27/03/2026
অষ্টমী মেলা, ১৪৩২
বাসন্তী পূজাকে কেন্দ্র করে চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের অষ্টমী তিথিতে সিরাজগঞ্জের ভূইয়াঁগাতী গ্রামে আয়োজিত হয় মহা অষ্টমী'র স্নান, এবং মেলা। এই মেলা মূলত মাছের মেলা হিসেবে পরিচিত। প্রাচীন সময়ে এই মেলাই ছিল মানুষের সারা বছরের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। মেলা এলেই সারা বছরের প্রয়োজনীয় মসলা,মাটির হাড়ি-পাতিল,রান্না-বান্নার সামগ্রী, চাষাবাদের যন্ত্র-পাতি,কাঠের তৈরী জিনিসপত্র,কসমেটিকস ইত্যাদি কিনত গৃহস্থ ব্যক্তিরা।
মাছ ছিল এই মেলার অন্যতম আগ্রহের বিষয়। মেলায় বিভিন্ন রকম বড় বড় মাছের দেখা মিলত। মাছ কেনাকে ঘিরেই প্রত্যেক বাড়ির ছেলে এবং জামাইদের মধ্যে চলত এক আনন্দ প্রতিযোগিতা।শুধু ভূইয়াঁগাতী গ্রাম নয়,আশেপাশের এলাকা থেকে হিন্দু-মুসলিম,নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অংশ নিত এই আনন্দ অনুষ্ঠানে। মোবাইল বিহীন সেই সময়ে এই মেলাই ছিল সকলের বিনোদনের স্থান।
কিন্তু সময়ের পালা বদলে এখন এই মেলা পরিণত হয়েছে শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতায়। নিয়ম মত সকল দোকান-পাট বসলেও মানুষের মধ্যে সেই আনন্দ ক্রমে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ব্যাপক নগরায়ণের ফলে এখন সকল প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবসময়ই হাতের মুঠোয়। তাই, পূর্বের সময়ের মত এখন আর মানুষের অংশগ্রহণ ও নেই। নিছক শখের বশেই কেউ কেউ অবসর সময়ে ঘুড়তে আসেন মেলায় এবং কিছু কিছু জিনিস কেনেন। নিষ্প্রাণ এই মেলায় মাছ কেনাটাও যেন এখন শুধুই নিয়ম রক্ষার স্বার্থেই।
ভয়াল আধুনিকতা ধীরে ধীরে গ্রাস করছে বহু বছরের সংস্কৃতি,ঐক্য ও মানুষের ছোট ছোট আনন্দগুলোকে। আর এই একটি পোস্টের পরই আমরা আবার হারিয়ে যাব যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততায়,যেখানে টিভি-কম্পিউটার-মোবাইলের ভীড়ে গ্রাম বাংলার এসব আনন্দ উৎসব মনের কোণে একবারও উঁকি দিবে না।
তাইতো কবিতাটি মনে পরে যায়,,
দাও ফিরে সে অরণ্য , লও এ নগর ,
লও যত লৌহ কাষ্ঠ ও প্রস্তর,,,,