Salma's Silent Sounds

Salma's Silent Sounds I am a shadow, Who are you? I am a meadow, You too? I am a song, Who are you? I am a wrong, You too?

15/06/2026

হজ্বের উপলব্ধি ৩

বিদায়ী তাওয়াফ করার আগ থেকেই খুব অন্যরকম হয়ে গেলাম। হয়না এমন যে ফিলিং নামব (numb), বুঝতে পারি না কেমন লাগছে, অনূভুতি গুলো নামহীন। ঠিক তেমনি। সেই অবস্থায় বিদায়ী তাওয়াফ করলাম। ফেরার প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা চেপে ধরলো। মক্কা থেকে জেদ্দা থেকে কাতার থেকে ঢাকা থেকে ব্রিজবেন।

ঘরে ফেরা। সময় থমকে দাঁড়ালো। নামহীন অনূভুতি গুলো নাম নিয়ে ফিরে এলো।

শয়নে স্বপনে জাগরণে কাবার ছবি কাবার স্মৃতি প্রতিধ্বনিত করে যাচ্ছে। এই ঘোর অবশ্যই স্বর্গীয়। অবশ্যই আল্লাহ প্রদত্ত।

উম্মে সালমা, টুঅং, ১৫/০৬/২০২৬

06/06/2026

হজ্বের উপলব্ধি ২

পায়ে ফোস্কা কখন পড়েছিল মনে নেই। আর কখনো ফোস্কা পড়লে সেগুলো এত ধারালো দাঁতালো ছিলো কিনা তাও মনে নেই। অথচ হজ্বের সময় ঠিক দিন রাত অবিরাম কামড়ানো কিছু ফোস্কা পায়ের তালুতে এসে হাজির। প্রথম উমরাহ করার পর থেকে বুঝতে লাগলাম প্রচন্ড গরমে পায়ের তালু আগুন আর সেই আগুন থেকে কি যেন পায়ের তলার সৃষ্টি হচ্ছে আর ফ্লোরে/মাটিতে পা দিতে পারি না। এমন ব্যথা এমন কামড়!

কঠিন যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে আল্লাহ তার বান্দার ইস্তিকামাত বা অবিচল আস্থা এবং কর্মের প্রতি নিষ্ঠা পরীক্ষা করেন। বুঝতে পেরেছি কিন্তু ধৈর্য্যচ্যুতিও ঘটেছিল। মাথা নষ্ট নষ্ট লাগতো। মন খারাপ লাগতো। কষ্ট লাগতো।

হে আল্লাহ! আমাদের বড় ছোট সব গুনাহ ক্ষমা করে দাও।

উম্মে সালমা, ৬/০৬/২০২৬

29/05/2026

হজ্বের উপলব্ধি ১

হজ্বকে বলা হয়েছে মহিলাদের জন্য জিহাদ। কেন বলা হয়েছে হজ্বের পাঁচদিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে (গ্রামে গঞ্জে শহরে মফস্বলে) মেনে নেয়া এবং মানিয়ে চলা আমি যে পরিমাণ পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছি এবং যে পরিমাণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছি, সেখান থেকে বুঝতে পেরেছি, কেন হজ্ব জিহাদ সমতুল্য।

উম্মে সালমা, মিনা, ২৯ মে ২০২৬।

01/05/2026

একজন মায়ের সফল ক্যারিয়ার?

একজন মায়ের সফল ক্যারিয়ার কেমন হয়? সফল ক্যারিয়ার বলতে আমরা আসলে কি বুঝি? নারী প্রধানমন্ত্রী, ওয়াও! নারী রাজনীতিবিদ, ওয়াও! নারী শিক্ষক, ওয়াও! নারী গবেষক, ওয়াও!

এরকম হাজারো "ওয়াও" চলে আসে এরকম হাজারো "ওয়াও" হোয়ার জন্য আমরা প্রতিদিন প্রতি মূহুর্তে স্বপ্ন দেখি। যে যার অবস্থান থেকে ভাবি, ইস! আমি যদি ওরকম কিছু একটা যেখানে আমার পটেনশাল পুরোপুরি বিকশিত হবে! আমি স্বাধীন স্বাবলম্বী হয়ে উঠবো।

কিন্তু এরকম স্বপ্নের পিছনে ছুটতে গেলে আমাদের মাতৃত্ব এবং সন্তান ওদের স্হান কোথায়? যারা মা হননি বা হবেন না তাদের প্রতি সম্মান রেখে যারা মা হয়েছেন আর ক্যারিয়ার গড়ছেন তাদের একজন হয়ে এই প্রশ্ন করছি। শুধু অন্যের জন্য নয়। এই প্রশ্ন আমার নিজেকে। আসুন দুইটা চিত্র দেখি।

ব্রিসবেনের একটি বাসা। দাওয়াতে জড় হলো অনেক গুলো পরিবার। তার মধ্যে কিছুক্ষণ পর আমি লক্ষ্য করলাম দুজন ক্যারিয়ারে অসম্ভব সফল দুই নারী বাংলাদেশের একি জেলা থেকে উঠে আসা এবং স্কুল জীবনের বন্ধু। একজনের গোটা কয়েক বড় বড় বাচ্চা এবং অন্যজনের একটা ছোট বাচ্চা। তো দুজন প্রচুর আলাপ জুড়ে দিলেন এবং আমরাও সাথী হলাম। যার বাচ্চা বড় তিনি খাবার সময় বাচ্চাদের তদারকি করলেন। নিজে খেলেন। আরেকজনো তাই। নিজে খেলেন। বাচ্চা কে খাওয়ালেন।

এর কিছুক্ষণ পর দেখলাম ছোট বাচ্চাটি মায়ের কাছে ঘেঁষাঘেঁষি করছে। ওড়না টানাটানি করছে। কিসব আবদার বায়না ধরছে। আর মা তাকে, এই সর সর এই যাও যাও বলে চোখ রাঙিয়ে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন। তখন বড় বড় বাচ্চার মা কে তিনি উপদেশ দিচ্ছেন,

"আমি ঠিক এরকম। একদম ঘেঁষতে দিই না। খাইয়ে দিই সবকাজ করি, কিন্তু বেশি কাছে টানি না। অভ্যাস খারাপ হয়ে যাবে। এভাবে একা চলতে চলতে ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট হয়ে উঠবে। আর আমার অত সময় আছে নাকি! তুমিও এরকম করবা। খাইয়ে দাইয়ে ফালাই রাখবা। নিজের ক্যারিয়ারের দিকে মন দাও। তুমি এত ব্রাইট... এখন একটু ব্যাকফুটে আছো।"

কথাটা শুনে বন্ধুর ও মন খারাপ। ভাবতে লাগলো, আসলেই তো, আমি অসফল। ক্যারিয়ারে মন দিতে পারলাম না। এই বাচ্চারা আমার সব সময় নিয়ে নেয়।

তো বাচ্চা পালতে গিয়ে যিনি ওনার কথা মতো ব্যাকফুটে আছেন তার হাতেও সার্টিফিকেটের পাহাড় এবং তিনিও বছরে ৮০কে ইনকাম করেন। আর তার বন্ধুর একটু বেশি: ৬ ডিজিট।

এই ঘটনা আমার মনে দাগ কেটে যায় এবং বহুদিন আমি ভাবতাম, মায়ের ক্যারিয়ারে সন্তানের স্হান আসলেই কোথায়? মায়েরা আসলে কিভাবে বাচ্চা এবং ক্যারিয়ার নেভিগেট করবে? ডিসটেনস তৈরি করে না বুকে টেনে নিয়ে। সন্তানকে বুঝিয়ে, আমি তোমার সাথে আছি। সবসময়?

আজ পর্যন্ত যতজন দেখছি, মা ক্যারিয়ারিষ্ট, একটা করতে গিয়ে একটা হারাচ্ছেন অথবা সব করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলছেন। Stress out হচ্ছেন। Burn out হচ্ছেন। নির্ভরতা খুঁজছেন।

যেমন আমি, এই সময়ে এসে বয়স যখন মিড ফোরটি তখন খুব ক্লান্ত বোধ করি। প্রতিদিন কাজের লিষ্টে এত এত কাজ জমা হয়, নেভিগেট কিভাবে করবো ভাবলে মাথা ভনভন করে। বিশেষ করে সেমিষ্টারের ক্লাস এবং মার্কিং যখন একসাথে আসে। এই সময়ে একটি সপ্তাহ একটি দিনের কথা যদি বলি...

ধরুন শনিবার রবিবার কমিউনিটি দাওয়াত এবং দায়িত্বের ফাঁকে বাজার রান্না করা হয়নি

ধরুন সোমবার সকালে আপনি দেখলেন :

ইনসপেকশনে আসবে বাসা পরিস্কার করতে হবে
খাবার কিছু নেই রান্না করতে হবে
ময়লার ফালাতে হবে এবং বিন পরিস্কার করতে হবে
কিছু ডেইলি বাজার করতে হবে
গোটা তিনেক ক্লাস নিতে হবে
ক্লাসের পড়ায় চোখ বুলাতে হবে
গোটা দশেক খাতা দেখতে হবে
একগাদা ইমেইলের উত্তর দিতে হবে
একটি মিটিং এ যেতে হবে
দেশে ফোনে কথা বলতে হবে
বাচ্চাদের প্রয়োজন মেটাতে হবে

তখন আসলেই ২৪ ঘন্টা দিন ছোট মনে হয়। মনে হয় দিন ৪৮ ঘন্টা হলে সবকাজ ঠিকমতো করা যেতো। এবং সবচেয়ে দুঃখজনক লাগে এখানে প্রত্যেকটা কাজ সময় সাপেক্ষ। প্রত্যেকটা।

তো এরকম একটা দিনে মায়েরা খুব স্বাভাবিক ভাবেই বার্ন আউট হয়ে যায়। মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে দিয়ে বিছানায় টানটান হয়ে শুয়ে থাকি। বিশেষ করে এই সময়ে বাচ্চাদের দেখাশোনা অনেক অনেক বেশি বারডেনসাম মনে হয়। মনে হয় তোদের জন্য আর কত দৌড়াবো! আর দৌড়ানো থেকে একটু থামতে যা করতে মন চায় তা হলো, সন্তানদের দেখাশোনায় মিনিমালিষ্ট (minimalist) হয়ে ওঠা। যা না করলেই নয় তা করা।

অথচ মিনিমালিজম কি এই জায়গায় হবার কথা? কারণ, একজন সন্তান সঠিকভাবে মানুষ করা (তার শারীরিক এবং ইমোশনাল প্রয়োজন পূরণ করে) একটা বিশাল কাজ। এটা একটা ইনভেস্টমেন্ট। একটা ফসলী জমি চাষ করার মতো। আমি আজকে যে যত্নে তাকে বড় করবো সে তা চোখ জুড়ানো বাগান করে উপহার দেবে। খাওয়ালে পরালেই কি দায়িত্ব শেষ হয়? তাদের সাথে প্রত্যেক দিনের কমিউনিকেশনের অভাবে যে গ্যাপ তৈরি হয়, তা একদিন খুব বড় ফাটল হয়ে চোখে পড়তে বাধ্য...

গতকালের লেখাটি এসব রিফ্লেকশনের ফল। নিজেকে সব সময় বোঝানোর উপর রাখি। নিজেকে চেকের উপর রাখি। ক্লান্তি এসে জীবনের উপর ভর করলে যেন ছোট ছোট মিষ্টি মানুষগুলোর প্রতি দায়িত্ব এবং কর্তব্য পালনে অবহেলা না করি এই জন্য নিজেকে রিমাইন্ডার দিই।

আর

আশেপাশে বিল্ডিং যখন বানানো হয় তাকিয়ে থাকি। কিছু ইট আস্ত, কিছু খন্ড খন্ড, কিছু গুঁড়া গুঁড়া। একজন ভীষণ ব্রাইট ভীষণ কর্মঠ মা দিনশেষে ঐ গুঁড়া গুঁড়া ইটের মতো, নিজেকে ভেঙে পরিবারের ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে দিয়ে যাচ্ছে।

গুঁড়ো হয়ে যাওয়া ইটদের কষ্ট বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটা অংশ।

উম্মে সালমা, টুঅং, ২ মে ২০২৬.

(সরি, বাবাদের কথা একটুও বললাম না। বাবাদের কথা বাবারা বলুক। তাদের পারস্পেকটিভ তাদের মুখ থেকেই না হয় শুনি!)

01/05/2026

একজন মায়ের পিএইচডির স্বপ্ন কেমন হয়? আমার মত একজন মায়ের পিএইচডির স্বপ্ন কেমন ছিলো?

২০১৫ সালের দিকে বা তারো আগের কথা। মনের ভেতর পিএইচডির স্বপ্ন লালন করে করে সবকিছু করে যাচ্ছিলাম: সংসার, চাকরি, বাচ্চাদের দেখাশোনা, সামাজিকতা।

ঐ সময় আশেপাশের অনেকের কথা শুনতাম।‌ ওমুক শিক্ষক পিএইচডি করতে চলে গেছেন। বাচ্চাকে মায়ের কাছে রেখে গেছেন। আবার কয়েকদিন গেলে আবারো শুনতাম, ওমুক শিক্ষক পিএইচডি করতে যাচ্ছেন। বাচ্চা নিবেন না। বাচ্চার দেখাশোনা তো সম্ভব হবে না। সারাদিন উনি ল্যাবে থাকবেন। আবার কখনো চবির ক্যাম্পাসে হাঁটতে বেরুলে একটা দুইটা বাচ্চার সাথে দেখা হতো। নানুর হাত ধরে হাঁটছে। মা বিদেশে।‌ পিএইচডি করছেন।

এসব খন্ড চিত্র বুকের ভেতর দারুন সব ঝড় তুলে দিতো। ভয়ে আশংকায় আতংকে বুক কেঁপে উঠতো। চোখের পানি এমনি এমনি গড়িয়ে পড়তো।

কাউকে ছোট করে নয়, ঐসব মাকে একটু অবজ্ঞা করে নয়, নিজেকে ঐসব শিক্ষিকা মায়ের জায়গায় বসায়ে আমি তখন ঢুকরে ঢুকরে কেঁদে উঠতাম,

"হে আল্লাহ! আমার বুকের মানিকদের আমার কাছ থেকে আলাদা করো না। হে আল্লাহ! আমাকে তুমি যেখানে নিয়ে যাও ওদের রিযিক আমার সাথে বরাদ্দ করে দিও।"

দেশে থাকতে ভাবতাম পিএইচডি মানে পড়াশোনার পাহাড়ের গুহায় ঢুকে পড়া। জীবন বলে কিছু নেই।‌ এটা সত্য অনেক কে দেখেছি পিএইচডি তে ব্রেকাপ। বাচ্চা নিয়ে ক্যাচাল। আনহ্যাপি লাইফ। সত্যি সবকিছু ঠিকঠাক করে কাজ আর সংসার ব্যালেন্স করা যেন এক রীতিমতো যুদ্ধ বিগ্রহ।

যুদ্ধ হবে জানি বিগ্রহ ও চলবে, তবু মা হিসেবে আমি খুব অসহায় বোধ করতাম এবং দুহাত তুলে দোয়া করতাম,

"হে প্রভু, মহামহিম, রহমানুর রাহীম, আমার বাচ্চারা যেন আমার সাথে থাকে। ওদের আমাকে দরকার। আমার ওদেরকে। আমি ওদেরকে পেটে ধরেছি। দু'বছর বুকের দুধ খাইয়ে সুখ অসুখে আগলে রেখেছি। ওদের তুমি আমার কাছ থেকে আলাদা করো না।"

আমার মন বলতো, আমার বাচ্চারা আমার কাছে আলো। ওরা আমার শত ব্যস্ততার শত কাজের মাঝে আকাশ ভরা তারা। ওরা কাছে থাকলে আমি পাহাড় পেরিয়ে যাবো, এই কি আর পিএইচডির পড়া! আমার সাহস লাগতো। মনে হতো ওরা থাকলে আমার কাজের আরো বরকত হবে।

আমি কখনো ভাবতাম না ওরা বোঝা। ওরা ব্যারিয়ার। আমি বরং ভাবতাম, ওরা আমার ক্যারিয়ার। আমার প্রথম প্রায়োরিটি। দা নাম্বার ওয়ান ইন মাই লাইফস বাকেট লিষ্ট। ওদের আমরা দুনিয়ায় এনেছি। ওরা আমাদের দায়িত্ব। আমাদের স্বপ্নের জন্যে ওদের আমরা কি দূরে সরিয়ে রাখতে পারি?

আজকাল খুব মনে পড়ে সেসব দিন। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে শুকরিয়া জানাই আমার মতো তুচ্ছ বান্দার দোয়া কবুল করার জন্য।

আর আজকের এই সন্ধিক্ষণে অষ্ট্রেলিয়ার মাটিতে একাকী দাঁড়িয়ে আবারো দোয়া করি,

"হে আল্লাহ! আমার সন্তানদের আমার কাছ থেকে আলাদা করো না। উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত পাত্রের কাছে তাদের দায়িত্ব হস্তান্তর করা পর্যন্ত আমাদের সবইকে একসাথে রাখো। আমাদের ট্রান্সন্যাশনাল ফ্যামিলিকে আবারো একসাথে করে দাও। ভরা মৌসুমের নদীর মতো পূর্ণ করে দাও আমার সংসার।আমীন।

উম্মে সালমা, টুঅং, ২০২৬.

"লিখে রেখে যাই স্মৃতি"

17/04/2026

সংসার: মিষ্টি কথা তিক্ত কথা

জীবন যখন থমকে যায়
ঝড়ের মুখে
সুখ যখন ছলকে যায়
ক্ষতির বুকে

তখন তো আর মিষ্টি কথা
যায় না বলা
স্বপ্ন সুখের গল্পে গল্পে
যায় না চলা

যায় কি?

তবুও

তখন তোমার অভিযোগের বিরাট পাহাড়
আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশীর কথার বাহার
ফুলঝুরি:
কেমন করে এই মেয়েটা এসব বলে
সেই মিষ্টি মেয়ে...
আগুনের শিখা হয়ে কেমনে জ্বলে?

মিষ্টি থাকে ধৈর্য থাকে
শুরুর দিকে
বোকা বোকা লজ্জা থাকে
সজল চোখে

বয়স থাকে শরীর থাকে
বহন করার
মন থাকে নিয়ত থাকে না
দহন করার

এসব করে করে সময় যখন যায় গড়িয়ে
সংসারের গাছপালা লতা গুল্ম যায় ছড়িয়ে
তখন যদি খুলতে থাকে পোশাকী লাভ
বিশ্রীভাবে নগ্ন হয় সম্পর্কের হিসাব

তখন নরম সরম মিষ্টি
নারী তোলে ফনা
রাগ ক্ষোভ অভিমান
আর যাবো না

তোমার পথে তোমার রথে
বলতে পারে
আগুন হয়ে অংগার হয়ে
জ্বলতে পারে

জ্বালাতে পারে আকাশ বাতাস তোমার চোখ
বিষে বিষে নীল করতে পারে মন কিংশুক
স্ফুলিঙ্গ তুলতে পারে অতীত ভুল টেনে এনে
নতুন করে ভাবতে শেখে শেখায় সম্পর্কের মানে

তখন কারো ভাল্লাগবেনা
এটাই স্বাভাবিক
তখন কারো সহ্য হবে না
এটাই অমোঘ সঠিক

কলুর বলদ প্রতিবাদী
হয়ে উঠলে
সবার প্রশ্ন অবাক বিস্ময়ে
যাবেই উথলে

এই কঠিন বিবাদ ভয় কোরো না ভয়ের কি মজলুমের হারাবার কিছু আছে নাকি?
যারা তোমায় মিষ্টি করে আদর করে রাখতে পারেনি
যারা তোমায় "কাউয়াম" হয়ে ঢাকতে পারেনি
অধিকার দায়িত্ব কর্তব্যের যুদ্ধ

তাদের সাথেই বেশি
তাদের সাথেই বেশি
তাদের সাথেই বেশি...

স্যাড, ভেরী স্যাড।

-----×----

উম্মে সালমা, টুঅং, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬.

08/04/2026

মানুষ কেন একা হয়ে যায়?

জীবনের কাছে খুব বেশি চাওয়ার কিছু ছিলো না। বৈষয়িক দিক থেকে বিশেষ করে। ইচ্ছে ছিলো জীবনে যা কিছু করি না করি আমার একটা মায়া মমতার ঘর থাকবে। আমি সাজিয়ে গুছিয়ে সংসার করবো। দিনশেষে ফিরে আসার তাড়া থাকবে। রাত শেষে প্রিয় পুরুষ প্রিয় সন্তানদের নড়াচড়ায় কাজের আয়োজনে রুমগুলো গমগম করবে।

সেই স্বপ্ন সেই সুখ হাতছাড়া হয়ে গেছে হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বুকের ভেতর ভেঙে যাচ্ছে একাকীত্ব চেপে আসছে...

ক্যারিয়ার পড়াশোনার প্রয়োজনে সবাই ছুটছে বিভিন্ন দিকে। বাস্তবতা নিয়তি।

জীবনের অংশ হিসেবে যাকে বরণ করে নিয়েছিলাম যার হাতে হাত রেখে পাশাপাশি বলবো বলে অঙ্গীকার করেছিলাম কিংবা যে বলেছিলো আমার সব দায়িত্ব নেবে সেও আজ যোজন যোজন দূরে।

যাদের শরীরের ভেতর একটু একটু করে ধারণ করেছিলাম যেখানে যেতাম তাদের শরীরের ভেতর বহন করে নিয়ে যেতাম তারাও এখন বড় হয়ে উঠছে। আলহামদুলিল্লাহ তাদের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার তাদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।‌ যেতে হবে।

একটা সময় খুব এম্বিশাস ছিলাম। ২০ -২৫ এর মধ্যে।‌মনে হতো ইচ্ছে ছিলো উচ্চতর শিক্ষার জন্য বিদেশে চলে যাবো। বাংলাদেশের পরিবারের সংস্কৃতি কিংবা আর্থিক টানাপোড়েন কিংবা অদৃশ্য বন্ধন তখন সেটা সম্ভব করে তুলতে পারেনি। বিশেষ করে মায়ের জন্য। মায়ের মুখ মায়ের আশ্রয়‌ মায়ের কথা: যেয়ো বিয়ে করে জামাই সহ পরিবারসহ যেয়ো।

সেই বিদেশ যখন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করে দেয় পরবর্তী সময়ে নিজেদের কিংবা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য তখন সুখের সাথে বুকের পাঁজরের একটা কঠিন বিবাদ লেগে যায়। এই সময়ে এসে, আমাদের মায়েদের মতো বলা যায় না, যেয়ো না কিংবা যাসনা। যেতে হয় পরিস্থিতির কারণে, যেতে হয় নতুন নতুন হিসেব নিকেশের জন্য ভবিষ্যতের জন্য...

আমি শূন্য একা পড়ে রই।‌ একা হয়ে রই।

এই টাই কি রবীন্দ্রনাথ "সোনার তরী" তে বলেছিলেন,
শ্রাবণগগন ঘিরে
ঘন মেঘ ঘুরে ফিরে,
শূন্য নদীর তীরে
রহিনু পড়ি--
যাহা ছিল নিয়ে গেল সোনার তরী।

জীবনের ফসল চাষ করতে করতে ফলাতে ফলাতে সোনার ফসল যখন ঘরে তোলার সময় সেই সময় কেন এমন অবস্থা

কাটিতে কাটিতে ধান এল বরষা।
একখানি ছোটো খেত, আমি একেলা,

কি এই সোনার তরী সবকিছু ঠিকঠাক আমার কাছ থেকে তুলে নিয়ে চলে যেতে চাচ্ছে? কিসের এই সোনার তরী? কেন তার ভরভরান্ত নৌকায় আমার কোন জায়গা হচ্ছে না?

"ঠাঁই নাই ঠাঁই নাই ছোট সে তরী
আমারি সোনার ধানে গিয়েছে ভরি?"

কেন এমন অবস্থা যে

"কূলে একা বসে আছি নাহি ভরসা" ?

বসে বসে ভাবছি আর অশ্রু জলে ভাসছি।
.…....…..........................

06/04/2026

বুকের নিবাস থেকে বের হয়ে পেছনে ফিরে দেখলাম
পড়ে আছে শূন্য খাঁচা।

23/02/2026

"অপ্রেম দিনের রিমান্ডে"

সময় যত এগুচ্ছে
ততই আমরা প্রেম ধুইতে বসেছি
ভুলতে বসেছি প্রেমের গতিময়তা
আমরা ছাড়তে বসেছি অকারণ হাসি আচানক খুনসুটি জিহ্বা বের করা ভেংচি নির্ভেজালের খোলস

এই আমার সবসময় ছলছল কল কল
আম্মার বকা শোনা দাঁত কেলানোর জন্য
বন্ধুদের কাছে পৃথিবীর সবচে সুখী মানুষ বলে ট্যাগ খাওয়া
এই যে তোমার বন্ধুদের সাথে প্রাণোচ্ছল আড্ডায় মেতে ওঠা
যখন তখন বাসা ছেড়ে বেরিয়ে পড়া
ফোনে কথার বন্যা বইয়ে দেয়া
সেই আমরা এখন সহজে হাসতে পারি না
একটি আঠালো গম্ভীরতা
একটা দুরাচার খ্যাচ খ্যাচ
আমাদের ঠোঁট দুটো লাগিয়ে দিয়েছে

আমাদের জীবনে
সকাল হয় সকালের মতোই
রাত হয় রাত হয়েছে যাই শুয়ে পড়ি‌ এইভাবে
একটি মিষ্টি দিন মিছিলের মতো এসে হামলে পড়বে আমার আঙিনায় এইসব ভূতভবিষ্যৎ ভেবে যখনি চোখ লেগে আসে
দুঃস্বপ্নের পেটের ভেতর আছড়ে পড়ি
কাঁদতে কাঁদতে জেগে উঠি
জেগে উঠে কাঁদতে থাকি
ঘরে কাঁদি বাইরে কাঁদি
তিথির নীল তোয়ালের মতো
ছোট একটি রুমাল চোখ চেপে
কাঁদতে থাকি মোনাজাতে সিজদায়

আমাদের প্রেমালাপ হবে কেন?
অনূভুতির আগুনে পুড়তে পুড়তে
যখন আমি অগ্নুৎপাতে পতিত
তখন সিসিম অফ
রাতদিনের পালাক্রমে

আমাদের প্রেমালাপ হবে কেন?
সংসারের ঘানিতে ব্যথিত কোমর ভারী মাথা জড়সড় পা এইসব নিয়ে কে কবে
ভালোবাসার কথা বলতে পেরেছে?
আমাদের প্রেম দখল করে নিয়েছে
ক্যালকুলেশন ম্যানেজমেন্ট
ক্যালকুলেশন ম্যানেজমেন্ট
ক্যালকুলেশন ম্যানেজমেন্ট
আর এই অমোঘ ঘূর্ণি আমাদের টেনে যায়
তিক্ততার এক অচেনা স্রোতে

সেখানে
কথা আছে
আলাপ আছে
আপডেট আছে
আছে বাস্তবতার ঘন তুষার
যা ঢেকে দিয়েছে প্রেমের বৃক্ষ

আমি ক্লান্ত প্রাণ এক
জীবনের চারিদিকে সমুদ্র তুষার-সফেন
আমার নেই শান্তি স্বস্তি প্রশান্তি
যা কিছু মিষ্টি গোলাব জামেন
কেউ বলে না প্রেমহীন পথ চলা?
প্লীজ একটু...একটু থামেন
না পাওয়ার চোর কাঁটা না ছেনে
জোর কদমে কদমে একটু হাঁটেন...

রক্ত ঝরে যাক ছিলে যাক চামড়া

আপনি জীবন্ত প্রাণ এক....
এই যে মায়ার পিঁড়ি ওতে একটু বসেন ।

উম্মে সালমা, ২৪/০২/২০২৬, টুঅং

14/02/2026

অনু গল্প.

হাসির মাঝে লুকিয়ে থাকে
কান্না কান্না
আমি বলি, দয়াল প্রভু
আর না আর না!

উম্মে সালমা, ১৪/০২/২০২৬, টুঅং

Address

4/8 Augustus Street Toowong
Brisbane, QLD
4066

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Salma's Silent Sounds posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Establishment

Send a message to Salma's Silent Sounds:

Share

Category