06/08/2026
"... *কখনও কখনও ইলম শেখার জন্য কিছু ‘জাহেল’ লোকও আসে এবং তালীম-তরবিয়ত গ্রহণ না করে ‘জাহেল’ই বের হয়ে যায়*।...
.. শুধু দাড়ি না থাকার বা ছোট থাকার উপর ভিত্তি করে কীভাবে একজনকে ‘বেআমল’ ও ‘বেআখলাক’ বলে দেওয়া হল? কারো সম্পর্কে এই কথা সঠিক হলেও তো এ কারণে তাকে ‘দাড়িহীন’ বলা যায় কিংবা বলা যায়, ‘দাড়ির মতো একটি সুন্নতে ওয়াজিবার তরককারী’। কিন্তু একেবারে আমল-আখলাক কিছুই নেই এটা কীভাবে বলা যায়? তারা যেন অনুগ্রহ করে উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা তকী উছমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর সহীহ বুখারীর দরসী তকরীর ‘ইন‘আমুল বারী’ প্রথম খন্ডে ‘বাব আদ্দীনু ইউসরুন’ পড়ে নেন। ইনশাআল্লাহ এর দ্বারা ‘গুলূ’ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে এবং চিন্তা-ভাবনায় ভারসাম্য আসবে।
সেখানে হযরত একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। চেচনিয়ায় রূশবাহিনীর আক্রমণ চলছিল। সেখানকার মজলুম মুসলমানদের জন্য সাহায্যের বিভিন্ন প্রচেষ্টা চলছে। এ সময় হযরতের একজন পুরানো দোস্ত, অত্যন্ত দ্বীনদার, সাক্ষাতের জন্য আসেন। আলোচনা প্রসঙ্গে হযরত তাকে বললেন,‘চেচেনিয়ার মুসলমানদের জন্য কিছু সাহায্য পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, ইচ্ছে হলে তুমিও এতে শামিল হতে পার।’ ওই দোস্ত বললেন, এই চেচেনিয়ার লোকেরা তো দ্বীনদার নয়! না মুখমন্ডলে দাড়ি আছে, না তাকওয়া-পরহেযগারীর কোনো চিহ্ন, কিছুই নেই!
হযরত বলেন, ‘আমার এত বিরক্তি লাগল যে, খোদার বান্দা, মানুষের সম্পর্কে কুধারণারও তো একটা সীমা-পরিসীমা থাকে!
‘ওই মুসলমানরা বছরের পর বছর রাশিয়ার জুলুম-অত্যাচারের শিকার, শুধু এই জন্য যে, তারা কালেমা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করে, আর তুমি বল, তাদের দাড়ি নেই!
‘আল্লাহকে ভয় কর, একজন কালেমা পাঠকারী শুধু কালেমার কারণে জুলুম-অত্যাচারের শিকার হচ্ছে, আর তুমি বলছ, দাড়ি নেই, তাই সে সাহায্য পেতে পারে না। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
এই ঘটনা উল্লেখ করে হযরত রাহ. বলেন, ‘এমন কেন? শরীয়তে (র বিধানাবলিতে) কি কোনো পর্যায়ক্রম নেই? সবচেয়ে বড় জিনিস দাড়ি! এটা থাকলেই চলে! এরপর গীবত করুক, মিথ্যা অপবাদ দিক, লেনদেনে হাজার সমস্যা থাকুক, অন্যের হক মারুক, যা ইচ্ছা করুক, দাড়ি যেহেতু আছে অতএব ‘দ্বীনদার’! ‘দ্বীনদারের’ অর্থ আমরা ধরে নিয়েছি ‘দাড়িওয়ালা’। দ্বীনদার অর্থ দ্বীনের অনুসারী। তো এরা দ্বীনদারির সম্পূর্ণ অর্থ দাড়ির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে!