09/08/2026
লুঙ্গি, ধুতি খুলে যায় তাই পরি না!!
অনেকদিন ধরে একটা বিষয় খেয়াল করছি। হয়তো অনেকের কাছে ভালো নাও লাগতে পারে। তাই পূর্বেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। দেখুন, সংস্কৃতি চর্চা নির্ভর করে পুরুষ ও নারী উভয়ের উপর। শুধুমাত্র নারীরা পিনন-হাদি বা থামি পরলেই জাতির অস্তিত্ব টিকে থাকে না। পুরুষদেরও নিজেদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক লুঙ্গি বা ধুতি পরিধান করা দরকার। প্রায় সময় দেখা যায়, কোনো বিয়ের আমন্ত্রণে, কোনো আদিবাসী সংক্রান্ত প্রোগ্রামগুলোতে, কোনো সমাবেশগুলোতে নারীরা থামি পরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশিরভাগ পুরুষেরা সেখানে পরে আসেন প্যান্ট,শার্ট৷ যেন ওটাই তাদের কাছে সবচেয়ে কমফোর্টের একটি বিষয়।
(সবাই নয়, কেউ কেউ ব্যতিক্রম আছেন। লুঙ্গি পরে আসেন, সাথে থাকে ঐতিহ্যবাহী ব্যাগ। স্বিগ্ধ ও সুন্দর লাগে তাদের) 🌼🥰
কিন্তু বাস্তবতা হলো, নারীরাও যে খুব খুশি নিয়ে থামিটা পরেন এমন নন। তাদেরও কষ্ট হয়, বারবার ঠিক করতে হয়, সবার সামনে ঠিক করাও যায় না, মাঝে মাঝে অস্বস্তি কাজ করে৷ তবু তারা পরেন জাতির প্রতি টান থেকেই। কিংবা পরাটা উচিত বলে মনে করেই।
কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে দিন দিন এ চর্চাটা কমে আসছে। বিহারে গেলেও প্যান্ট শার্ট, কোনো নবীন বরণ বা বিদায় অনুষ্ঠানে গেলেও প্যান্ট শার্ট, এমনকি আদিবাসী দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানেও সবাইকে লুঙ্গি বা ধুতি পরতে দেখা যায় না। যদি তাদের জিজ্ঞেস করা হয় কেন তারা পরেন নি? তাহলে তাদের উত্তর থাকে, "পরতে পারি না, খুলে যায় বা চলাফেরায় অসুবিধা হয়।" কিন্তু এটা কি উদ্বেগের বিষয় নয়?
সংস্কৃতি তখনই টিকে থাকে যখন এটি দৈনন্দিন জীবনে অনুশীলন করার প্রচেষ্টা করা হয়। যদি নানা অজুহাতে ছেলেরা লুঙ্গি পরাটাকে এড়িয়ে চলেন তাহলে একপাক্ষিক সংস্কৃতিচর্চা তৈরি হবে যা মোটেই কাম্য নয়।
অনেক বড় বড় প্রোগ্রাম যেটি আদিবাসী সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত, সেখানেও দেখি, পুরুষ অতিথিদের প্রায়ই কোর্ট-টাই বা প্যান্ট-শার্ট পরে আসেন। মাঝে মাঝে তাদের গলায় শুধু ঐতিহ্যবাহী ড্রেসের উত্তরীয় ঝুলে। সেই অনুষ্ঠানে নারীদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা দেখে তারা প্রশংসাও করেন। কিন্তু নিজের দিকে তাকাতে যেন তারা ভুলেই যান। মাঝে মাঝে তাদের বক্তব্যে ওঠে আসে, নারীদের উপরেই জাতি রক্ষার বড় দায়িত্ব। তারাই জাতির হাল ধরে থাকে। তাই তাদেরই সংস্কৃতি চর্চাটা বেশি করা উচিত। কিন্তু আসলেই কি তাই? একজন শিশুর কাছে যেরকম মা ও বাবা উভয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ তেমনি একটি জাতির অস্তিত্বও নারী ও পুরুষ উভয়ের উপর নির্ভরশীল।
কারো উপর একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে আসুন, উভয়ে মিলে একটি শক্তিশালী ভিত তৈরি করি যার কারণে রক্ষা পাবে জাতিগত ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পোশাক। এমন একটি সমাজ বা অভ্যাস গড়ে তুলি যেখানে পুরুষেরা যেমন নিজের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে তেমনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে নারীরাও। কমে আসুক বিকৃত সংস্কৃতির চর্চাটা।
সকলকে আদিবাসী দিবস-২০২৬ এর নিরন্তর শুভেচ্ছা।