04/03/2026
একদিন যাকে পাওয়ার জন্য পুরো দুনিয়ার বিরুদ্ধে যেতে প্রস্তুত, যার জন্য হাজারো পাগলামি, যাকে একদিন ভীষণ যত্নে আগলে রাখতে ইচ্ছে হতো, যার এক ফোঁটা অশ্রুও সহ্য হতো না... তাকেও কি একদিন এতটা নিষ্ঠুরভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া যায়? এভাবেও কি ভালোবেসে কাউকে ঠকানো যায়? হায়রে পুরুষ মানুষের মন! তাদের ভালোবাসা, আবেগ, অনুভূতি, মায়া, টান, যত্ন, আকুলতা, ব্যাকুলতা সবই ঠিক থাকে... শুধু বদলে যায় বিপরীতে থাকা মানুষটা। পুরুষ কখনো কোনোকিছুতেই আটকায় না। তাদের কোনো মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ রাখা যায় না। কারণ তাদের সেই মায়ার প্রয়োজনই নেই। তাদের যা প্রয়োজন তা হলো— ভিন্ন ভিন্ন নারীর সাথে যৌনাচারে লিপ্ত হয়ে স্রেফ আনন্দ উপভোগ করা। ঠিক যেমন আমরা একই খাবার খেতে খেতে বোর হয়ে গেলে অন্য কিছু ট্রাই করি। পুরুষদের পুরো ভালোবাসাটাই বাহ্যিক, আত্মিক নয়। কারো জন্য তাদের ফিলিংস নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত কাজ করে। মেয়াদ শেষ, ভালোবাসার জ্বালানিও শেষ। "এক নারীতে আসক্ত পুরুষ"— এটা খুবই ভুল একটা কনসেপ্ট।
প্রতারকরা সবসময় কাউকে ঠকিয়ে নিজে খুব ভালোই থাকে। তারা খুব সহজেই অন্য কারো সাথে মুভ অন করতে পারে, শান্তিতে ঘুমাতে পারে। আরেকজনের জীবন ধ্বংস করে আয়নায় নিজের মুখ দেখতেও লজ্জা করে না। অপর প্রান্তে মানুষটার ভেতরে যে ভীষণ কষ্টের ঝড় বইছে তা দিয়ে এদের কিচ্ছু যায় আসে না। এদের অপশনের অভাব নাই। এক যায় তো আরেক আসে। শুধু ভালো থাকা হয় না ইকরার মতো বোকা, অতি-আবেগি মানুষগুলোর যারা কাউকে নিঃস্বার্থভাবে হৃদয় নিঙড়িয়ে একজনকেই ভালোবাসে, তাকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চায়, যার সমস্ত জগৎটা ঐ একটা মানুষকে ঘিরে। সব জেনেও, সব বুঝেও তারা পারে না ছেড়ে যেতে, পারে না অন্য কারো সাথে মুভ অন করতে। তারা অপেক্ষা করে— এক দীর্ঘ অপেক্ষা। কিন্তু সেই অপেক্ষা শেষ হয় না, বরং এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়। সবাই তো আর সমপরিমাণ সাহস, মনোবল অথবা ধৈর্য নিয়ে জন্মায় না। কেউ কেউ নিজের কষ্টকে শক্তিতে রুপান্তর করে জীবনকে নতুনভাবে গড়ে। আর কেউ কেউ ইকরার মতো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। আত্মহত্যা মহাপাপ। কিন্তু একবার ভাবতে পারেন কোন পরিস্থিতিতে একটা মানুষ এমন ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নেয়! দিনের পর দিন কতটা অসহনীয় কষ্ট সহ্য করলে মানুষের কাছে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যু সহজ মনে হয়। কার জন্য মেয়েটা জীবন দিলো, নিজের সন্তানকে মা-হারা করলো? ঐ মানুষটা তো তাকে শেষবারের মতো দেখতেও আসলো না, কবরে মাটিও দিলো না। কী নির্মম! অথচ মেয়েটা তার জীবনের ১৫-১৬ বছর এই নিষ্ঠুর প্রতারকের পেছনে ইনভেস্ট করেছে, তার শূন্য পকেটেও পাশে থেকেছে, অন্য কেউ তার সমালোচনা করলে তেড়ে এসে প্রতিবাদ করেছে। মেয়েটা নিজের প্রিয় মানুষটার প্রতারণা দিনের পর দিন সহ্য করেও তার সম্মান রক্ষার জন্য চুপ থেকেছে। অথচ ঐ অমানুষটা কী বেহায়ার মতো লাইভে এসে তার মৃত স্ত্রীকে টক্সিক বলে! যে এই কুরুচিপূর্ণ লোকের সম্মানের কথা ভেবে এক বুক কষ্ট আর লাঞ্ছনা নিয়ে নীরবে চলে গেল, তাকে মুক্তি দিলো, তাকে তার মতো করে বাঁচতে দিলো... সে-ই কিনা তার মৃত স্ত্রীর সম্মান রক্ষা করলো না! বিন্দু পরিমাণ অনুশোচনা নাই। আচ্ছা, এতগুলো বছর একসাথে থাকলে তো একটা পোষা প্রাণীর জন্যও মায়া হয়। মানুষের জন্য মানুষের মায়া হয় না?
কাউকে এতো বেশি ভালোবাসা উচিত না যে নিজের আত্মসম্মান, আত্মপরিচয় এবং অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায়। কারো সাথে থাকার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেকে ভালো রাখা। যার সাথে আপনি ভালো থাকতে পারছেন না, প্রতিনিয়ত অবহেলা, অনিশ্চয়তা এবং মানসিক অশান্তিতে ভুগছেন.. তার সাথে থাকাটা বোকামি ছাড়া আর কিছু না। জোর করে ভালোবাসা আর সম্মান আদায় করা যায় না। যখন কেউ আপনাকে ভালোবাসা, সম্মান, নিরাপত্তা এবং নিশ্চয়তা দিতে পারবে না তার কাছ থেকে নিজের আত্মসম্মান নিয়ে এক মুহূর্ত নষ্ট না করে চলে আসুন। আর মেয়েদের উচিত সবার আগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা যেন বিয়ের পর স্বামীর ওপর এতোটা নির্ভরশীল হতে না হয় যে তার সব অন্যায় মেনে নিতে বাধ্য হতে হবে।
ভালোবাসা সুন্দর, যদি সঠিক মানুষ পাশে থাকে। আর যাদের কপালে আলভির মতো প্রতারক জোটে, তার জন্য ভালোবাসা ভয়ংকর কুৎসিত। কাউকে ভালোবাসাটা দুর্বলতা নয় বরং কাউকে ভালোবাসতে, বিশ্বাস করতে যথেষ্ট সাহস লাগে। একজনের হাতে নিজের পুরো জীবনটাকে, নিজেকে সমর্পণ করা এতো সহজ কোনো বিষয় না। যারা এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা পেয়েও মূল্য দিলো না, তারা হতভাগা ছাড়া আর কিছুই না! যখন কেউ আমাদের পাশে থাকে আমরা তার কদর করি না। যখন সে চিরতরে জীবন থেকে চলে যায় তখন বুঝি, কিন্তু ততদিনে অনেক দেরি হয়ে যায়। তখন আফসোস করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। একদিন আলভিও বুঝবে সে কী হারিয়েছে।
✍️ Umme Reeme Khalifa