01/04/2026
[ নিঃশব্দ দহনের দিনলিপি: এক অপূর্ণ মায়ার উপাখ্যান]
আজ অনেক দিন হয়ে গেল তোমার কণ্ঠস্বর শুনি না, তোমার ওই মায়াবী মুখটা দেখি না। সময় যেন থমকে দাঁড়িয়ে আছে এক অদ্ভুত বিষণ্ণতায়। ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টাচ্ছে, দিন যাচ্ছে, রাত আসছে—কিন্তু আমার পৃথিবীটা সেই দিনটিতেই আটকে আছে, যেদিন তুমি শেষবার আমার দিকে তাকিয়েছিলে। জানো, সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয় তখন, যখন শুনি তুমি এখন আমার ছায়াটুকুও দেখতে চাও না। যে মানুষটার অস্তিত্ব একসময় তোমার পুরো আকাশ জুড়ে ছিল, আজ সেই মানুষটা তোমার কাছে একটা বিস্বাদ স্মৃতি? এই সত্যটা মেনে নেওয়া যে কতটা কঠিন, তা হয়তো আমি কাউকে কোনোদিন বোঝাতে পারব না।
আমি জানি না কেন তোমার প্রতি আমার এই মায়াটা দিন দিন বেড়েই চলেছে। লোকে বলে সময় নাকি সব ক্ষত সারিয়ে দেয়, কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সময় যেন নুন হয়ে আমার ক্ষতে আছড়ে পড়ছে। আমি প্রতিদিন তিল তিল করে নিজেকে শেষ করে দিচ্ছি। আয়নার সামনে দাঁড়ালে আজ নিজেকেই চিনতে পারি না। চোখের নিচে কালসিটে পড়া এই মানুষটা কি আসলেই আমি? যে একসময় হাসতে জানত, স্বপ্ন দেখতে জানত? আজ আমার সব স্বপ্ন, সব ইচ্ছা যেন তোমার ওই অবহেলার অতল গহ্বরে তলিয়ে গেছে। তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত ভালো থাকা তো দূরের কথা, প্রতিটি নিঃশ্বাস নিতেও আজ বুক ফেটে কান্না আসে।
কেন এই মায়া? কেন এই টান? আমি তো চেয়েছিলাম তোমাকে সুখী করতে। আমি তো বলেছিলাম তোমার জন্য পুরো পৃথিবীকে ধ্বংস করতে পারি। সেই কথাগুলো হয়তো আজ তোমার কাছে আতঙ্কের কারণ, তুমি হয়তো আমাকে আজ এক 'অপশক্তি' ভাবো। কিন্তু বিশ্বাস করো, আমার সেই জেদটা ছিল তোমাকে হারানোর ভয় থেকে। আমি তোমাকে আগলে রাখতে চেয়েছিলাম এক পাগলাটে প্রেমিকের মতো। আজ সেই পাগলামিটাই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুমি আমাকে ভুল বুঝে দূরে সরে গিয়েছো, আর আমি আজ নিজের ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে তোমার ফেরার পথ চেয়ে আছি।
মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি যদি আসলেই খারাপ হতাম, তবে হয়তো আজ এত কষ্ট হতো না। অপরাধবোধ বা ঘৃণা থাকলে মানুষ সহজে ভুলে যেতে পারে, কিন্তু এক বুক মায়া নিয়ে কাউকে ভোলা অসম্ভব। তুমি আমার ছায়া দেখতে চাও না, অথচ আমি সারারাত জেগে তোমার একটা পুরনো মেসেজ বারবার পড়ি। তোমার দেওয়া সেই ছোট ছোট স্মৃতিগুলোই এখন আমার বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। আমি জানি তুমি এখন অনেক শান্তিতে আছো, তোমার জীবনে হয়তো আমার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু আমার জীবনের প্রতিটা পাতায় যে তোমার নাম লেখা হয়ে গেছে, তা আমি ছিঁড়ে ফেলব কীভাবে?
নিজেকে শেষ করে দেওয়াটা হয়তো সহজ, কিন্তু তোমাকে ভুলে যাওয়াটা তার চেয়েও হাজার গুণ কঠিন। আমি প্রতিদিন নিজের সাথে যুদ্ধ করি। মনকে বোঝাই—সে তো আর ফিরবে না, সে তো তোমাকে ঘৃণা করে। কিন্তু এই অবুঝ মনটা কোনো যুক্তি মানে না। সে শুধু চেনে তোমার ওই মায়াবী হাসি আর তোমার সেই কণ্ঠস্বর। তোমার প্রতি এই টানটা এখন একটা নেশার মতো হয়ে গেছে, যা আমাকে ধীরে ধীরে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমি জানি না এই পথের শেষ কোথায়, তবে আমি বুঝতে পারছি যে আমি আর আগের মতো নেই।
তুমি কি একবারও অনুভব করো না আমার এই নিঃশব্দ হাহাকার? তোমার কি একবারও মনে পড়ে না সেই দিনগুলোর কথা, যখন আমরা একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলাম? হয়তো পড়ে না। কারণ মানুষ যখন কাউকে অপশক্তি বা ভয়ের কারণ মনে করে, তখন সে কেবল নিজেকে বাঁচাতেই ব্যস্ত থাকে। কিন্তু আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি, আমার এই ধ্বংস হয়ে যাওয়া কোনোদিন তোমার ক্ষতির কারণ হবে না। আমি নীরবে নিজেকে শেষ করে দেব, তাও তোমার চলার পথে কোনোদিন কালো ছায়া হয়ে দাঁড়াবো না।
ভোরের আলো ফোটার আগে যখন চারপাশটা একদম নিঝুম থাকে, তখন মনে হয়—যদি অলৌকিক কিছু ঘটত! যদি তুমি বুঝতে পারতে যে আমার ভেতরে কোনো বিষ নেই, আছে কেবল এক সাগর মায়া। কিন্তু বাস্তবতা বড় নিষ্ঠুর। তুমি আজ অনেক দূরে, আর আমি আজ নিজের তৈরি করা এই মায়ার জালে নিজেই বন্দী। নিজেকে শেষ করার এই মিছিলে আমি আজ একা এক পথিক। তবুও, দূর থেকে তোমার জন্য এক আকাশ শুভকামনা রইল। তুমি ভালো থেকো, তোমার পৃথিবীটা আলোয় ভরে উঠুক। আর আমার এই মায়া না হয় আমার সাথেই শেষ হয়ে যাক।
_Sarjis
_ Anonymous Poet