02/04/2026
কৃতজ্ঞতা তাদের প্রতি যারা আমাকে এতদূর আসতে সাহায্য করেছেন 🥰🌿
আজ আমাদের স্নাতক রেজাল্ট প্রকাশিত হয়েছে। সকলের আশীর্বাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণি (ফার্স্ট ক্লাস) পেয়ে বি.এ.(অনার্স) শেষ করলাম। রেজাল্ট যা এসেছে সেটাতে আমি খুবই সন্তুষ্ট। অবশেষে তো শেষ হলো! 😇
আজকের এ দিনে আমার মনে পড়ে যাচ্ছে ছোট্ট সেই আমির কথা। কলেজ জীবন পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ের বাইরে ইংরেজির কোনো গল্পের বই না পড়া, ইউটিউবে ইংরেজির কোনো ভিডিও না দেখা মেয়েটা ছিলাম আমি। সবসময় বাংলা সাহিত্য, উপন্যাস পড়ে দিন কাটিয়েছি। তাই যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ইংরেজি ক্লাসে প্রথম দিন গিয়েছি, আমি ভাবছিলাম, এ আমি কোথায় এসে পড়লাম! এমনিতে পড়া বুঝতে পারছি না, তার উপর সব লেকচার দিচ্ছে ইংরেজিতে! তখন শুধু ক্লাসে যেতাম আর আসতাম। যেখানে শিক্ষকেরা কী বলে গেলেন সেটাই বুঝি না, সেখানে পড়া ধরতে পারা তো দূরের কথা! খুব ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম। প্রথম বর্ষটা খুবই কষ্টের বছর ছিল আমার জন্য। বইয়ের এক পৃষ্ঠা থেকেই ১০-১৫ টা ইংরেজি শব্দ বের হতো যার অর্থ আমি জানি না। ক্লাসের অনেকেই তখন ভালো নোট নিত। সেখানে আমি থ হয়ে তাকিয়ে থাকতাম।
এর মধ্যে আবার করোনা চলে এসে সবকিছু উলট-পালট হয়ে গেল। ক্লাস বন্ধ। পড়াশোনার গতিও বন্ধ। তবে সৌভাগ্যক্রমে আমি প্রতিটা ইয়ারে কোনো না কোনো বন্ধু পেয়েছি যারা আমাকে কোনো না কোনোভাবে কিছুটা হলেও সাহায্য করেছে। আর কিছু কিছু প্রিয় শিক্ষকের ক্লাস আমাকে ইংরেজি সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ জন্মাতে সহায়তা করেছিল। এভাবে ধীরে ধীরে আমি একটু একটু করে শুরু করে আজ অবশেষে গ্র্যাজুয়েট হলাম। সেশনজট আর কম সিজিপিএর জন্য প্রখ্যাত এ ডিপার্টমেন্ট থেকে ফার্স্ট ক্লাস নিয়ে বের হতে পারছি, এটাই আমার জন্য মানসিক প্রশান্তির একটি বিষয়। ভগবান বুদ্ধের অশেষ কৃপা, অসীম মহিমা। আর সাথে নিজের প্রচেষ্টা 🙏
আজ আমি ধন্যবাদ দিতে চাই আমার প্রাইমারি, হাইস্কুল, কলেজ, আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের, যাদের অবদানে আমার শিক্ষাজীবন সমৃদ্ধ হয়েছে। সাথে আমার পরিবারকে, বিশেষ করে আমার মা, বড় বোন আর ভাইকে যারা আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন আর স্বপ্ন পূরণের সাথী হয়েছেন। বাবার কথা বলার মতো সৌভাগ্য নিয়ে জন্মাই নি। কারণ, বাবা অনেক আগেই পরপারে পাড়ি দিয়েছেন( I miss him).💘 কতই না খুশি হতেন! আমার প্রিয় বাবাটা! 💔
ডিপার্টমেন্টের কিছু বন্ধুদের, আর আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের যারা প্রতিনিয়ত নানাভাবে আমার চলার পথ মসৃণ করেছেন তাদের প্রতি আমার অশেষ ঋণ! নাম মেনশন করতে ইচ্ছে করছে কিন্তু আজ থাকুক। হয়তো কোনো একদিন তাদেরকে গর্বিত করতে পারব আর কৃতজ্ঞতা জানানোর মতো সুযোগ হবে। একা একা কেউ কখনো এগিয়ে যেতে পারে না। সকলের একটু একটু প্রচেষ্টাতেই তো মানুষ সামনে আগায়, তাই না?
পরিশেষে, আশীর্বাদ করবেন যেন জীবনে ভালো কিছু করে কারো না কারোর উপকারে আসতে পারি। সকলের প্রতি মৈত্রী পোষণ করছি। ভালো থাকবেন। 🙏💌