20/06/2026
মনে হবে কাল্পনিক গল্প, কিন্তু আসলে এটা সত্যি ঘটনা।
এক ব্যক্তি নতুন বিয়ে করার কদিন পরই পরিচিত কয়েকজন ভাইকে বাসায় দাওয়াত করেন। কিন্তু তার স্ত্রী রান্না করতে জানতেন না। বিয়ের আগে কখনোই রান্না করেননি। ধরি নিই, তার নাম উম্ম আব্দুল্লাহ। আবু আব্দুল্লাহ যখন জানান, তিনি কয়েকজন বন্ধুবান্ধব ও পরিচিত ভাইকে বাসায় দাওয়াত করে খাওয়াতে চান উম্ম আব্দুল্লাহ মানা করলেন না। তিনি বললেন, ‘ঠিক আছে। আমি ভালো রান্না করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
‘রেসিপি দেখে, মাকে ফোনে জিজ্ঞেস করলেই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ’—হয়তো এমনটাই ভেবেছিলেন উম্ম আব্দুল্লাহ।
দাওয়াতের দিন উম্ম আব্দুল্লাহ ফজরের পরপরই রান্না শুরু করে দিলেন। ফোনের ওপাশে তার মা, এপাশ থেকে জিজ্ঞেস করেন, ‘এরপর কী দিব? এরপর কী করব?’ ওপাশ থেকে তার মা উত্তর দেন। এভাবে চলতে থাকে।
যুহরের সময় আবু আব্দুল্লাহ মেহমানদেরকে নিয়ে এসে রান্না ঘরে ঢুকে দেখেন রান্না শেষ তবে সবকিছুর বারোটা বেজে গেছে। পুরো রান্নাঘরে জিনিসপত্র এদিক-সেদিক ছড়ানো।
তারপরও আবু আব্দুল্লাহ মেহমানদের সামনে খাবার আনলেন। মুখে দিতেই বুঝা গেল কোনোটাতে লবণ বেশি, কোনোটা ঝাল, কোনোটা পুড়ে গেছে। একটা ডিশও ঠিকঠাক হয়নি।
মেহমানরা মুখে কিছু বললেন না। যেহেতু ইসলামিক আদব হচ্ছে খাবার খারাপ লাগলে অভিযোগ না করে চুপ থাকা। কিন্তু আবু আব্দুল্লাহ তো বিব্রত। তিনি বললেন, ‘স্যরি, আমি খুবই বিব্রত। আসলে আমার স্ত্রী প্রথমবারের মতো এত মানুষের জন্য রান্না করল। ও অবশ্য অনেক চেষ্টা করেছে, ফজরের পর থেকে যুহর পর্যন্ত রান্না করছে, কিন্তু কী করার! চলুন, আমরা কোনো রেস্টুরেন্টে...’
মেহমানদের মধ্যে উস্তায আব্দুর-রহমান হাসান হাফিজাহুল্লাহও ছিলেন। তিনি বলেন, ‘তার দরকার নেই। আমরা বরং এই খাবারগুলো শেষ করি।'
‘কী!’
‘বোন এত কষ্ট করে রান্না করলেন, তাকে উৎসাহ দেয়া দরকার। আমরা বরং অল্প করে বাসাতেও কিছু খাবার নিয়ে যাব।’
মেহমানরা কিছু খাবার নিয়েও গেলেন।
এর কয়েক মাস পর উস্তায আব্দুর-রহমান আবার সেই বাসায় দাওয়াত পেয়েছিলেন। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এতদিনে উম্ম আব্দুল্লাহ যেন শেফ হয়ে গেছেন! শুধু খাবারের স্বাদ না, প্লেটিংও শেফদের মতো!
উস্তায আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী ব্যাপার ভাই...!’
আবু আব্দুল্লাহ হেসে উত্তর দিলেন, ‘ভাই, সেদিনের ঘটনা আমার স্ত্রীকে খুবই অনুপ্রেরণা দিয়েছে। ওর রান্না যে খারাপ হয়েছিল সেটা ও নিজেই বুঝেছিল। নিজেই বলছিল, ওই ডিশে তো লবণ বেশি হয়ে গিয়েছিল, তারপরও মেহমানরা বাসায় নিয়ে গেলেন! এরপর সে রান্নাবান্নায় খুব মন দেয়।’
রান্না একেবারেই না পারলেও মানুষকে দাওয়াত দেয়া উচিত হয়েছে কি না, সেটা ভিন্ন আলোচনা। এই শিক্ষাটা মূলত মেহমানদের জন্য। মেহমানরা নেগেটিভ রিয়েক্ট করলে, খোঁচা মারলে হাযব্যান্ডের মেজাজও খারাপ হতো, ওয়াইফের ওপরও এর নেগেটিভ প্রভাব পড়ত। ঝগড়াঝাটিও হতো হয়তো।
আবার ভাবছিলাম, মেহমানরা যে কিছু খাবার বাসায় নিয়ে গিয়েছিলেন—তাদের পরিবার, তাদের ওয়াইফরা নিশ্চয় এমন, যারা একজন নববিবাহিতার রান্নায় অদক্ষতা নিয়ে হাসি-তামাশা করবেন না, পরে সুযোগ বুঝে খোঁটা দিবেন না—এই ভরসা ছিল। ゚viralシ