10/08/2026
🟥 মেগা ইনপুট 🟥
দীনেশ ত্রিবেদী হাত বাড়িয়ে দিলেন। তারেক রহমানও হাসিমুখে সৌজন্যের হাত বাড়ালেন। এবং ঠিক সেই মুহূর্তে...মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভগ্নাংশে...ইতিহাসের পাতায় খোদাই হয়ে গেল এক নীরব আধিপত্যের চিত্র। দীনেশ ত্রিবেদী অত্যন্ত সুকৌশলে তার হাতটি রাখলেন তারেক রহমানের হাতের ঠিক ওপরে। তারেক রহমানের হাতটি রয়ে গেল নিচে, যেন এক অদৃশ্য ভারে চাপা পড়ে আছে।
ক্যামেরার ফ্ল্যাশগুলো জ্বলে উঠতে শুরু করল অবিরাম।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কোনো কিছুই কাকতালীয় নয়। এখানে প্রতিটি পদক্ষেপ, চোখের প্রতিটি পলক, হাসির প্রতিটি রেখা এবং সবচেয়ে বেশি...বডি ল্যাঙ্গুয়েজ বা শারীরিক ভাষা...আগে থেকে নির্ধারিত থাকে।
কূটনীতিতে কিছু অলিখিত 'এটিকেট' বা শিষ্টাচার আছে, যা রাষ্ট্রের ক্ষমতা ও অবস্থানের নীরব ঘোষণা দেয়। করমর্দনের সময় যাঁর হাত ওপরে থাকে, মনস্তাত্ত্বিকভাবে সেই রাষ্ট্রই ডমিনেট বা আধিপত্য বিস্তার করে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নির্বাহী প্রধান। আর দীনেশ ত্রিবেদী হলেন ভারতের একজন প্রতিনিধি মাত্র...হাইকমিশনার। ওই হাইকমিশনার কোনোভাবেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতের ওপর নিজের হাত রেখে আধিপত্যের বার্তা দিতে পারেন না।
আমরা না করলেও ধুরন্ধর ত্রিবেদী হোমওয়ার্ক করেই এসেছেন। নয়াদিল্লির চাণক্যরা তাকে শিখিয়েই পাঠিয়েছিলেন, কীভাবে একটি দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধরের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের রাষ্ট্রের মনস্তাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে হয়। তিনি ঠিক সেভাবেই হাত রাখার এই মাস্টারপ্ল্যানটি সুনিপুণভাবে এক্সিকিউট করেছেন।
কূটনীতির দুনিয়ায় এই দৃশ্য নতুন কিছু নয়। যারা বৈশ্বিক রাজনীতির খবর রাখেন, তাদের চোখের সামনে তখন ভেসে উঠছে অতীতের কিছু বিখ্যাত দৃশ্য।
মনে পড়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সেই আমেরিকা সফরের কথা? ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্প, যিনি তার আধিপত্যকামী করমর্দনের জন্য বিশ্ববিখ্যাত, তিনি মোদির হাত নিজের মুঠোর ভেতর নিয়ে ওপরে হাত রেখেছিলেন। এর মাধ্যমে ট্রাম্প সারা বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, এই সম্পর্কের সমীকরণে 'বিগ বস' কে।
আবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সেই ঐতিহাসিক ঘটনার কথা ভাবুন। ওই ভিডিওটি তো বিশ্ববিখ্যাত। কে কার ওপরে হাত রাখবে, কে কাকে ডমিনেট করবে...এটা নিয়ে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে হাত নিয়ে রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয়েছিল। কারণ তারা জানেন, ক্যামেরার এই একটি ফ্রেম আগামী কয়েক দশকের জন্য তাদের দেশের ভাবমূর্তি নির্ধারণ করে দেবে।
বাংলাদেশে তারেক রহমানের আশেপাশে এমন একজন লোকও কি ছিলেন না, যিনি এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের আগে তাকে ব্রিফ করবেন? তাকে শিখিয়ে দেবেন যে, আন্তর্জাতিক পরিসরে হাত মেলানোর সময় ঠিক কীভাবে নিজের হাতের অবস্থান ধরে রাখতে হয়?
কূটনীতি শুধু চুক্তির কাগজে স্বাক্ষর করা নয়; কূটনীতি হলো সেই ক্রুশিয়াল মুহূর্তগুলো, যেখানে সামান্য একটু হাত রাখার তরিকাতেই বাইরের বিশ্ব আপনাকে, আপনার রাষ্ট্রকে এবং আপনার মেরুদণ্ডকে জাজ করে।
আমাদের দেশের কূটনীতিক বা পরামর্শদাতারা যেন এক অদ্ভুত ঘোরের মধ্যে বাস করছেন। তারা কি আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই সূক্ষ্ম কিন্তু তীক্ষ্ণ চালগুলো দেখতে পান না? নাকি দেখেও না দেখার ভান করেন?
বড় বড় আন্তর্জাতিক চুক্তি বা দরকষাকষির টেবিলে জেতার আগে, এই ছোট ছোট মনস্তাত্ত্বিক জায়গাগুলোতে জিতে আসতে হয়। আপনি যদি করমর্দনেই হেরে যান, তবে চুক্তির টেবিলে আপনি আর কী দরকষাকষি করবেন?