16/05/2026
একইসাথে দুটো ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছিলেন কারিনা কায়সার!
হেপাটাইটিস এ এবং ই দুটোতে একসাথে সংক্রমিত হওয়াকে বলা হয় 'কো-ইনফেকশন'। এ দুটোই ফেকো ওরাল রুটে ছড়ায়। অর্থাৎ দূষিত খাবার, পানি, স্যানিটেশন ইত্যাদি। সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর কারিনা কায়সার কো ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়েছিলেন।আজ তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।
হেপা-এ এবং হেপা-ই দুটোই অ্যাকিউট সংক্রমণ ঘটায়। অর্থাৎ কোনো ভোগান্তি ছাড়াই হঠাৎ করেই লিভারে এই ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলাফল— লিভার ফেইলিওর। যে কোনো একটি হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হলে লিভার ফেইলিওরের সম্ভাবনা ৯% এর নিচে থাকে। কো-ইনফেকশনে এই সম্ভাবনা বেড়ে যায় ৫০% পর্যন্ত। ফলে লাইফ সাপোর্টের দরকার পড়ে।
অন্যান্য দেশে কো-ইনফেকশন বিরল হলেও বাংলাদেশে তা কমন। ভারতে হেপাটাইটিস রোগীদের মধ্যে ১.৩ থেকে ২ শতাংশ কো ইনফেকশনের শিকার হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও মিশরে প্রায় ২৬ শতাংশ হেপাটাইটিক রোগী কো ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়! কো-ইনফেকশনে মৃত্যু ঝুকিও অনেক বেশি, যদি না ট্রান্সপ্লাট করা হয়।
এইখান থেকে আমরা এইটা শিক্ষা নিতে পারি যে রাস্তার খোলা ও অস্বাস্থ্যকর খাবার এড়িয়ে চলতে হবে আর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে,হেপাটাইটিসের ভ্যাকসিন নিতে হবে,অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করা যাবে না। তানাহলে কারিনা মত অকালে প্রান দেওয়া লাগবে।
আর ফ্যাটি লিভার থেকেও আমাদের সাবধানে থাকতে হবে।
ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver) বর্তমানে খুবই কমন একটি সমস্যা। অনেকেই শুধু আল্ট্রাসোনোগ্রাম রিপোর্টে “Fatty Liver Grade-1 বা Grade-2” দেখে ভয় পেয়ে যান। কিন্তু শুধু আল্ট্রাসোনোগ্রাম করলেই যথেষ্ট নয়।
এর সাথে ১০-১২ ঘণ্টা ফাস্টিং বা না খেয়ে সকালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষা করা প্রয়োজন, যেমনঃ
• Fasting Lipid Profile
• SGPT / ALT
• Fasting Blood Sugar / HbA1c
যদি রিপোর্টে LDL (খারাপ কোলেস্টেরল), Triglyceride (TG) এবং SGPT বেড়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে লিভার ঝুঁকির মধ্যে আছে।
সাধারণত নরমাল রিপোর্টের মাত্রাঃ
• LDL: 100 mg/dL এর নিচে ভালো
• Triglyceride (TG): 150 mg/dL এর নিচে
• SGPT / ALT: সাধারণত 40 U/L এর নিচে
• HDL: পুরুষে 40+, নারীতে 50+ ভালো
• HbA1c: 5.7% এর নিচে স্বাভাবিক
আমরা যখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি, কোমল পানীয়, মিষ্টি, সাদা ভাত, ময়দা বা প্রসেসড খাবার খাই, তখন লিভার অতিরিক্ত শর্করাকে চর্বিতে রূপান্তর করে। এই চর্বি ধীরে ধীরে লিভারে জমে Fatty Liver তৈরি করে।
ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকলে শরীরের কোষ ইনসুলিনকে ঠিকভাবে কাজ করতে দেয় না। ফলে লিভারের ভেতরে চর্বি আরও দ্রুত জমতে থাকে। অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ বা চিনি লিভারে সরাসরি নতুন চর্বি তৈরির প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়।
তাই শুধু ওষুধের উপর নির্ভর না করে জীবনযাত্রার পরিবর্তনই ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা।
ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে করণীয়ঃ
১| লো-কার্ব ডায়েট অনুসরণ করুন। চিনি, মিষ্টি, কোমল পানীয়, সাদা আটা, ফাস্টফুড ও অতিরিক্ত ভাত কমান। শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ ও প্রোটিন বাড়ান।
২| নিয়মিত ব্যায়াম করুন। প্রতিদিন অন্তত ৩০-৪০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইক্লিং বা Aerobic Exercise ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায় এবং লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে।
৩| ওজন কমান। শরীরের মোট ওজনের ৭-১০% কমাতে পারলেও অনেক ক্ষেত্রে Fatty Liver উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
৪| ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী Intermittent Fasting অনেকের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে।
৫| পর্যাপ্ত ঘুম ও স্ট্রেস নিয়ন্ত্রণ। রাত জাগা, অনিদ্রা ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স বাড়াতে পারে।
৬| ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন করুন। এগুলো লিভারের ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
৭| ডায়াবেটিস, থাইরয়েড ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন। এই রোগগুলো নিয়ন্ত্রণে না থাকলে Fatty Liver দ্রুত খারাপ হতে পারে।
৮| অযথা হারবাল বা সাপ্লিমেন্ট খাবেন না। অনেক তথাকথিত “লিভার ক্লিনিং” ওষুধ উল্টো লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
ফ্যাটি লিভার শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই লিভার আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে। তাই আতঙ্ক নয়, প্রয়োজন সচেতনতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত ফলোআপ।
#ডাঃ_নাসরিন_নিপা