03/08/2021
জ্বীনি
লেখকঃ আবির হাসান
পর্বঃ ১
প্রেস কনফারেন্স এর সামনে বসে আছেন দেশের বিশিষ্ট প্রত্নতত্ত্ববিদ জনাব শোয়েবুর রহমান নয়ন। অনেক সাংবাদিক তার ছবি তুলছে। একসময় সে তার চেয়ার থেকে উঠে মাইকের সামনে এসে দাড়ালো উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশ্যে বললেন
- আপনারা সবাই জানেন আমরা এতোদিন কুমিল্লায় খনন কাজ চালিয়ে বেশ চাঞ্চল্যকর কিছু নিদর্শন পেয়েছি।
এই বলে তিনি একটা বোতাম টিপতেই পর্দায় কতগুলো ছবি ভেসে উঠলো।সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে দেখতে লাগলো। কতগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক জিনিসপত্রের ছবি। তার মধ্যে কয়েকটা দেওয়াল এর আঁকা বিভিন্ন ছবি ছিলো। কয়েকটা ছবি খুব অদ্ভুত কেননা ছবি গুলো একসাথে করলে বিষয়টা এরকম দাড়ায় যে একজন লোক কালো ধোঁয়ার মতন বৃহৎ আকৃতির এক দানব কে একটা ছোট্ট বোতলের ভিতর বন্ধ করছে। বিষয়টা দেখে সবাই অবাক হয়ে গেলো।
- আপনারা যা দেখছেন ঠিকই দেখছেন, আসলে বিষয়টা পুরোপুরি সত্য। আমরাও প্রথমে অবাক হয়ে যাই। এরপর আমরা এইটা নিয়ে রিচার্স শুরু করি এবং জানতে পারি,প্রাচীন আমলের যারা জ্বীনদের বশ করতে পারতো,তাদের কে দিয়ে কাজ করাতো। আমাদের নবী হযরত সুলায়মান (আঃ) এর ও কিছু আনুগত্য জ্বীন ছিলো। পৃথিবীতে এমন কিছু মানুষ ছিলো যারা অবাধ্য জ্বীনদের শাস্তিস্বরূপ কোনো বোতল,প্রদীপ বা আয়নার ভিতর বন্ধি করে রাখতো।
সাংবাদিকদের মধ্যে একজন উঠে বললো
- জ্বীনদের বন্ধি! তাও বোতলে স্যার ক্ষমা করবেন তবে এই বিশ শতাব্দীতে দাড়িয়ে বিজ্ঞানের যুগে এই কথা টা বলা পাগলামি ছাড়া কিছু না।
প্রফেসর নয়ন মুচকি হেসে বললো
- সময়ের পরিবর্তনে মানুষের জীবনধারার পরিবর্তন ঘটে, হ্যাঁ আমরা এখন উন্নত কিন্তু তারপর ও কিছু বিষয় একটা মিথ হয়ে রয়ে গেছে। বিজ্ঞান আমাদের অনেক সাধন করেছে এটা ঠিক কিন্তু কিছু কিছু ঘটনা আছে যার ব্যাখ্যা এখন ও বিজ্ঞান দিতে পারেনি। মানুষ মারা গেলে গড়ে ২১ গ্রাম ওজন কমে যায় এইটা তোমাদের বিজ্ঞান এ প্রমাণিত হয়েছে।কিন্তু এই ২১ গ্রাম ওজন এর কি হয় তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত বা ধারণা এখোনো বিজ্ঞান আমাদের দিতে পারেনি।
একটু থেমে আবার বলতে লাগলো।
- আমরা প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা করি,এবং তার ফলাফল প্রকাশ করি,আমরা হাজার বছরের পুরোনো সভ্যতার নিদর্শন গুলো নিয়ে রিসার্চ করি। যাইহোক আমরা যে নিদর্শন নিয়ে কাজ করছি সেইটা ২_৩ হাজার বছরের পুরোনো। তখনকার সেই মানুষ গুলো ঐ জ্বীনদের হাতে ব্রেসলেট পরিয়ে দিতো এবং তাদের মনিবের আদেশ পালন করতে বাধ্য করতো।
অন্য এক সাংবাদিক তাকে জিগ্যেস করলো
- তারমানে স্যার আপনি বলতে চান আলাদীনের প্রদীপ বলতে কিছু সত্যিই আছে? আমরা এতোদিন এটা কল্পকাহিনী হিসেবে জেনে এসেছি।
- দেখুন এই কথাটা আমি বলছিনা,বলছে এই দেওয়ালে পাওয়া হাজার বছরের পুরোনো এই চিত্রগুলো। তবে আমরা এখন ও তেমন কিছু পাইনি এই চিত্রগুলো ছাড়া যেটা এই বিষয়টাকে ক্লিয়ার করবে,তবে আমরা আমাদের খোঁজ এবং গবেষণার চালিয়ে যাচ্ছি এটার উপর। আমরা হয়তো সামনে আরও নতুন কোনো তথ্য পেতে পারি। সবাই কে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ।
এইবলে প্রফেসর নয়ন কক্ষ ত্যাগ করলেন।
ভিতরের কক্ষে গিয়ে হাই সিকিউরিটিতে থাকা একটা বাক্স খুললেন,বাক্সে ভিতরে লাল পর্দাটা তুলতেই একটা বড় সোনালি রং এর প্রদীপ হাতে নিলেন। তারপর তিনি তার ম্যানেজার কে ডাকলেন।
- প্রেস কে যা বলার সেটা বলে দিলাম, এরথেকে বেশি বললে সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। আর এই প্রদীপ এর ব্যাপারে আগেই কিছু বলা যাবেনা
- কেনো স্যার
- আমরা জানিই না এর ভিতরে কি আছে, তো যদি এইটার বিষয়ে জানাজানি হয়ে যায় তাহলে এইটা সরকার নিয়ে নিবে তারপর যদি এটা কাঙ্ক্ষিত জিনিস না হয় তাহলে সরকার এই পুরো খনন কার্যের টাকা ফিরিয়ে নিবে,যেটা আমাদের জন্য দুঃস্বপ্নের থেকে বড় কিছু না। তাই আগে আমাদের এইটা নিয়ে গবেষণা করতে হবে।
- জ্বী স্যার
- আমাদের এখনই এইটাকে এখান থেকে সড়িয়ে ফেলতে হবে। কারণ প্রেসের লোকজন চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাদের নজরে পরলে বিষয়টা গোলমেলে হয়ে যাবে।
- জ্বী স্যার, আমি এখুনি কড়া সিকিউরিটি মাধ্যমে এইটাকে সড়িয়ে ফেলছি
- নাহ,এই ভুলটা করবে না,কারণ এইভাবে করলে রাস্তায় চেকপোস্ট এ পুলিশ আটকাবে,যেরা করবে শেষমেশ চুরির দায় উঠবে,
- তাহলে কি করবো স্যার
- আপনি কুরিয়ার করে পাঠিয়ে দিন,ঐটা ভালো হবে।
- জ্বী,আপনি যা বলেন
- হ্যাঁ তাড়াতাড়ি করো এবং জিনিসপত্রের লিস্ট থেকে এইটার নাম সড়িয়ে দাও।
- আচ্ছা স্যার।
- দেখ,আমার আঙ্কেল আমার জন্য ঢাকা থেকে ব্রান্ড এর ব্যাট,বল পাঠিয়েছেন। এইবার খেলায় সর্বোচ্চ রান আমি এই রিয়াদ ই করবে (রিয়াদ)
- বাহ,ভাই বাহ! কত্ত সুন্দর ব্যাট। কই দেখিতো (তানভীর)
- এই নে দ্যাখ!
- কই আমার হাতে দে তো
- যা একটা বল কর
এই বলে রিয়াদ বলটা শাওন এর দিকে ছুড়ে মারলো, বোলিং সাইডে দাড়িয়ে থাকা শাওন বলটা ক্যাচ ধরে হাঁটতে লাগলো। রিয়াদ স্ট্যাম্প এর সামনে দাড়িয়ে ইশারা করতেই শাওন বল করার উদ্দেশ্যে দৌড়ে এসে বল করতেই রিয়াদ দু পা সামনে এগিয়ে ব্যাট দিয়ে সজোরে বলে আঘাত করায় বলটি সোজা ডিপ কভার পয়েন্ট বরাবর উড়ে গেলো।
- ওয়াও কি হিট করেছিস ভাই তুই!(তানভীর)
রিয়াদ বলের দিকে তাকিয়ে রইলো বলটা নিচে পরছে,এবং এসে আমার হাতে পরলো
রিয়াদ,শাওন,তানভীর এবং বাকিরা তাকিয়ে দেখতে লাগলো। আমি বলটা ক্যাচ নিয়ে বললাম
- যতই দামি ব্যাট আর ভালো পিচে খেলিস না কেনো,তুই রিয়াদ looser, looser ই থাকবি।
কথাটা বলেই আমি আর আমার পাশে থাকা তাসিম হাসতে লাগলাম।এইটা দেখে রিয়াদ রাগে আগুন হয়ে আমাদের দিকে আসতে লাগলো।
- ওই তুই looser কাকে বললি কে!
- কেনো রিয়াদ তুই ছাড়া এখানে আর কাকে দেখছিস
- হা হা হা (তাসিম)
এই বলে আমি আর তাসিম হাসতে লাগলাম। রিয়াদ তো প্রচন্ড রেগে গেলো।
এরমধ্যেই তানভীর এসে বললো,
- রিয়াদ,যেমন সব বল নো বল হয়না,তেমনি সবাই কমেন্ট ছুড়ে মারলেই ড্যামি মরিশন হয়না।
এই বলে ওরা হাসতে লাগলো। আমার যে কতটা রাগ উঠছে বলে বুঝাতে পারবো না
- কে looser ঐটা ম্যাচ ই বলে দিবে,(রিয়াদ)
- হ তাইলে হয়ে যাক ম্যাচ(আমি)
- ব্যাট বল সব আমার,তো আমরা প্রথমে ব্যাট করবো
- হুমম মামুবাড়ির আবদার তো,
- কোনো প্রশ্ন
- এতোই যখন ইচ্ছা তখন নিজে নিজে খেল,খরচ কমবে রিয়াদ
- ঐ কয়েন বের কর,টস হবে
সাদ কয়েন বের করে টস করতে যাবে এরমধ্যেই আমাদের স্পোর্টস টিচার মিজান স্যার চলে আসলো।
- একি তোমরা কি করছো এখানে,
- এই স্যার আমরা (আমি)
-ও ও ক্রিকেট, আমিও খেলবো।
রিয়াদ আমার কানে ফিসফিসিয়ে বললো
- কিন্তু খেলা তো আমাদের মধ্যে হওয়ার কথা ছিলো।
- কি স্যার,কোথায় আমরা রিয়াদের লেভেলের চুনোপুঁটি আর কোথায় আপনি সাকিব আল হাসান।
স্যার খুশি হলেন কিন্তু রিয়াদ খেঁপে গেলো
- হ্যাঁ কোথায় আমরা আবিরের মতন ঘরে বসে লুডু,ষোলগুটি খেলার প্লেয়ার আর কোথায় আপনি,আমাদের সাথে খেললে আপনার ট্যালেন্টের ইনসাল্ট ঘটবে।
স্যার শুনে হেসে দিলো কিন্তু আমার মাথা রাগে আগুন হয়ে আছে। আমি আমার শার্টের হাতা কাচিয়ে বলতে লাগলাম
- মিজান স্যার,আপনি আম্পায়ার হন টস করুন টস,দেখাচ্ছি এই রিয়াদ কে ধচ্যাম্পিয়ন কাকে বলে।
- হ্যাঁ আমি আম্পায়ার হবো এবং তোমাদের মধ্যে যারা ভালো খেলবে ওদের আমি কলেজ টিমে এ্যাড করবো
আমি ও রিয়াদ একে অপরের চোখে ক্ষীণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি, দুজনার চোখেই রাগ চোখের চাওয়ার মধ্যে ই জেনো আমাদের মাঝে অনেক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়ে গেছে এই অবস্থা। স্যার টস করার জন্য কয়েন বের করলেন, "হেড'' এবং টস এ হেড আসলো।রিয়াদ টস জিতে ব্যাটি শুরু করে দিলো,আমি বল হাতে নিয়ে দৌড়ে যেই বল টা,করতে যাবো শেষ মূহুর্তে অমনি হাত দেখিয়ে থামিয়ে দিলো রিয়াদ, কোনো মতে থামলাম।
- একি রিয়াদ শেষ সময় ব্রেক লাগালে কেনো
রিয়াদ নিজের গ্লাভস খুলে টাইট করে লাগালো,পা দিয়ে পিচে কয়েকটা আচর দিলো
- হো হো রিয়াদ কি স্টাইল! (শাওন)
আমি আবার ফিরে গিয়ে দৌড়ে এসে বল করলাম,রিয়াদ ডিফেন্স করার জন্য ব্যাট পাতার আগেই বল স্ট্যাম্প এ লেগে বেল পরে যায়,রিয়াদ এর কপালে হতাশার ছোপ মানেই আমার আনন্দ! হুড়রে! বলে লাফিয়ে উঠলাম
- সাব্বাস! আবির,স্পেশাল বলে স্পেশাল উইকেট (সাদ)
এবার ব্যাট করতে আসবে তানভীর,খেলাট জমে উঠছে কিন্তু ততক্ষণে বৃষ্টি নেমে আসলো। আর আমাদের বাধ্য খেলাটা ওখানেই বন্ধ রাখতে হলো,খেলা বন্ধ হলো তো কি হলো রিয়াদ কে পচানোর সুযোগটা ছাড়লাম না।
রাস্তায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে হাঁটছি,মনটা ভালো নেই পাশে তাসিম আছে
- ছাড় না ভাই এমনিতেও রিয়াদ এর পরাজয় নিশ্চিত ছিলো। ওর চৌদ্দ গোষ্ঠীর কপাল ভালো যে বৃষ্টি টা হলো,নইলে
- হুহহ আজ একটা দারুণ সুযোগ ছিলো ব্যাটা রিয়াদ কে দেখিয়ে দেয়ার
- আল্লাহর কাছে লাখ শুকরিয়া যে বৃষ্টি টা হলো,নইলে গো হারা হারতাম (শাওন)
- ঐ তুই আমার দলে নাকি ঐ আবিরের দলে
- থাক না,কেনো নিজেদের মাঝে ঝগড়া করছিস, শচীন যতবার শূন্য রানে আউট হয়েছে ততোগুলো ম্যাচ ও খেলেনাই।
- ব্যাটা আবির বেশি বাড়া বাড়ছে! আমার সব কাজের মাঝে চলে আসে, ইসস আমি যদি সেই আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীদ পেতাম তাইলে আমিও দেখিয়ে দিতাম আমিও কারোর থেকে কম না (রিয়াদ)
- এই রিয়াদ কে যতক্ষন না শায়েস্তা করতে পারছি না ততক্ষণ আমার শান্তি নাই তাসিম,আমার শান্তি নাই। যদি আমার কাছে আলাদীনের সেই প্রদীপ পেতাম তাহলে!ইসসস
এই বলে ফুটপাতে পরে থাকা একটা বোতলে লাথি মারলাম। বোতলটা ছিটকে গিয়ে বাইক চালিয়ে যাওয়া একটা লোকের মাথায় আচমকা পরতেই বাইকটা ডানপাশে কাত হয়ে পরতেই সামনে থেকে আসা একটা কুরিয়ার ভ্যানের সাথে সংঘর্ষ হলো। কুরিয়ার ভ্যান চালক হঠাৎই ব্রেকচাপায় রাস্তায় খুব ঘর্ষণ হলো, টায়ারের দাগ পরে গেছে রাস্তার উপর। এবং ল্যামপোস্টেরর সাথে ধাক্কা খেলো। নিমিষেরই লোক জনের ভিড় জমে গেলো। মোটরবাইক চালানো লোকটা একটুর জন্য গুরুতর এক্সিডেন্ট এর হাত থেকে বেঁচে গেলো। আমি ভয়ে তাসিমের হাতটা ধরে ফেললাম।
- আবির! এখন আর এখানে থাকাটা ঠিক হবেনা! মানে মানে কেটে পরি
- চল, ভাই
- ভাই রিয়াদ! আবির,তাসিম ওরা চুপিসারে কোথায় যাচ্ছে
- চল গিয়ে দেখি,
আমরা পাশ কাটিয়ে চলে যাবো অমনি আমার,চোখ পরলো কুরিয়ার ভ্যানের পেছনের দরজাটা খোলা এবং দরজার ভিতর থেকে একটা ছোট বক্স কিছুটা দুরে পরে আছে। বক্সটার দিকে তাকিয়ে থাকতেই আমার কেমন জেনো অদ্ভুত লাগছে,আমি বক্সটার দিকে এগিয়ে যেতে লাগলাম। যেই তুলতে যাবো তখনই আমার উপর কারোর ছায়া পরে আছে,আমি মাথা তুলে তাকাতেই দেখলাম রিয়াদ দাড়িয়ে আছে।
- রাস্তায় পরে থাকা জিনিস তুলতে নেই,এই শিক্ষা টা কি পাওনি!
আমি ধীরে ধীরে উঠে দাড়িয়ে বললাম
- নাহ পাই নাই, তাতে তোর কি
- অবশ্য তোর এই স্বভাব কখনো ই যাবেনা এখন সড়ে দাড়া,এইটা আমি প্রথমে দেখছি
- অন্যের জিনিস কে নিজের বলে চালিয়ে দেয়া এই শিক্ষা টা কোন সনামধন্য কলেজ থেকে শিখেছিস।
- আমি এইটা নিয়ে খুলে দেখবো,তারপর দিয়ে দিবো।
- দিয়ে যখন দিবি খোলার দরকার কি,চল আমিই দিয়ে দেই
এই বলে আমি যেই বক্স টা নিতে যাবো অমনি আমার হাত দুটো ধরে ফেললো রিয়াদ।
- একবার বলছি না যে আমি দিয়ে আসবো
- বেস তো,রাস্তায় পরে আছে তুলে নে।
এই বলে আমি ঝট করে বক্স টা তুলে নিলাম, রিয়াদ আমার হাতের বক্স টা টেনে ধরে বললো
- দে আমাকে দে
- আয় নিয়ে নে
- ছেড়ে দে আবির
- ছাড়ার জন্য তো ধরিনি
- ভালো হবে না কিন্তু বলে দিচ্ছি
- আমিও দেখে নিবো,তুই আমার কোন মন্দ টা করিস।
- ছাড়
- না ছাড়বো না
শুরু হলো বক্স নিয়ে টানাটানি। একবার রিয়াদ ওর দিকে বক্স টানে এবং একবার আমি আমার দিকে টানি। তাসিম আর তানভীর দুজন দুজনার কাঁধে হাত রেখে আমাদের চিয়ার করে যাচ্ছে
"আবির! আবির!......রিয়াদ! রিয়াদ!"
আমাদের দুজনার টানাটানিতে বক্সটা জেনো গরম হয়ে উঠছে।
- কিরে হাতটা গরম হয়ে যাচ্ছে কেনো
- কেমন জেনো পোড়াপোড়া গন্ধ পাচ্ছি
- হ্যাঁ আমিও
হঠাৎই আমাদের হাতের বাক্সটায় আগুন জ্বলে উঠলো। আমরা ভয়ে বক্স টা ছুড়ে ফেলে রাস্তায় বসে পরলাম ভয়ে৷ বক্স টা নিচে না পরে শূন্যে ভেসে উঠলো। বক্স টা পুড়ে ছাই হয়ে গেলো। বক্সের ভিতর থেকে একটা সোনালি রংয়ের প্রদীপ বেড়িয়ে এলো। আমি,রিয়াদ,তাসিম,তানভীর সবাই অবাক চোখে তাকিয়ে দেখতে লাগলাম। হঠাৎই প্রদীপের মধ্যে থেকে সাদা ধোঁয়া বের হতে লাগলো। এইটা দেখে আমি আর রিয়াদ একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম। একসময় সাদা ধোঁয়া বের হতে হতে প্রদীপ টা ঝনঝন করে নিচে রাস্তায় পরে গেলো। আমি আর রিয়াদ ভয় পেয়ে গেলাম। সাদা ধোঁয়া টা আমাদের মাথার উপর বিরাট বড় একটা দানবের আকার ধারণ করতে লাগলো।
,
,
,
To Be Continued....
ভালো লাগলে জানাবেন। গল্পটা বেশি বড় না। আপনাদের সবার মতামত পেলেই গল্পটা কনটিনিউ করবো। ধন্যবাদ
#আবির