18/08/2026
আমানুল্লাহর দিন শুরু হতো ঘড়ির কর্কশ অ্যালার্মে। মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা বেতন পেয়েই সে মেতে উঠত ক্ষণিকের বিলাসে। আইফোন, ব্র্যান্ডেড জুতো আর বন্ধুদের দামি রেস্তোরাঁয় ট্রিট দিতেই সপ্তাহ শেষে পকেট শূন্য হয়ে যেত। আপাতদৃষ্টিতে তাকে সফল মনে হলেও, ভেতরে ভেতরে সে এক অদৃশ্য দেউলিয়া জীবনের বৃত্তে বন্দি ছিল।
একদিন জ্যামে আটকে থাকা অবস্থায় কামালের চোখে পড়ল এক অদ্ভুত দৃশ্য। একটি গাধার চোখের সামনে গাজর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ক্ষুধার্ত পশুটি সেই গাজরের লোভে অবিরাম গাড়ি টেনে চলেছে, কিন্তু গাজরটি কখনোই তার মুখে পৌঁছাচ্ছে না।
দৃশ্যটি আমানুল্লাহ মাথায় হাতুড়ির মতো আঘাত করল। সে চমকে উঠে ভাবল, “আমিও কি এই গাজরের পেছনে ছোটা গাধাটি নই? প্রতি মাসের বেতনই কি আমার সেই গাজর?”
তখনই তার মনে পড়ল রবার্ট কিয়োসাকির ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ বইয়ের সেই অমোঘ বাণী—"গরিবেরা টাকার জন্য কাজ করে, আর ধনীদের জন্য টাকা কাজ করে।" আমানুল্লাহ বুঝতে পারল, সে আসলে 'র্যাট রেস' বা ইঁদুর দৌড়ে ফেঁসে গেছে।
পরদিন থেকেই আমানুল্লাহ তার লাইফস্টাইল বদলে ফেলল। ক্রেডিট কার্ডের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার বন্ধ করল, বন্ধুদের আড্ডা সীমিত করল এবং প্রতি মাসে বেতনের একটা বড় অংশ সঞ্চয় করতে শুরু করল। সেই জমানো টাকা দিয়ে সে প্রথমে শেয়ার বাজার এবং পরে এক বন্ধুর অনলাইন ক্যাটারিং ব্যবসায় ছোট অংশীদার হিসেবে বিনিয়োগ করল।
চার বছর পর, কামালের ব্যাংক ব্যালেন্স ও লভ্যাংশ দুটোই বাড়ল, কিন্তু সে আগের মতোই সাধারণ জীবনযাপন করতে লাগল। কারণ সে ততদিনে বুঝে গেছে, ক্ষণিকের দেখনদারি প্রলোভন নয়, আসল স্বাধীনতা লুকিয়ে আছে নিজের সম্পদ সৃষ্টিতে।