14/07/2026
প্রতি বছর বন্যা এলে কিছু মুখ বারবার চোখে পড়ত। আর এস ফাহিম, তৌহিদ আফ্রিদি, ফারাজ করিম চৌধুরী— নামগুলো হয়তো সবার কাছে সমান প্রিয় নয়, কিন্তু একটা বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই, তারা অন্তত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করত।
আমরা অনেকেই ঘরে বসে সমালোচনা করি, কিন্তু কয়জন মানুষ সত্যিই নৌকায় চড়ে, ভিজে কাপড়ে, বুকসমান পানিতে নেমে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই?
প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের সবার জন্য খাবার, বিশুদ্ধ পানি আর ওষুধের ব্যবস্থা করা কোনো একক মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই মানুষের সহযোগিতা নিয়েই সাহায্যের হাত বাড়াতে হয়। "দশের লাঠি, একের বোঝা"— এই কথাটার বাস্তব রূপই তো এসব উদ্যোগ।
কিন্তু ২০২৬ সালে চারদিকে তাকিয়ে একটা প্রশ্ন বারবার মনে আসে— তারা নেই, তাহলে কে আছে? কয়জন মন্ত্রী, নেতা বা বড় ব্যবসায়ীকে মাঠে দেখা গেছে? কয়জনকে দেখা গেছে দুর্গত মানুষের কান্না কাছ থেকে শুনতে?
হ্যাঁ, গত কয়েক দিনে কিছু ব্লগারকে দেখা গেছে খাবার আর পানি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে। তারা ভিডিও করেছে, মানুষকে দেখিয়েছে, সাহায্যের আবেদন করেছে। অনেকে এটাকে "লোক দেখানো" বলে। কিন্তু সেই ভিডিও দেখে যদি একজন মানুষও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, যদি একটি পরিবারও খাবার পায়, তাহলে সেই "লোক দেখানো"র মধ্যেও তো মানবতার একটা আলো জ্বলে।
ক্যামেরা বন্ধ হলে কে কী করে, সেটা আল্লাহ ভালো জানেন। কিন্তু ক্যামেরা চালু রেখে যদি কেউ একটি ক্ষুধার্ত শিশুর হাতে খাবার তুলে দেয়, একজন বৃদ্ধের কাছে বিশুদ্ধ পানি পৌঁছে দেয়, তাহলে আমি সেই কাজটার মূল্য দিতেই শিখেছি।
কারণ সমালোচনা দূর থেকে করা সহজ, কিন্তু মানুষের কান্নার কাছে পৌঁছানো সহজ নয়।
শেষ পর্যন্ত ইতিহাস সমালোচকদের নাম মনে রাখে না, মনে রাখে তাদের, যারা দুর্যোগের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিল।