ভুলে ফেলে গেছে। নোভা ভাবলো ল্যাপটপ এ কিছু একটা লিখে দেখুক সে। হয়তো তার ডায়েরি টাই সকল নষ্টের মূল।
আরিয়ানের ল্যাপটপের পাসওয়ার্ড তার জানা। ল্যাপটপ খুলতেই সুদর্শন নিউরোসায়েন্টিস্ট আরিয়ানের ছবি ভেসে উঠলো। আনমনে মুচকি হাসলো নোভা। কি মনে করে ল্যাপটপের ফাইল গুলো ঘাটতে লাগলো সে। সেখানে একটি ফোল্ডার দেখতে পেলো যার নাম - " *নোভা* "!
আশ্চর্যের চরম শিখরে পৌছালো সে। ফোল্ডারটি তে ঢুকতেই কিছু ফাইল দেখতে পেলো সে,
১.সাবকনশাস ম্যানিপুলেশন

২.ড্রিম কন্ট্রোল থিওরি

৩.নোভা এক্সপেরিমেন্ট - স্টেজ থ্রি

হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে এলো তার। ফাইল গুলো রিড করতে করতে সকল কিছু যেন তার মাথায় একের পর এক ক্লিক করতে লাগলো

কয়েক মাস আগে আরিয়ান তাকে বলেছিল, নতুন এক নিউরোট্রান্সমিটার নিয়ে গবেষণা করছে। একটা ওষুধ যা মানুষের কল্পনাশক্তিকে তীব্র করে তুলবে।এতটাই তীব্র যে সে যা ভাববে তাই বাস্তবে রূপান্তর করবে। নোভা ভেবেছিল, এটা নিছক গবেষণা। কিন্তু না, সে ভুল ছিল। তার ওপরই চলছিল সেই গবেষণা! সেই ছিল এই এক্সপেরিমেন্ট এর আসল গিনিপিগ!

আরিয়ান তার মস্তিষ্কের নিউরোসিগন্যাল মডিফাই করছিল।

সে যা লিখত, তার অবচেতন মন সেটাকে বাস্তবায়িত করার ট্রিগার হিসেবে কাজ করত।

অর্থাৎ, নোভাই ছিল আসল অপরাধী! সকল খুনের পিছনে নোভারই হাত।
আরিয়ান তাকে ব্যবহার করে এতগুলা খুন করিয়েছে!

দেখতে দেখতে কখন রাত হয়ে এলো নোভার খেয়াল নেই। ল্যাপটপ থেকে চোখ সরাতেই হঠাৎ সামনে একটা আবছা কালো ছায়া মূর্তি দেখতে পেলো। ছায়ামূর্তি একটু কাছে আসতেই বুঝতে পারল সে, এটা আরিয়ান ই ।

নোভা অনেক ভয় পেতে লাগলো। তার গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেলো।
আরিয়ান তাকে বলল, "তুমি তাহলে সব জেনেই গেলে, কিন্তু কোনো লাভ নেই, তোমার কল্পনা, তোমার বাস্তবতা সব আমার কন্ট্রোলে!"

নোভা কি করবে কিছু বুঝতে পারল না। কিন্তু হঠাৎ তার চোখে এক ধরনের এক উন্মাদনা ঝলকে উঠলো। সে ধীরে ধীরে কাঁপা কাঁপা হাতে টেবিল থেকে তার ডায়েরি টা নিলো এবং লিখলো,
"আজ রাতে আমার ভালোবাসার মৃত্যু হবে," লিখেই নোভা কলম ফেলে দিলো। পরক্ষণেই আরিয়ান নিজের গলায় হাত রাখল, যেন দম আটকে আসছে। নোভা তাকিয়ে রইল—অবাক নয়, ভীত নয়, বরং একরকম প্রশান্তি নিয়ে। কারণ এবার, প্রথমবারের মতো, কলমটা তারই নিয়ন্ত্রণে ছিল।

~ Ramish Jahra

08/02/2025

তুমি আমার বই হবে?
আমার প্রিয় বই!
বৃষ্টি বিলাস, মেঘ বলেছে যাবো যাবো কিংবা অপেক্ষা?
বই যেভাবে রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে আছে আমার, তুমিও কি মিশে যাবে?
বই দেখলেই যেমন মন ভালো হয়ে যায়, তুমিও কি আমার মন তেমন ভালো করে দেবে?
তুমি কি হবে আমার ভাঁজে রাখা বুকমার্ক?
যে হারিয়ে গেলে খুঁজে পাওয়ার জন্য মন ব্যাকুল হবে?
নাকি হবে কোন এক পুরনো বইয়ের হলুদ হয়ে যাওয়া পৃষ্ঠা,
যার প্রতিটি শব্দে গেঁথে থাকবে নস্টালজিয়া?

তুমি কি হবে সেই অক্ষর, যা রাত জেগে পড়ি?
যার অর্থ বুঝতে বুঝতে একসময় নিজেকেই খুঁজে পাই?
নাকি হবে শেষ পৃষ্ঠার ভালোবাসার শেষ লাইন,
যা পড়ার পর বুকের ভেতর কেমন জানি শূন্যতা তৈরি হয়?

তুমি কি হবে আমার একান্ত আপন অধ্যায়,
যা কখনো শেষ করতে চাইবো না?
যা কখনো শেষ হইয়া ও হইবেনা শেষ!

~~ Ramish Jahra

31/01/2025

হাজার টা অশান্তি, মনের মাঝে প্রচণ্ড ভার নিয়ে রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছিলাম। গন্তব্য জানা নেই! শুধু হেঁটে চলেছি একটু শান্তির খোঁজে।
হঠাৎ রাস্তার ধারে একটা স্ট্রিট ফুডের দোকানের সামনে একটা বছর নয় বা দশের একটা ছোট ছেলে কে দেখতে পেলাম, যে কি না ওই দোকানের বেঞ্চে বসে একটা কাগজ খুব খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ার চেষ্টা করছিলো! ব্যাপার টা খুবই আকর্ষণ করলো আমাকে। কৌতুহল নিয়ে তার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। বুঝলাম সে কোনো একটা প্রতিষ্ঠান এর লিফলেট পড়ছে! আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম।
জিজ্ঞেস করলাম,
- কোন ক্লাসে পড়ো?

সে হঠাৎ বুঝতে না পারার ভঙ্গি নিয়ে আমার দিকে তাকালো, কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকার পর আবার লিফলেট এর দিকে চোখ ফেরাতে ফেরাতে বললো,
- পড়ালেহা করি না।

আমার কৌতুহল যেন আরো বেড়ে গেলো! পড়ালেখা করেনা অথচ লিফলেট পড়ছে এত ছোট ছেলে?
আবার বললাম,
- কেন করো না?
- বাপ মায় খরচ যোগাইতে পারেনা!

আফসোস লাগলো খুব! জিজ্ঞেস করলাম,
- কোন ক্লাস পর্যন্ত পড়েছো?
সে একটু হেসে উত্তর দিলো,
- একটু ও পরি নাই আফা! আমার বাপ মায়ের আমারে ইস্কুলে দিয়নের সামত্ত নাই!
- কি করে তোমার বাবা মা!
- মায়ে মাইনষের ঘরে কাম করে, বাপে ইটের ভাটায় কাম করে, আর আমি এই দোকান টায় কাম করি!

এইবার তো আমার চরম অবাক হওয়ার পালা! যে কিনা কখনো স্কুলে পড়েনি সে লিফলেট এ কিই বা দেখছে?
- তাহলে লিফলেট এ এমন ভাবে কি দেখছো?
- পড়তেছিলাম
- তুমি পড়তে পারো?
- হ! পারি একটু একটু!
- কিভাবে? তুমি তো স্কুলে পড়ো নি কখনো!
- আমারে আমার এলাকার এক বড় ভাই শিখাইছে! আমার পড়ালেহা ভালা লাগে দেইহা!
- তোমার পড়ালেখা করতে খুব ভালো লাগে?
- হ
- আমার ও!
- আইচ্ছা!
- আচ্ছা তোমার কষ্ট লাগেনা তোমার পড়ালেখার স্বপ্ন পূরণ হয়না দেখে?
- গরীব মাইনষের কোনো কষ্ট থাইকতে নাই। আর কষ্ট কি! আমাগো তো স্বপ্ন দেখাই মানা!
- কে বলেছে স্বপ্ন দেখা মানা? স্বপ্ন অবশ্যই দেখা উচিত!
- না। যাদের সমত্ত নাই তাদের উচিত না।

কথা গুলো শুনে খুবই কষ্ট লাগলো। তবে এতটুকু একটা ছেলের এত বড় বড় কথা শুনে ও অবাক লাগলো। আমি একটু অন্যমনস্ক হয়ে গেলাম। আনমনে হঠাৎ বলে উঠলাম,
- আমারও অনেক স্বপ্ন!

সে একটু কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো,
- আপনার ও কি আমার মত সামত্ত নাই?
- ( হেসে উত্তর দিলাম) তা একটু!
- আপনি ও কি তাইলে পরালেহা করেন না?
- করি!
- তাইলে সামত্ব নাই কইলেন যে?
- সবার কি আর পড়ালেখা করার স্বপ্ন থাকে রে? কারো কারো একটু শান্তির, একটু ভালোবাসার স্বপ্ন থাকে!
- বুঝি নাই!
- অত কঠিন কথা তুই বুঝবি না! সামর্থ্য না থাকলে ও কষ্ট করে করার চেষ্টা করি পড়ালেখা। এই আর কি!
- ওহ আইচ্ছা!
- তোর অনেক সাহস তাই না?
- সাহস? আমার আবার কিয়ের সাহস?
- এই যে নিজের পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিজের স্বপ্ন গুলা ছেড়ে দিলি! সবাই তো এটা পারেনা।
- আর কে পারেনা?
- আমি পারিনা। নিজের স্বপ্ন ছেড়ে দেওয়ার সাহস করতে পারিনা।
- কেন? কষ্ট হইলে তো ছাইড়া দিলেই পারেন!
- বললাম তো! তোর মত আমার এত সাহস নেই।

কিছুক্ষন আমি আর সে দুইজনেই চুপ হয়ে গেলাম। তার লিফলেট পড়া বহু আগেই শেষ! আজ তার দোকানে কোনো গ্রাহক নেই। চারদিকে খা খা রোদ!
দূরে কিছু কাক পাশের ডাস্টবিন থেকে কিছু খাচ্ছে!
আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম,
- আচ্ছা তোর কখনো কষ্ট লাগলে, কখনো অশান্তি লাগলে তুই কাকে বলিস?
- আমার একখান বন্ধু আছে! আমার ভালা না লাগলে আমি তার লগে যাইয়া বইয়া থাহি! দুই বন্ধু মিলা আড্ডা মারি ঘুরাঘুরি করি।
- আচ্ছা! তোর বন্ধু তোকে অনেক ভালোবাসে?
- হ অনেক!
- আর কেউ বাসে না?
- আমাদের মত রাস্তার পোলাগো কে ভালবাসবো কন?
- বাসতেই পারে ।

সে কিছু না বললে পাল্টা প্রশ্ন করলো!
- আপনে কি করেন?
- হু?
- মন খারাপ হইলে কি করেন?
- আমি? এই তো রাস্তায় হাঁটি, আর তোর মত কিউট কিউট বাচ্চাদের সাথে কথা বলি!
- কেন? আপনের কোনো বন্ধু নাই?

কথা টা কেমন যেন বুকে এসে লাগলো! আমার তো অনেক বন্ধু! আসলেই তো! আমি কারো কাছে যাইনা কেন? আমি কি তাদের বিশ্বাস করিনা? করি তো! তাহলে? হয়তো ওরা আমায় বুঝেনা! কেমন যেন ভিতর থেকে কান্না গুলো গলার কাছে দলা পাকিয়ে রইলো, যেকোনো মুহূর্তে বেরিয়ে যাবে!

সে আবার জিজ্ঞেস করলো,
- কি হইলো আফা? আপনের কোনো বন্ধু নাই?
- আছে তো! অনেক বন্ধু আছে!
- তাইলে?
- তাহলে কিছু না! তোর দোকানে চা আছে?
- আছে তো!
- থাকলে ২ কাপ চা দে!
- কিন্তু আপনি তো একজন!
- হ্যাঁ আমিই খাবো ২ কাপ
সে আমাকে চা এনে দিলো। আমি এক কাপ খেয়ে বিল দিয়ে আরেক কাপ তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললাম,
- এটা তোর জন্য!

আর কিছু না বলে আমি হাটা দিলাম! পিছন ফিরে তার অবাক হওয়া চেহারা টা দেখার লোভ হচ্ছিলো!
কিন্তু সব লোভ যে পূরণ হতে নেই!

লেখিকা ~ Ramish Jahra

31/12/2024

একটি বছর!
কত স্মৃতি!
কত হাসি, কত কান্না,
কত প্রাপ্তি, কত বেদনা।

অগণিত স্মৃতি, সাফল্য, ব্যর্থতা,
হাসি আর অশ্রুর মিশেলে বাঁধা এক জীবনগাথা।
কিছু অপূর্ণ স্বপ্নের দীর্ঘশ্বাস,
কিছু অমূল্য প্রাপ্তির নিষ্পাপ আনন্দ।

নতুন মানুষ, নতুন গল্প!
প্রতিটি মুহূর্ত একেকটি রঙিন ছবি,
কখনও সাদাকালো, কখনও রঙিন,
কখনও অমলিন এক ছায়া।

একটি বছর পেরিয়ে, নতুন আশার সূর্যোদয়,
নতুন স্বপ্ন, নতুন পথচলার আবাহন।
কিছু অসাধারণ মানুষের সঙ্গ,
যা জীবনকে সহজতর করেছে!
শিখিয়েছে পিছনে ফেলে ব্যর্থতা আর কষ্ট,
সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা নেওয়া!
স্মৃতিরা রয়ে যায়,
শেখায় পথচলা, বদলায় জীবন।
জীবনের এই যাত্রায়,
আরেকটি বছর, আরেকটি অধ্যায়!

~~ Ramish Jahra

28/10/2024

আসবে?
যদি ডাকি এই মন থেকে?
অচেনা কোনো সুরে?
চিনবে তো আমায়?

আসবে?
যদি পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় নীল
শাড়ি পরে অপেক্ষা করি তোমার জন্য?
হাতে নিয়ে একগুচ্ছ কাঠগোলাপ!

আসবে কি?
যদি ছুঁয়ে দেই আকাশের ঐ নীলটাকে,
যদি ভিজিয়ে দেই তোমার ছায়ায়
এই অন্তরটা নীরব রাতে!

আসবে?
যদি সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো
আমার ভালবাসা ছুঁয়ে যায় তোমার পা?
যদি প্রতিটি তরঙ্গের গর্জনে শোনা যায়
আমার মনের অব্যক্ত আহ্বান?

আসবে কি?
যদি আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে দিই আমাদের ভালবাসার সুভাস?

আসবে বুঝি?
যদি ডাকি মনের গহীন কোনো কোণ থেকে,
যেখানে শুধু তোমারই বসবাস?

আসবে তো?

লেখিকা - Ramish Jahra 🥀

24/10/2024

আমি চাই না তুমি আমাকে ঐভাবে ভালবাসো,
যেভাবে খেয়ালি বাতাস উড়িয়ে নিয়ে যায় ফুলের পাপড়ি,
অস্থির আর লক্ষ্যহীন,
যেখানে কিছুই থাকে না স্থায়ী, শুধু ফাঁকা স্মৃতি।

আমি বরং চাই তুমি আমাকে ঐভাবে ভালবাসো,
যেভাবে প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ধরে রাখে যুগান্তরের গল্প,
একটি শব্দও ম্লান হয় না,
যুগের পর যুগ, সময়ের ওপারেও।

আমি চাইনা তুমি আমাকে খুঁজে ফেরো ঘূর্ণিঝড়ের মতো,
যে উদ্দেশ্যহীনভাবে চলে আসে হঠাৎ,
আবার মিলিয়ে যায় হাওয়ায়!

আমি বরং চাই তুমি আমাকে ঐভাবে খুঁজো,
যেভাবে কাঠফাটা রোদে একজন পথিক খুঁজে একটু ছায়া!

আমি চাইনা তুমি আমার জন্য ঐভাবে ছটফট করো,
যেভাবে ভাঙ্গা বীণায় সুরের অভাব!
আমি বরং চাই তুমি আমার জন্য ঐভাবে ছটফট করো,
যেভাবে অসম্ভব কষ্টে থাকা মানুষ সামান্য শান্তির জন্য ছটফট করে!

আমি চাইনা তুমি নিজেকে আমার করে দাও,
আমি বরং চাই তুমি আমাকে নিজের করে নাও!

লেখিকা - Ramish Jahra 🌻

12/10/2024

আমি হোপলেস রোমান্টিক একজন মানুষ,
আর তুমি এক শক্ত কঠোর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি!

আমি হুমায়ুনের উপন্যাসের প্রেমে বিভোর সারাদিন,
আর তোমার বুকশেলফে বিজ্ঞানের মোটা মোটা বই!

আমি নব্বই দশকের প্রেমিকা হয়ে প্রেম খুঁজে ফিরি,
আর তুমি একুশ শতকের বাস্তববাদী একজন মানুষ!

আমার পুরনো দিনের গানের প্রতি অগাধ ভালোবাসা,
আর তোমার? ছাড়ো!তোমার গান শোনার এত সময় কই?
আমি তোমার মায়ায় বিভোর হয়ে ডাইরিতে কবিতা লিখতে ব্যস্ত,
আর তোমার কত কর্মব্যস্ততা, আমার কবিতা পড়ার সময়টুকু ও নেই!

আমি তোমার মাঝে এক অসাধারণ মানুষকে দেখতে পাই যার মায়ায় আমি বন্দী,
আর আমার মাঝে তুমি বোধহয় এক বোকাসোকা পাগলামি ভরা ব্যক্তিত্ব দেখতে পাও!

আচ্ছা,
এত এত অমিলের মধ্যে আমাদের মনের মিল কি আদৌ সম্ভব?

~~ Ramish Jahra

10/10/2024

তোমার নাকি কবিতা পছন্দ?
আমি লিখলে পড়বে তো?
শুনেছি শিউলির সুভাস বড্ড প্রিয় তোমার!
আমার বাড়ির শিউলি গাছটা এখনো তোমার পথ চেয়ে আছে!
তুমি নাকি আকাশ ভালবাসো?
আচ্ছা একসাথে বসে পূর্ণিমার চাঁদ দেখবে?

নীল রং তোমার অনেক প্রিয়,
তাই বোধহয় একদিন আমায় "নীলা" নাম দিয়েছিলে!
আর বৃষ্টির প্রতি তোমার আসক্তির কথা তো বরাবরই জানা আমার।
বৃষ্টি আসলেই সে কি মুগ্ধ চোখে চেয়ে থাকো!
কভু আমায় দেখে ও কি এতটা মুগ্ধ হও?

তোমার সকল প্রিয় ভালবাসার জিনিসের ব্যাপারে পিএইচডি করা আমার!
তবুও খালি একটা প্রশ্নে বারংবার আটকে যাই,
" তুমি কি আমাকেও ভালবাসো?"

~~ Ramish Jahra

19/08/2024

ভালবাসাতে কোনো শর্ত থাকেনা যে সামনের মানুষটারও আমাদেরকে ভালবাসতে হবে বা আমাদের তাকে পেতেই হবে! ভালবাসা তো হতে হয় নিঃশর্ত, নিঃস্বার্থ! পেলেও মানুষটাকে ভালবাসা যায়,না পেলে, হারিয়ে ফেললে ও তাকে ভালবাসা যায়!
ভালবাসা বা বাসতে থাকা টা আমাদের ইচ্ছা এবং তাকে পাওয়া বা হারিয়ে ফেলা টা আমাদের ভাগ্য🤍

মানুষ বাঁচে কোনো একটা কারণ নিয়ে! হয় "আশা" নাহয় "দুঃখ" ! আশা সামনে যাওয়ার উৎসাহ জাগায় আর দুঃখ কে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা যায় দিনের পর দিন!
ভালবাসা "আশা" ও দিতে পারে আবার "দুঃখ" ও!
বাকিটা মানুষের হাতে যে সে আশা বেছে নিবে নাকি দুঃখ!

লেখিকা - Ramish Jahra

11/08/2024

আজ অনেক দিন পর কলম ধরলাম! লিখতে বসলাম মনের কিছু ভাবনা! খুব ইচ্ছে করছিলো যেন কিছু একটা লিখি! কিন্তু মনের মধ্যে যেন কেবল একটা শূন্যতা। কত কিছুই তো ঘটছে চারপাশে, তবু সব যেন নির্জীব, প্রাণহীন। লিখতে বসেছি, কিন্তু মাথায় কিছুই আসছে না। এমন একটা সময় চলছে, যেখানে মন খুঁজছে কিছু অর্থপূর্ণ, কিন্তু খুঁজে পাচ্ছে না।

কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। লেখা তো আমার মুক্তির জায়গা, আমার একান্ত নিজস্ব আশ্রয়। তাই হয়তো আজও আমি কলম হাতে নিয়েছি, কারণ আমি জানি, কোথাও না কোথাও, আমার মনের গভীরে লুকিয়ে আছে সেই অজানা গল্প, যা আমাকে তৃপ্তি দেবে, আমাকে বাঁচিয়ে রাখবে।

আজ না হয় সেই গল্পের অপেক্ষায় থাকি। হয়তো আজকের রাতে, যখন সবকিছু শান্ত হয়ে যাবে, তখন সেই গল্প নিজের থেকে বেরিয়ে আসবে। আর আমি তার সঙ্গী হবো, তাকে নিজের মধ্যে ধারণ করবো, লিখে রাখবো সেই গল্পটাকে, যেন কেউ না কেউ, কোনো একদিন সেই গল্প পড়ে আমাকে খুঁজে পায় সে গল্পে!

লেখিকা - Ramish Jahra

Address


Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Jahra's Quill and Ink posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Jahra's Quill and Ink:

  • Want your establishment to be the top-listed Arts & Entertainment?

Share